কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস জারিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন
সংগ্রহীত
কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনকে নেত্রকোনার জারিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বক্তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় মানুষের মতামত ও যাত্রীদের বাস্তব প্রয়োজন উপেক্ষা করে একতরফাভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ‘আমরা কিশোরগঞ্জবাসী’ ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ রেলযাত্রী অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস শুধু একটি আন্তঃনগর ট্রেন নয়; এটি কিশোরগঞ্জবাসীর রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। প্রতিদিন চিকিৎসা, শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা প্রয়োজনে জেলার হাজারো মানুষ এই ট্রেনের ওপর নির্ভরশীল।
তাঁদের দাবি, ট্রেনটির গন্তব্য নেত্রকোনার জারিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হলে যাত্রাপথ দীর্ঘ হবে এবং সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন বা বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হবে। এতে কিশোরগঞ্জের নিয়মিত যাত্রীরা টিকিট সংকট ও যাতায়াতের দুর্ভোগের পাশাপাশি আরও ভোগান্তির মুখে পড়বেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ ইকরাম হোসেন বলেন, “কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস এই জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির ফসল। কিশোরগঞ্জবাসীর স্বার্থ উপেক্ষা করে ট্রেনটির গন্তব্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস নিয়ে যদি কোনো ষড়যন্ত্র করা হয়, তাহলে কিশোরগঞ্জের মানুষ বসে থাকবে না। প্রয়োজন হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের সংখ্যা এমনিতেই সীমিত। প্রতিদিন হাজারো মানুষ টিকিট সংকট ও যাতায়াতের দুর্ভোগে পড়ছেন। এ অবস্থায় কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস অন্য জেলায় সম্প্রসারণ করা হলে জেলার মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।”
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, কিশোরগঞ্জবাসীর মতামত বিবেচনা না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে ট্রেনটিকে আগের মতো কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটেই পরিচালনার দাবি জানান তাঁরা।
মানববন্ধন চলাকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছালে আন্দোলনকারীদের একাংশ ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে রেললাইনে অবস্থান নিয়ে প্রতীকী বিক্ষোভ করেন। তবে এতে ট্রেন চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
বক্তারা দাবি বাস্তবায়নে কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়জন সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর গণআন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ ইকরাম হোসেন, পৌর মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আলহাজ ফরিদ আহাম্মদ, সাবেক পৌর কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম, ব্যবসায়ী আবু সাঈদ, সমাজসেবক মুরাদ ভুঁইয়া ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান।
কর্মসূচির উদ্যোক্তা তোফায়েল তপু বলেন, “কিশোরগঞ্জবাসীর ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ে কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের চলাচল নেত্রকোনার জারিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকেই কিশোরগঞ্জে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।







