ভৈরবে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার-বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সরকারি কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় দুই হাজার কৃষক ও কৃষাণীর মাঝে বিনামূল্যে সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে. এম. মামুনুর রশীদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও হাসিবুল হাসান, উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোছা মিয়া, চন্দন কুমার সূত্রধর, মিজানুর রহমানসহ কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সরকারি কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার দুই হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক-কৃষাণীর মধ্যে বিভিন্ন ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে।
এর মধ্যে রোপা আমন চাষের জন্য জনপ্রতি ৫ কেজি উন্নতমানের ধানবীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্বাচিত কৃষকদের মধ্যে ১০ গ্রাম মরিচের বীজ, এক বোতল বালাইনাশক এবং গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষের জন্য সাত প্রজাতির সবজির বীজ বিতরণ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে. এম. মামুনুর রশীদ বলেন, “কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কৃষকরা যেন বিতরণকৃত বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ যথাসময়ে সঠিকভাবে ব্যবহার করেন, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের সহায়তা এবং কৃষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় কৃষি উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।”
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম বলেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের খরিফ মৌসুমে বিভিন্ন ফসলের জন্য পৃথক পৃথক প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ১২০ জন কৃষককে মরিচ চাষের জন্য ১০ গ্রাম বীজ, ৫ কেজি ডিএপি সার, ৫ কেজি এমওপি সার এবং এক বোতল বালাইনাশক দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৯০০ জন কৃষক রোপা আমনের প্রণোদনা পেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজি উৎপাদন কর্মসূচির আওতায় এক হাজার কৃষককে সাত ধরনের সবজির বীজের পাশাপাশি ১৫ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলার পৌরসভাসহ সাতটি ইউনিয়নের কৃষকেরা এ সুবিধা পাচ্ছেন। যারা এখনো উপকরণ সংগ্রহ করতে পারেননি, তারা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তা গ্রহণ করতে পারবেন।
আকলিমা বেগম বলেন, “সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আধুনিক ও লাভজনক কৃষিকাজে উৎসাহিত করবে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি কৃষকের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।”
উপকারভোগী কৃষকেরা জানান, সরকারি সহায়তায় বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ পাওয়ায় তাদের চাষাবাদের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতে তারা আরও বেশি জমিতে আবাদ করতে উৎসাহিত হবেন। কৃষি উৎপাদন বাড়লে কৃষকরাও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
উপস্থিত কৃষকেরা সরকারের কৃষিবান্ধব এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার দাবি জানান।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array