বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

হেফাজতের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা, আগের মতো পাশে থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হেফাজতের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা, আগের মতো পাশে থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় নির্বাচনে পাশে থাকা এবং দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ‘একটি বড় বিপদ’ থেকে দেশকে রক্ষায় ভূমিকা রাখায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগের মতো হেফাজতে ইসলামকে বিএনপির সঙ্গে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং দেশের শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় নির্বাচনের সময় সহযোগিতার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনের সময় আমরা সবাই একসঙ্গে থেকে যে কাজ করেছি, যেভাবে দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে একটি বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেছি, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।”

তিনি বলেন, ওই সময়ে যারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন, মাঠে কাজ করেছেন, মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাঁদের জন্য দোয়া করেছেন, তাঁদের সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা যে কাজটি একসঙ্গে করেছি, সেটি আল্লাহর রহমত ও আপনাদের সহযোগিতার কারণেই সম্ভব হয়েছে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, সমস্যা এখনো শেষ হয়ে যায়নি।”

দেশের মানুষের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জনগণকে দেওয়া কথা বাস্তবায়ন করতে হবে। একজন মুসলমান হিসেবে কোনো অঙ্গীকার করলে তা রক্ষা করা দায়িত্ব। কথা রাখতে না পারলে কাজের কোনো মূল্য থাকে না।

সরকারপ্রধান বলেন, “আমরা দেশের মানুষকে বলেছি, আমরা আপনাদের জন্য ভালো কিছু করতে চাই এবং ভালো কিছু করার চেষ্টা করব। আল্লাহ যেন আমাদের সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার তৌফিক দেন।”

দেশের মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনের পর বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছে। এরপরই রমজান শুরু হয়। একই সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সংকটের প্রভাবও দেশের অর্থনীতিতে পড়েছে।

নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দেশের সবাই যেন শান্তি ও নিরাপদে বসবাস করতে পারে—এমন একটি দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সন্তানদের জন্য স্কুল-কলেজে নিরাপদ ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এর আগে বেলা ৩টার দিকে বাঁশখালীর জনসভা শেষে ফটিকছড়ির পাইন্দং সিঅ্যান্ডবি মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী হেলিকপ্টার অবতরণ করে। স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। হেলিকপ্টার অবতরণের পর মাঠে অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

পরে প্রধানমন্ত্রী বুলেটপ্রুফ বাসে করে সড়কপথে ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনা হন। তাঁকে একনজর দেখতে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাঁদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

মতবিনিময় সভায় সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মুহাম্মদ হেলালউদ্দিন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী, ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, মীরসরাইয়ের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান এবং বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়েজী উপস্থিত ছিলেন।

হেফাজতে ইসলামের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও হেফাজত আমিরের ছেলে মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী, মাওলানা মহিউদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা আজিজুল হক ইসলামীবাদী।

মতবিনিময়ের সময় হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান সরকারপ্রধানের কাছে কয়েকটি লিখিত দাবি পেশ করেন।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

১. মহান আল্লাহ, রাসুলুল্লাহ (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা।

২. কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করা।

৩. ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় জড়িত, হুকুমের আসামি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিতের মাধ্যমে বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

৪. দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত করা। বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি মাদ্রাসার ডিগ্রির পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্সের সমমান) ডিগ্রির উল্লেখ করা।

৫. প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।

৬. কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহীদকে নিষিদ্ধ করা।

৭. পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের কথিত ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বন্ধ করা।

৮. আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আলেমদের বিরুদ্ধে করা কথিত মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করে দেশের আলেম-ওলামাকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে অংশীদার করা।

৯. বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করা, ভারতের মাওলানা সাদ সাহেবের বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি না দেওয়া।

মতবিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম (হাটহাজারী বড় মাদ্রাসা)-এর উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করেন।

৫ বছরে ১.৩০ কোটি টাকার গ্যাস চুরি, শিবপুরে দুই শতাধিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
৫ বছরে ১.৩০ কোটি টাকার গ্যাস চুরি, শিবপুরে দুই শতাধিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন

নরসিংদীর শিবপুরে মোবাইল কোর্টের বিশেষ অভিযানে দুই শতাধিক আবাসিক বাড়ির অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এসব অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে গত প্রায় পাঁচ বছরে গ্যাস ব্যবহারে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিবপুর উপজেলার কারারচর মদিনা জুটমিল এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এফএম নাঈম হাসান শুভ। এ সময় তিতাস গ্যাসের নরসিংদী কার্যালয়ের কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগে চার বাড়ির মালিককে মোট ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাদের মধ্যে আওয়াল ভূঁইয়াকে ২ লাখ টাকা, রৌশন আক্তারকে ৪০ হাজার টাকা, মো. মুসলেম মিয়াকে ১ লাখ টাকা এবং মুক্ত বেগমকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তিতাস গ্যাসের নরসিংদী কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (ইমার্জেন্সি) আহম্মদ উল্লাহ জানান, কারারচর মদিনা জুটমিল এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে বিপুলসংখ্যক অবৈধ গ্যাস সংযোগ থাকার বিষয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি বলেন, বিকেল থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দুই শতাধিক অবৈধ গ্যাস সংযোগ শনাক্ত করা হয়। পরে এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি অবৈধ গ্যাসলাইনগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তিতাস গ্যাসের এই কর্মকর্তা আরও জানান, বাড়ির মালিকরা কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই গোপনে এসব গ্যাস সংযোগ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই সংযোগের মাধ্যমে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করে আসছিলেন।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, গত প্রায় পাঁচ বছরে এসব অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে গ্যাস ব্যবহারের কারণে সরকারের প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানান, অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারণে একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে অবৈধভাবে স্থাপিত ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাসলাইন থেকে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। এ ধরনের অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তারুণ্যের যুক্তিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই, কুলিয়ারচরে বিতর্ক প্রতিযোগিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ
তারুণ্যের যুক্তিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই, কুলিয়ারচরে বিতর্ক প্রতিযোগিতা

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা, গড়বে আগামীর শুদ্ধতা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতায় লক্ষীপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ১১টায় কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে এ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা করে কিশোরগঞ্জ জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও উপজেলা প্রশাসন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক ইশতেহাদ আহমেদ। উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. ইদ্রিছ মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. নূরুল আলম রাশিদ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এসআরএমজি কিবরিয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তমাল কান্তি মল্লিক, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. বৃষ্টি পণ্ডিত, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য লীলা রাণী সাহা, মো. নাঈমুজ্জামান নাঈম ও আলী হায়দার শাহিনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষার্থীরা।

প্রতিযোগিতায় কুলিয়ারচর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মুছা মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং লক্ষীপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় অংশ নেয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় লক্ষীপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় বিজয়ী হয়।

কুলিয়ারচর সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক রফিকুল বাহার প্রতিযোগিতায় মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন। বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমান, কুলিয়ারচর সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক মো. মাসুদ রানা এবং উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান।

আয়োজকেরা বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী চেতনা, নৈতিক মূল্যবোধ ও সততার চর্চা গড়ে তোলার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে উদ্বুদ্ধ করাই এ ধরনের বিতর্ক প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য। বিতর্কের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা, নৈতিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বাড়ানোরও সুযোগ তৈরি হয়।

পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

জমি বিক্রির পাওনা টাকা নিয়ে হত্যা: র‌্যাবের হাতে দুই পলাতক আসামি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২৭ পূর্বাহ্ণ
জমি বিক্রির পাওনা টাকা নিয়ে হত্যা: র‌্যাবের হাতে দুই পলাতক আসামি

জমি বিক্রির পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে কিশোরগঞ্জে মাহতাব (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। কিশোরগঞ্জ সদর থানার ওই হত্যা মামলায় পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন—কিশোরগঞ্জ জেলার শামীম (৩২) এবং মামলার দ্বিতীয় আসামি মো. মমিন মিয়া (২১)।

র‌্যাব-১৪ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১০ ও ১১ আগস্ট পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে ১০ আগস্ট রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে র‌্যাব-১৪-এর সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জের একটি দল র‌্যাব-৪-এর সিপিসি-৪, মিরপুর, ঢাকা ক্যাম্পের সহযোগিতায় ঢাকার মিরপুর থানার পশ্চিম শেওড়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে শামীমকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ১১ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানার মির্জাপুর বাজার এলাকা থেকে মমিন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জমি বিক্রির পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মাহতাবকে হত্যা করা হয়। প্রায় তিন বছর আগে প্রতিবেশী ও মামলার এক নম্বর আসামি মো. বাদল মিয়ার কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ২ শতাংশ জমি বিক্রি করেন মাহতাব। জমি রেজিস্ট্রির সময় বাদল মিয়া ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও বাকি ৮০ হাজার টাকা দীর্ঘদিন ধরে পরিশোধ করছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ২৬ জুলাই বাদল মিয়ার স্ত্রী মাহতাবকে ৩ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা পরে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এর কয়েক দিন পর ৩ আগস্ট রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে বাদল মিয়া ফোন করে মাহতাবকে পাওনা টাকা নেওয়ার জন্য যেতে বলেন।

এজাহারে বলা হয়, ফোন পেয়ে সরল বিশ্বাসে রাত সাড়ে ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার কড়িয়াইল এলাকার মতি মিয়ার ধানখেতের কাছে যান মাহতাব। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আসামিরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় মাহতাব গুরুতর আহত হন।

পরে তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর আসামিরা মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো. সুমন (২৭) বাদী হয়ে ৪ আগস্ট কিশোরগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৫ এবং এতে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলা দায়েরের পর আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান বলে র‌্যাব জানিয়েছে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৪-এর সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জের পৃথক অভিযান পরিচালনা করে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41