শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

ইতালিসহ ইউরোপে যেতে ৩ হাজার বাংলাদেশিকে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ইতালিসহ ইউরোপে যেতে ৩ হাজার বাংলাদেশিকে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ

ইতালিসহ ইউরোপের শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠাতে তিন হাজার বাংলাদেশিকে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বাস্তবায়নাধীন ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ পাইলট প্রকল্প। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পে কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি ইতালীয় ভাষা, যোগাযোগ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও শ্রমিকের অধিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

প্রশিক্ষণ শেষে যোগ্য কর্মীদের ইউরোপে চাকরির জন্য নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে শুধু প্রশিক্ষণ নিলেই চাকরি বা ভিসা নিশ্চিত হবে না।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিটিই) সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে আইএলও। প্রাথমিকভাবে তিন হাজার কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে এক হাজার কর্মীর প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে।

আইএলওর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার সোহানা সামরিন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে দক্ষ কর্মী পাঠানোর টেকসই ও নিয়মিত অভিবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য। প্রাথমিক পর্যায়ে তিন হাজার কর্মী নিয়ে এ মডেল পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সরকার যাতে নিজস্ব অর্থায়নে কার্যক্রমটি চালিয়ে নিতে পারে, সে সক্ষমতাও তৈরি করা হচ্ছে।আইএলওর তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারী-পুরুষ এ প্রকল্পে প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর অন্তত এসএসসি বা এইচএসসি, সমমানের কারিগরি শিক্ষা, চার বছর মেয়াদি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমা অথবা স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পেশায় প্রাথমিক কারিগরি দক্ষতা প্রয়োজন। পেশাভেদে জাতীয় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক যোগ্যতা কাঠামোর প্রথম বা দ্বিতীয় স্তরের সনদও লাগতে পারে।

আগ্রহীদের সরকারি ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের (ওইপি) মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

প্রকল্পের আওতায় ১০টি সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম চলছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাংলাদেশ-কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, খুলনা ও সিলেটের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, ইউসেপ-বাংলাদেশ এবং কয়েকটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচর্যা, পর্যটন ও আতিথেয়তা, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা, তৈরি পোশাক, জাহাজ নির্মাণ এবং হালকা প্রকৌশল খাতের বিভিন্ন পেশায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি ইতালীয় ভাষা, যোগাযোগ দক্ষতা, যন্ত্রপাতির নিরাপদ ব্যবহার, শ্রমিকের অধিকার এবং ইউরোপের কর্মপরিবেশ সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের মেয়াদ চার মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করা হচ্ছে।

আইএলওর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, আগে থেকেই দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে—এমন কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোই প্রকল্পের উদ্দেশ্য। আনুষ্ঠানিক সনদ না থাকলেও অভিজ্ঞ কর্মীদের দক্ষতা যাচাই করে সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

কারিগরি প্রশিক্ষণ, ইতালীয় ভাষা শিক্ষা ও প্রাক্‌-বহির্গমন প্রস্তুতির জন্য কোনো ফি দিতে হয় না। প্রশিক্ষণ চলাকালে দুপুরের খাবার অথবা এর পরিবর্তে মাসে তিন হাজার টাকা দেওয়া হয়। তবে যাতায়াত ও ব্যক্তিগত খরচ প্রশিক্ষণার্থীদের বহন করতে হয়।

বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে ভিসা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিমানের টিকিট, বীমা ও অন্যান্য খরচ কে বহন করবে, তা নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী আগে নিশ্চিত হতে হবে।

প্রশিক্ষণ শেষে যোগ্য প্রার্থীদের তথ্য ওইপি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হতে পারে। অনুমোদিত বিদেশি নিয়োগকর্তারা সেখান থেকে প্রার্থী বাছাই করে সাক্ষাৎকার ও দক্ষতা যাচাইয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দিতে পারবেন। এরপর কাজের অনুমতি ও ভিসার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

ঢাকায় ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্টোনিও আলেসান্দ্রো কালের কণ্ঠকে বলেন, ইতালির নতুন অভিবাসন আইনের ২৩ নম্বর ধারার আওতায় বাংলাদেশে কর্মীদের প্রাক্‌-যাত্রা প্রশিক্ষণ প্রকল্প চালু হয়েছে। এসব প্রকল্পের ব্যয় ইতালির নিয়োগকর্তারা বহন করছেন। তাঁর ভাষ্য, রেস্তোরাঁ ও আতিথেয়তা, নির্মাণ, বস্ত্র, যন্ত্রকৌশল, বিদ্যুৎ ও ওয়েল্ডিং খাতে ইতালিতে কর্মীর চাহিদা রয়েছে।

ভানুয়াতুর কাছে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২২ অপরাহ্ণ
ভানুয়াতুর কাছে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) এ ভূমিকম্পের পর সুনামির সতর্কতা জারি করেছে হাওয়াইভিত্তিক প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র।

কেন্দ্রটি সতর্ক করে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে উপকূলীয় এলাকায় বিপজ্জনক সুনামির ঢেউ আঘাত হানতে পারে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, সমন্বিত বিশ্ব সময় (ইউটিসি) অনুযায়ী শনিবার রাত ২টা ৩১ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভানুয়াতুর সোলা শহর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, ইউটিসি অনুযায়ী রাত ৩টা ১ মিনিটে ভানুয়াতুর এসপিরিতু সান্তো দ্বীপে সুনামির প্রথম ঢেউ পৌঁছাতে পারে। তবে ঢেউ পৌঁছানোর প্রকৃত সময় ভিন্ন হতে পারে। এ ছাড়া প্রথম ঢেউটিই সবচেয়ে বড় হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

কেন্দ্রটি আরও জানিয়েছে, সুনামির প্রভাব উপকূলের গঠন, পানির গভীরতা এবং জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করবে।

এদিকে, ইউএসজিএস প্রাথমিকভাবে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ভূমিকম্পটির মাত্রা নির্ধারণ করেছে। পরবর্তী বিশ্লেষণে ভূমিকম্পের মাত্রা ও অন্যান্য পরিমাপসংক্রান্ত তথ্যে পরিবর্তন আসতে পারে।

স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ ক্রীড়া পুরস্কার পেলেন লিওনেল মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৭ অপরাহ্ণ
স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ ক্রীড়া পুরস্কার পেলেন লিওনেল মেসি

বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ার এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্পেনের সম্মানজনক ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্টস’ পেয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা লিওনেল মেসি। অনেকের কাছে ‘স্প্যানিশ নোবেল পুরস্কার’ হিসেবে পরিচিত এই সম্মাননা শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) গ্রহণ করেন তিনি।

স্পেনের উত্তরাঞ্চলীয় আস্তুরিয়াস অঞ্চলের রাজধানী ওভিয়েদোতে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মেসি পৌঁছালে ব্যাগপাইপ ও ঢোলের বাদ্য বাজিয়ে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। আর্জেন্টিনার জার্সি পরা কয়েক ডজন সমর্থক এ সময় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং স্লোগানে স্লোগানে প্রিয় তারকার নাম উচ্চারণ করেন।

স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী রাজকন্যা লিওনর মেসির হাতে পুরস্কার তুলে দেন। রাজকন্যার নাম অনুসারেই এ পুরস্কারের নামকরণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মেসিকে একটি পার্চমেন্ট স্ক্রলও দেওয়া হয়।

মেসির ফুটবলশৈলী ও দলীয় মানসিকতার প্রশংসা করে রাজকন্যা লিওনর বলেন, অসাধারণ কৃতিত্বকে প্রতিদিনের ঘটনায় পরিণত করেছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। খেলার পরিস্থিতি দ্রুত বুঝে নিয়ে সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত অহংকারের চেয়ে দলীয় চেতনাকে সব সময় প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি।

গত জুনে মেসিকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়। সে সময় বিচারকমণ্ডলী তাঁকে সর্বকালের অন্যতম সফল ফুটবলার হিসেবে উল্লেখ করেন। মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে তাঁর সামাজিক উদ্যোগগুলোরও প্রশংসা করা হয়।

১৯৮১ সালে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার চালু হয়। শিল্প, বিজ্ঞান ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর এ সম্মাননা দেওয়া হয়। পুরস্কারের সঙ্গে রয়েছে ৫০ হাজার ইউরো অর্থমূল্য, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭০ লাখ টাকা। মানবিক সহাবস্থান, সংহতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের সম্মানিত করাও এ পুরস্কারের অন্যতম লক্ষ্য।

এবারের অনুষ্ঠানে মেসির পাশাপাশি আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি পুরস্কার গ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিটিশ লেখক জুলিয়ান বার্নস, যুক্তরাষ্ট্রের নভোচারী ক্রিস্টিনা কোচ এবং পাঙ্ক সংগীতশিল্পী প্যাটি স্মিথ।

এর আগে ক্রীড়া বিভাগে এ পুরস্কার পেয়েছেন টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস ও রাফায়েল নাদাল। এ তালিকায় রয়েছেন ম্যারাথনে রেকর্ডধারী এলিউদ কিপচোগে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্কিয়ার লিন্ডসে ভন।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযান, উচ্ছেদ আতঙ্কে ফিলিস্তিনিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১১ অপরাহ্ণ
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযান, উচ্ছেদ আতঙ্কে ফিলিস্তিনিরা

দখলকৃত পশ্চিম তীরের একটি চেকপয়েন্টে দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর হেবরন এলাকার একটি আবাসিক এলাকায় অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানে ভবন ধ্বংসের পাশাপাশি বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ অভিযান শুরু হয়।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২৭ অক্টোবরের ভোটের আগে এ হামলার ঘটনা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা বলে আসছেন তিনি।

হামলার পর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, তারা হেবরন শহরকে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করছে। নেতানিয়াহু শুক্রবার থেকে পুরো পশ্চিম তীর বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর তিনি অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করে হেবরন ও হালহুল শহরের চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরির কথা জানান, যা প্রয়োজনে অন্য এলাকাতেও সম্প্রসারণ করা হতে পারে।

নেতানিয়াহু আরও বলেন, হামলার এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হবে এবং এলাকাটির চেহারা পুরোপুরি বদলে দেওয়া হবে। ২০২৫ সালের শুরুতে জেনিন, তুলকারেম, নুর শামস ও আল-ফারআ শরণার্থীশিবিরে একই ধরনের অভিযান চালানো হয়েছিল। এতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হন এবং বিস্তীর্ণ এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়ে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থা (আইএসএ) এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, হেবরন এলাকায় কয়েক দিনব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ, অস্ত্র ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো শনাক্ত এবং সেগুলো ধ্বংস করতে পুরো এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অভিযানটি মূলত হামলাকারীদের কার্যক্রম পরিচালনার এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

আইডিএফ ও আইএসএ জানিয়েছে, এলাকার বাসিন্দারা তিনটি নির্ধারিত পথ দিয়ে বের হতে পারবেন। এ সময় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ ও নিরাপত্তা তল্লাশির মুখোমুখি হতে হবে। সন্দেহজনক আচরণ বা পরিচয় পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।

যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিযানের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজনদের বাড়ির মানচিত্র তৈরি, হেবরন ও হালহুলে নিরাপত্তাবেষ্টনী আরোপ, সড়কে প্রতিবন্ধক স্থাপন এবং বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত স্থাপনাগুলোও ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ‘বিতসেলেম’। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইউলি নোভাক বলেন, হেবরনের একটি ফিলিস্তিনি আবাসিক এলাকা খালি করা এবং পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের শরণার্থীশিবিরগুলোতে চালানো গণ-বাস্তুচ্যুতি ও ধ্বংসযজ্ঞের পুনরাবৃত্তির ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ।

শুক্রবার বিকেলেই হেবরনের ফারশ আল-হাওয়া এলাকায় ভবন ধ্বংসের কাজ শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। সিএনএনের পাওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ইসরায়েলি সেনা আবাসন কমপ্লেক্সের বাসিন্দাদের বলছেন, তাঁদের সরে যাওয়ার জন্য পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে।

নেতানিয়াহু বলেন, হেবরনের যে এলাকা থেকে হামলাকারীরা এসেছিল, সেখানে বাসিন্দাদের সরিয়ে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হবে। সেখানে পাওয়া অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া এবং সন্ত্রাসী অবকাঠামো শনাক্ত করে ধ্বংস করা হবে।

এদিকে, হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের খুঁজতে এলাকায় তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। আইডিএফ জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে দুই বন্দুকধারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে কয়েক মিনিট ধরে তীব্র গোলাগুলির দৃশ্য দেখা গেছে। রয়টার্সের একটি ভিডিওতে এক ইসরায়েলি উদ্ধারকর্মীকে বলতে শোনা যায়, গোলাগুলি অন্তত ২০ মিনিট ধরে চলেছিল এবং আহতদের সরিয়ে নিতে উদ্ধারকারীদের বেগ পেতে হচ্ছিল।

আইডিএফ আরও জানায়, হামলাকারীদের ব্যবহৃত একটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে, যাতে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ছিল। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর আইডিএফ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির ঘটনাটিকে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর দাবি, সেনাদের দ্রুত পদক্ষেপে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। গাড়িতে থাকা গোলাবারুদ আরও বড় পরিসরে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল বলেও তিনি জানান।

জামির বলেন, সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে অভিযান বাড়ানো এবং এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হবে। নেতানিয়াহুও এক বিবৃতিতে হামলার জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করার অঙ্গীকার করেন। তবে হামাস হামলার প্রশংসা করে বিবৃতি দিলেও এর দায় স্বীকার করেনি।