রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

গাজা যুদ্ধবিরতি ও বন্দি মুক্তি নিয়ে মিসরে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় হামাস ও ইসরায়েলের প্রতিনিধি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:১৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গাজা যুদ্ধবিরতি ও বন্দি মুক্তি নিয়ে মিসরে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় হামাস ও ইসরায়েলের প্রতিনিধি

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি ও বন্দি মুক্তি বিষয়ক আলোচনার জন্য মিসরে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের প্রতিনিধিদল। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) হামাসের মুখপাত্র ফাওজি বারহোম জানিয়েছেন, তাদের প্রতিনিধিরা সেখানে ‘সব বাধা অতিক্রম’ করার চেষ্টা করছেন এবং যুদ্ধবিরতির জন্য নিজেদের প্রধান শর্তগুলো তুলে দিয়েছে।

বারহোম বলেন, হামাস পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারা গাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য যে মূল দাবিসমূহ জমা দিয়েছে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন চায়। হামাসের দাবি প্রধানত গুলোকে তিনি এভাবে উপস্থাপন করেছেন—

একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে।

ইসরায়েলি সেনাকে গাজার সব অঞ্চল থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।

কোনো বাধা ছাড়াই গাজায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।

বাস্তুচ্যুত সাধারণ গাজাবাসীকে তাদের নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে দিতে হবে।

গাজা পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের কাজ শুরু করতে হবে এবং তা পরিচালনা করবে একটি ফিলিস্তিনি জাতীয় প্রশাসন।

বন্দি বিনিময় সংক্রান্ত একটি ন্যায্য ও সমান্তরাল চুক্তি করতে হবে।

বারহোম আরও অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু পূর্বে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা ‘আটকানো ও ব্যর্থ’ করার চেষ্টা করেছেন এবং এ রকমই আচরণ এখনো দেখা যাচ্ছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বিভীষিকামোদী সামরিক হামলা ও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার পরও ইসরায়েল গাজায় জয় দাবি করতে পারেনি।

একই সঙ্গে হামাস একটি বিশেষ দাবি তুলে করেছে—দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা তাদের কয়েকশীর্ষ নেতার মুক্তি। প্রস্তাবিত তালিকায় আছেন মারওয়ান বারঘোতি, আহমেদ সাদাত, ইব্রাহিম হামেদ, হাসান সালেমেহ ও আব্বাস সায়েদ। বারহোম জানান, পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতিকে কাজে লাগিয়ে এসব নেতাকে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব ইসরায়েল মেনে নেনি; এবার হামাস তা শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছে।

মিসরে অনানুষ্ঠানিক আলোচনার পরও পরিস্থিতি চূড়ান্ত হয়নি; দুই পক্ষের প্রতিফলন ও বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগ, যেহেতু পূর্বের বহুল প্রচারিত যুদ্ধবিরতি আলোচনা বাস্তবায়নের পরও পুনরায় সহিংসতা ফিরে এসেছে, ফলে এই দফায়ও স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করা হচ্ছে।

প্লাস্টিকের দাপটে পেশা বদলাচ্ছেন তাড়াইলের বাঁশ-বেত কারিগররা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ২:২০ অপরাহ্ণ
প্লাস্টিকের দাপটে পেশা বদলাচ্ছেন তাড়াইলের বাঁশ-বেত কারিগররা

একসময় কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার গ্রামীণ জনপদে বাঁশ-বেতের তৈরি পণ্য ছিল মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর অন্যতম। গৃহস্থালি থেকে কৃষিকাজ, এমনকি বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও বাঁশ-বেতের তৈরি সামগ্রীর ব্যাপক ব্যবহার ছিল। সময়ের সঙ্গে আধুনিকতার ছোঁয়া এবং প্লাস্টিকজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প। চাহিদা কমে যাওয়ায় পেশা বদল করছেন অনেক কারিগর। ফলে অস্তিত্বসংকটে পড়েছে তাড়াইলের বাঁশ-বেতশিল্প।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, একসময় যে পেশায় অসংখ্য পরিবার যুক্ত ছিল, বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার সেই কাজ ধরে রেখেছে। ঝুড়ি, চালুনি, ডালা, কুলা, বেতের চেয়ারসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন যেসব কারিগর, তাঁদের অনেকেই এখন দিনমজুরি কিংবা ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাঁশ-বেতের পণ্য তৈরিতে সময় ও শ্রম বেশি লাগে। অন্যদিকে বাজারে প্লাস্টিক ও বিভিন্ন শিল্পজাত পণ্যের সহজলভ্যতার কারণে ঐতিহ্যবাহী এসব পণ্যের চাহিদা কমেছে। পাশাপাশি কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। ফলে পণ্য বিক্রি করে আগের মতো লাভ থাকছে না।

চরতালজাঙ্গা গ্রামের প্রবীণ কারিগর আব্দুল গফুর (৬০) বলেন, ‘আগে সপ্তাহে কয়েকটি বাঁশ কেটে নানা ধরনের জিনিস তৈরি করে বাজারে বিক্রি করতাম। এখন মানুষ প্লাস্টিকের জিনিস বেশি ব্যবহার করে। তার ওপর বাঁশের দামও বেড়েছে। সব খরচ মিটিয়ে হাতে তেমন লাভ থাকে না।’

আরেক কারিগর মজনু মিয়া বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা এখন এই পেশায় আসতে চায় না। তারা মনে করে, এই কাজে ভবিষ্যৎ নেই। অথচ আমরা এই কাজ করেই সারা জীবন কাটিয়েছি।’

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা কঠিন। কারিগরদের স্বল্প সুদে ক্ষুদ্রঋণ, আধুনিক নকশা ও পণ্য তৈরির প্রশিক্ষণ এবং উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণে সহায়তা দেওয়া গেলে এই শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

তাঁদের মতে, স্থানীয় কারিগরদের তৈরি পণ্য স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি অনলাইন ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাঁশ-বেতের পণ্যের আধুনিক ডিজাইন, মানোন্নয়ন ও প্যাকেজিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে তরুণ প্রজন্মকেও এই পেশায় আগ্রহী করা সম্ভব।

তাড়াইল উপজেলা শিল্পকলা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা আখতার বলেন, ‘আমরা স্থানীয় হস্তশিল্পের তালিকা তৈরির কাজ করছি। ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা রয়েছে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাঁশ-বেতের শিল্প শুধু একটি জীবিকার মাধ্যম নয়; এটি গ্রামীণ জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও অংশ। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা, প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ এবং বাজারজাতকরণের সুযোগ তৈরি করা গেলে তাড়াইলের হারিয়ে যেতে বসা বাঁশ-বেতশিল্প নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে পারে। পাশাপাশি এই শিল্পের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করা গেলে একদিকে যেমন স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ হবে, অন্যদিকে তৈরি হতে পারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।

সরকারি গাছ কাটার হিড়িক কুলিয়ারচরে, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১:১৩ অপরাহ্ণ
সরকারি গাছ কাটার হিড়িক কুলিয়ারচরে, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে সরকারি রাস্তা ও জায়গা থেকে অবাধে মূল্যবান গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েক মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক সরকারি গাছ কাটার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। নামমাত্র অভিযোগ দায়ের করে প্রকৃত জড়িতদের আড়াল করার অভিযোগেও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার আগরপুর-ভাগলপুর সড়কের রামদী বড়চর ফিডমিলসংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় হেলাল মুন্সির জমির সীমানাঘেঁষা সরকারি রাস্তার পাশ থেকে বিভিন্ন প্রজাতির কয়েকটি গাছ কেটে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, কাটা গাছগুলোর মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা।

এ সময় গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, পার্শ্ববর্তী মনোহরপুর গ্রামের শহিদুল তাদের গাছগুলো কাটতে পাঠিয়েছেন। তবে গাছগুলো বিক্রির সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তারা কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার ও কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীনকে জানানো হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাছ কাটা ও নিয়ে যাওয়ার কাজে বাধা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে ইউএনও মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, ‘তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে উপজেলার গোবরিয়া আবদুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাত্র ১০০ গজ দূরে সরকারি খাল ও রাস্তার পাশ থেকে ২০ থেকে ২৫টি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় সদ্য বদলি হওয়া গোবরিয়া আবদুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার ও অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ওই গাছগুলো বিক্রি করে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে গত ১৫ জানুয়ারি কুলিয়ারচর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৮টি গাছ চুরির অভিযোগ দেন নাছিমা আক্তার। তবে স্থানীয়দের দাবি, ওই অভিযোগ থানায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি এবং দৃশ্যমান কোনো তদন্তও হয়নি।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ওই লিখিত অভিযোগ দেখিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর কিছুদিন পর একইভাবে আরও তিনটি গাছ বিক্রি করে প্রায় ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাতেও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ থেকে ২৬ জুলাই একই স্থান থেকে আরও তিনটি মূল্যবান গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা গাছ কাটার ভিডিও উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি কর্মকর্তাদের কাছে পাঠান।

স্থানীয়দের দাবি, ভিডিওতে গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের একজনকে ‘মাসুদ’ নামে এক ব্যক্তির নির্দেশে গাছ কাটার কথা বলতে শোনা যায়। এরপরও গত ২৬ জুলাই থানায় দেওয়া অভিযোগে নির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনকে অবহিত করার পর প্রথমে গাছ কাটা বন্ধ করা হলেও কয়েক দিন পর গাছগুলো নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, ‘সম্প্রতি বদলি হওয়া গোবরিয়া আবদুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার লিখিত অভিযোগে কোনো আসামির নাম উল্লেখ করেননি। পুলিশ আসামিদের নাম দিতে বললেও বাদী তা দেননি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে গত বছরের ১৬ ও ১৭ নভেম্বর উপজেলার বাজরা মাছিমপুর এলাকায় সরকারি রাস্তা ও ঈদগাহ মাঠ থেকে শতবর্ষী জাম, আম ও রেন্ট্রি গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ১৭ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ পাওয়ার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসান পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে কাটা গাছ জব্দ করে স্থানীয় সালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কাইয়ুমের জিম্মায় রাখা হয়।

অভিযোগকারীরা জানান, বাজরা মাছিমপুর খেলার মাঠের পাশ দিয়ে যাওয়া পুরোনো সরকারি রেকর্ডভুক্ত রাস্তা ও ঈদগাহ মাঠে থাকা শতবর্ষী একটি রেন্ট্রি, একটি আম ও একটি জামগাছ প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই কেটে বিক্রি করা হয়। তাঁদের দাবি, তিনটি গাছের আনুমানিক মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা।

অভিযোগে মাছিমপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম লিটন, নুরুল মনছুর টেনাম ও তানভীর আহমেদসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গাছগুলো বিক্রির পর মনোহরপুর গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে ও গাছ ব্যবসায়ী মো. ফুল মিয়া (৪৫) গাছ কাটতে শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা ও নিয়ে যেতে বাধা দেয়।

এ বিষয়ে মাছিমপুর গ্রামের মো. সাইফুল ইসলাম লিটনসহ গাছ বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা গাছ বিক্রির কথা স্বীকার করেন। তাঁদের দাবি, গ্রামের পুরোনো চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন রাস্তা ব্যবহারের উপযোগী করতে এবং সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তা সংস্কারের জন্য সেটি দৃশ্যমান করার প্রয়োজন ছিল।

তাঁদের ভাষ্য, স্থানীয় মুরব্বিদের সঙ্গে পরামর্শ করে এবং ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যকে অবহিত করে রাস্তার ওপর থাকা একটি জামগাছ এবং ঈদগাহের সীমানায় থাকা একটি রেন্ট্রি ও একটি আমগাছ ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করে বিক্রি করা হয়। পরে প্রশাসনের নির্দেশে গাছ কাটা ও নিয়ে যাওয়া বন্ধ রাখা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টরা নিজেদের ভুল স্বীকার করেন।

এ ছাড়া গত ৭ ও ৮ মে বাজরা বাসস্ট্যান্ড থেকে কামালপুর যাওয়ার সড়কের মোড় থেকে একটি মূল্যবান রেন্ট্রি গাছ প্রায় ৮০ শতাংশ কেটে ফেলার পর স্থানীয়দের বাধায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কুলিয়ারচর পৌরসভার সাবেক পৌর কমিশনার শহিদ মিয়া গাছটি কাটাচ্ছিলেন। তবে শহিদ মিয়া গাছটি কাটার কথা স্বীকার করে বলেন, গাছটি তাঁদের সীমানায় তাঁরাই রোপণ করেছিলেন। গাছটির কারণে যানবাহন চলাচল ও দোকানদারদের সমস্যা হওয়ায় তিনি সেটি কাটছিলেন।

সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের এমন ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা। তাঁদের দাবি, কোনো কর্মকর্তা বদলি হলেই সমস্যার সমাধান হয় না। ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

একই সঙ্গে সরকারি রাস্তা, খাল, ঈদগাহ মাঠসহ অন্যান্য সরকারি জায়গা থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে গাছ কেটে সরকারি সম্পদের ক্ষতি করেছেন- এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, ‘নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি সম্পত্তি থেকে গাছ কাটার সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে।’

বড়খারচরে রেললাইনে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ, পোশাকহীন অবস্থায় উদ্ধার

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
বড়খারচরে রেললাইনে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ, পোশাকহীন অবস্থায় উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বড়খারচর রেলক্রসিংয়ের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। তাঁর শরীরে কোনো পোশাক না থাকায় কীভাবে তিনি রেললাইনে এলেন, তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। তবে তিনি ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন—স্থানীয়দের এমন ধারণারও কোনো আনুষ্ঠানিক সত্যতা পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল এগারসিন্দুর প্রভাতী ট্রেন। ট্রেনটি বড়খারচর এলাকা অতিক্রম করার সময় রেললাইনের ওপর থাকা ওই ব্যক্তি ট্রেনের নিচে পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয়, বয়স বা ঠিকানা সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয়রা জানান, নিহত ব্যক্তির শরীরে কোনো পোশাক ছিল না। এ কারণে তিনি কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে রেললাইনে এসে পড়লেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারণা করছেন, চলন্ত ট্রেনের ছাদে থাকা অবস্থায় কোনো কারণে তিনি নিচে পড়ে গিয়ে ট্রেনের চাকায় কাটা পড়তে পারেন। আবার কেউ কেউ ধারণা করছেন, ট্রেনের ছাদে ওঠার পর তিনি ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হয়ে নিচে পড়ে থাকতে পারেন।

তবে স্থানীয়দের এসব ধারণার কোনোটিই এখন পর্যন্ত তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে বড়খারচর রেলক্রসিং। সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন গেটম্যান প্রকাশ কুমার দাশ।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সময় এলাকায় হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। ট্রেন আসার আগে নিয়ম অনুযায়ী তিনি রেলক্রসিংয়ের দুই পাশের ব্যারিকেড নামিয়ে দেন। তখন রেললাইনের আশপাশে কাউকে দেখতে পাননি।

প্রকাশ কুমার দাশের ভাষ্য, রেললাইনের ওপর কোনো ব্যক্তি থাকলে ট্রেনের চালক সাধারণত হর্ন দিয়ে সতর্ক করেন। কিন্তু ওই ট্রেনটি যাওয়ার সময় তিনি কোনো হর্ন শুনতে পাননি।

তিনি বলেন, সবকিছু মিলিয়ে তাঁর ধারণা, লোকটি ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে থাকতে পারেন। তবে বিষয়টি নিশ্চিত নয় বলেও তিনি জানান।

এদিকে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। তাঁর পরিচয় জানা গেলে দুর্ঘটনার আগে তিনি কোথায় ছিলেন এবং কীভাবে বড়খারচর এলাকায় এসেছিলেন, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল হাসান জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। খবর পাওয়ার পর থানার সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তে অংশ নিচ্ছেন।

ওসি বলেন, নিহত ব্যক্তি কীভাবে রেললাইনে এলেন, সেটি তদন্তের বিষয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহতের পরিচয় শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তিনি রেললাইনে ছিলেন, নাকি ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছিলেন—তদন্ত শেষে সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।