জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চায় আলজেরিয়া
জ্বালানি, ওষুধ, পোশাক, চামড়া, স্বাস্থ্য ও জাহাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়াতে চায় আলজেরিয়া। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দেশটি।
রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হোটেলে আলজেরীয় বিপ্লবের ৭২তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ আগ্রহের কথা জানান ঢাকায় নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদুল ওয়াহাব সাইদানি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, অভিন্ন ঐতিহাসিক সংহতি, সক্রিয় কূটনৈতিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে দুই দেশের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার সম্পর্ক এগিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সাম্প্রতিক আলজিয়ার্স সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরো গতিশীল করেছে। তেল, গ্যাস, ওষুধ, পোশাক, চামড়া, স্বাস্থ্য ও জাহাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, স্বাধীনতার জন্য কঠিন লড়াই এবং ন্যায়বিচার ও সার্বভৌমত্বের প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার ঐতিহাসিক বন্ধন তৈরি হয়েছে। ১৯৭১ সালে প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঐতিহাসিক মর্যাদা রয়েছে আলজেরিয়ার।
আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রনীতি স্বাধীনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার, সার্বভৌমত্ব, সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংঘাত নিরসনের নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত উল্লেখ করে ফিলিস্তিন ও পশ্চিম সাহারার জনগণের ন্যায়সংগত আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত।
রাষ্ট্রপতি আবদুল মাজিদ তিব্বুনের নেতৃত্বে আলজেরিয়ার অর্থনৈতিক রূপান্তরের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, হাইড্রোকার্বন-বহির্ভূত রপ্তানি, অবকাঠামো উন্নয়ন, খনিশিল্প, কৃষি, আবাসন ও বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে দেশটি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, তেল, গ্যাস ও খনিশিল্পে আলজেরিয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। জ্বালানি প্রযুক্তি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দেশটির সঙ্গে সহযোগিতায় আগ্রহী বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, আলজেরিয়া থেকে গ্যাস আমদানি এবং দেশটির সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে গত মাসে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করা সম্ভব।
আলজেরিয়ার বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশের বস্ত্র, শিল্পপণ্য, খাদ্যপণ্য, সিরামিক ও হালকা প্রকৌশলসহ বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের আলজেরিয়ায় বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ অনুসন্ধানে উৎসাহিত করেন তিনি। এ সময় দেশটির কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, ১৯৫৪ সালের ১ নভেম্বর ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আলজেরীয় বিপ্লব শুরু হয়। ১৩২ বছরের ফরাসি শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে দেশটি স্বাধীনতা অর্জন করে। এ বছর বিপ্লবের ৭২তম বার্ষিকীর প্রতিপাদ্য ছিল ‘নভেম্বর ১ : দেশের স্মৃতি এবং উম্মাহর ভবিষ্যৎ’।
অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক কোরের সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং ঢাকায় বসবাসরত আলজেরীয় কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।










Disqus comments are not configured yet.