বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩

কটিয়াদীতে জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কটিয়াদীতে জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত একটি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (৬ মে) বিকাল ৪টায় উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ। কর্মসূচিটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইজিপিপি (EGPP) কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় জালালপুর-লোহাজুরী সড়ক থেকে লোহাজুরী ইউনিয়নের অড়িয়াধর পর্যন্ত খালটি পুনঃখনন করা হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা, কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকার এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, দেশের নদী-নালা, খাল ও জলাধার পুনঃখননের মাধ্যমে পরিবেশ ও কৃষিখাতকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সৈয়দ নজরুল মেডিকেলে ১২ কোটি টাকার টেন্ডারে ‘নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা’র অভিযোগ

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
সৈয়দ নজরুল মেডিকেলে ১২ কোটি টাকার টেন্ডারে ‘নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা’র অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (SSNIMCH) প্রায় ১২ কোটি টাকার একটি টেন্ডারে (টেন্ডার আইডি: ১২৫৭৯১-১২৫৭৯০১, আইএফটি নং: SSNIMCH/Kishore/e-Tender/2025-2026/550,তারিখ:১৩/০৪/২০২৬) ‘নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা’ ও স্বচ্ছতা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার মেডিকেল ডিভাইস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘বায়োকেয়ার’-এর পক্ষ থেকে দাখিলকৃত লিখিত অভিযোগ ও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, টেন্ডার ডকুমেন্টের ‘অ্যাডিশনাল টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনস’ অংশে এমন একগুচ্ছ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, যা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট (পিপিএ) ২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) ২০০৮/২০২৫-এর মৌলিক নীতিমালা- স্বচ্ছতা, সমতা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার পরিপন্থী। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, অতীতের একই ধরনের শর্তাবলি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে বারবার কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্যাটার্ন বিদ্যমান।

টেন্ডার ডকুমেন্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্ট্যান্ডার্ড টেন্ডার ডকুমেন্ট (STD)-এর বাইরে গিয়ে একাধিক অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে চিহ্নিত প্রধান শর্তগুলো হলো:
(১) চেম্বার অব কমার্স সনদ (জামানত রসিদসহ) বাধ্যতামূলক করা, যা পিপিআর/এসটিডিতে নির্ধারিত নয় এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে দরদাতাদের অংশগ্রহণ সীমিত করে। (২) টেন্ডার জমার আগে সব আইটেমের নমুনা (স্যাম্পল) জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা, যা সরবরাহকারীদের ওপর অযৌক্তিক লজিস্টিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে এবং সাবজেক্টিভ মূল্যায়নের মাধ্যমে ‘নন-রেসপন্সিভ’ ঘোষণার ঝুঁকি তৈরি করে। (৩) ডিভিসি নম্বর ও ই-জিপি যাচাইকৃত নির্দিষ্ট ফরম্যাটের অডিট রিপোর্ট চাওয়া, যা পিপিআর/এসটিডি-তে নির্ধারিত আর্থিক সক্ষমতার মানদণ্ডের বাইরে গিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি দরদাতাদের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। (৪) নির্দিষ্ট তারিখের (০১/০৪/২০২৬-এর পরে স্বাক্ষরিত) একাধিক নোটারাইজড অ্যাফিডেভিট বাধ্যতামূলক করা, যা এসটিডি-তে নির্ধারিত ন্যূনতম ডকুমেন্টেশনের বাইরে এবং অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করে। (৫) কারণ দর্শানো ছাড়াই টেন্ডার বাতিল ও সর্বনিম্ন দর গ্রহণে বাধ্য না থাকার ক্ষমতা, যা পিপিএ-পিপিআর-এর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। (৬) প্রত্যাখ্যাত দরপত্রের বিষয়ে কোনো আপত্তি বা জিজ্ঞাসা নিষিদ্ধকরণ, অথচ পিপিআর অনুযায়ী দরদাতার অভিযোগ ও আপিলের আইনগত অধিকার রয়েছে। (৭) নোটিশ বা শুনানি ছাড়াই ব্ল্যাকলিস্টিংয়ের শর্ত, যা পিপিআর-এর যথাযথ নোটিশ, শুনানি ও প্রক্রিয়া অনুসরণের বিধানের পরিপন্থী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পিপিএ ২০০৬-এর ধারা ১১ এবং পিপিআর ২০০৮/২০২৫-এর ৯৮, ১২৭-১৩০ নম্বর বিধান অনুযায়ী সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। এসটিডি-এর বাইরে অতিরিক্ত ও বৈষম্যমূলক শর্ত আরোপ করলে তা ‘নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যেমন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস (NINS) ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজেস (NICVD)-এর টেন্ডারে সাধারণত এসটিডি-অনুযায়ী সীমিত ও যুক্তিসঙ্গত শর্ত রাখা হয়, যা এখানে প্রশ্নবিদ্ধ।

অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, বিগত বছরগুলোতেও একই ধরনের শর্ত প্রয়োগ করে নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানকে বারবার কাজ দেওয়া হয়েছে। ভিন্ন একটি হাসপাতালের তুলনামূলক বিবরণী (সিএস) এবং শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের ২০২০ সালের একটি কার্যাদেশের কপি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সিএস-তে উল্লিখিত তিনটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা একই। অভিযোগকারীর দাবি, ওই সিএস-এ অংশ নেওয়া তিনটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা একই ব্যক্তির, যা ‘নিয়ন্ত্রিত দরপত্র’-এর স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। আরও উল্লেখ করেন, ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ২০২১ সালে মন্ত্রণালয় থেকে ফাইল গায়েবের মামলায় সিআইডি কর্তৃক গ্রেপ্তার হন, যার সংবাদ ১ নভেম্বর ২০২১ তারিখে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। বর্তমান টেন্ডারেও ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ নিশ্চিত করতে হাসপাতালের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর ‘অস্বাভাবিক তৎপরতা’ রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী সরকার পরিবর্তনের পরও হাসপাতালটির ক্রয় প্রক্রিয়ায় ‘পুরনো কালো ছায়া’ মুক্ত হয়নি বলে অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করে।

মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অভিযোগ গ্রহণ ও এ সংক্রান্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্যে বেশ অসামঞ্জস্য রয়েছে। ২৯ এপ্রিল হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, “২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের মধ্যে ‘বায়োকেয়ার’ নামক কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। টেন্ডারে সব নিয়মকানুন মেনেই শর্ত দেওয়া হয়েছে। কোনো বিতর্কিত শর্ত থাকার প্রশ্নই নেই।”

অথচ, হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মাহফুজা আক্তার রিক্তার স্বাক্ষরে ২২/০৪/২০২৬ তারিখে বায়োকেয়ারের স্বত্বাধিকারী মো. হারুন-অর-রশীদ খানের অভিযোগপত্র গ্রহণের প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। এ বিষয়ে হিসাবরক্ষক মাহফুজা আক্তার রিক্তা ফোনে বলেন, “রিসিভ করে আমি পত্রিকার বিল মনে করে আমার কলিগের কাছে দিয়েছিলাম। ওইদিন কলিগ উপস্থিত না থাকায় আমি গ্রহণ করে রেখে দিই।” তার সহকর্মী বলেন, “এটা (টেন্ডারের অভিযোগ) নিয়ে আমি প্রতিদিন খুঁজি, কে দিলো, কেন দিলো? আগামীকাল স্যারের কাছে জমা দেব। আমি তো এটা ড্রয়ারে দেখে পত্রিকার বিল মনে করেছিলাম।”

গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তাদের এমন বেখেয়ালি মন্তব্য রহস্যের জন্ম দিয়েছে। অফিসিয়াল প্যাডে স্পষ্ট বিষয়, প্রেরকের নাম, ফোন ও ইমেইল থাকার পরও ‘পত্রিকার বিল’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ৩০ এপ্রিল পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম পুনরায় ফোনে বলেন, “আমাদের টেন্ডার হয় অনলাইনে, অভিযোগও করতে হবে অনলাইনে। হার্ডকপির কোনো সুযোগ নেই। দুজন অভিযোগ করেছে, দুজনের উত্তর দেওয়া হয়েছে।” তবে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে হার্ডকপি গ্রহণের বিষয়টি তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান। কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. অভিজিত শর্মার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বিষয়টি তার আওতাধীন নয়।

বায়োকেয়ারের স্বত্বাধিকারী মো. হারুন-অর-রশীদ খান বলেন, “২০১৯ সাল থেকে আমি কিশোরগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টেন্ডারে অংশ নিচ্ছি। কিন্তু এখানে এমন শর্ত আরোপ করা হয়, যা স্বচ্ছতা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার পরিপন্থী। একই ধরনের শর্ত অন্য প্রতিষ্ঠানেও দেখেছি। প্রতিযোগিতায় একই ঠিকানার তিনটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ায় ‘নিয়ন্ত্রিত দরপত্র’-এর ইঙ্গিত মেলে। এসব শর্ত নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দিতেই আরোপ করা হয়েছে।”

তিনি বিতর্কিত শর্তগুলো অবিলম্বে বাতিল বা সংশোধন করে পিপিএ-পিপিআর অনুযায়ী টেন্ডার পুনঃপ্রকাশের দাবি জানান। অন্যথায় সরকারের কেন্দ্রীয় ক্রয় কারিগরি ইউনিট (CPTU), বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (IMED) ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার কাছে বিষয়টি উত্থাপনসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পিপিএ-পিপিআর ও এসটিডি-এর বিধান কঠোরভাবে পালন করা বাধ্যতামূলক। অতিরিক্ত ও বৈষম্যমূলক শর্ত আরোপ, অভিযোগ গ্রহণে অনীহা এবং কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়। বিশেষ করে যেখানে অতীতে একই মালিকানাধীন একাধিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের প্রমাণ এবং হার্ডকপি গ্রহণে ‘পত্রিকার বিল’-এর মতো অস্বাভাবিক ব্যাখ্যা উঠে এসেছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত।

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, কেন্দ্রীয় ক্রয় কারিগরি ইউনিট (সিপিটিইউ), বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (IMED) ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া এই টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্নের নিরসন কঠিন হবে। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং নাগরিক অধিকারেরও দাবি।

কিশোরগঞ্জে নদ-নদীর পানি নামছে, হাওরে ফিরছে স্বস্তি; ক্ষতির শঙ্কা এখনো কাটেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে নদ-নদীর পানি নামছে, হাওরে ফিরছে স্বস্তি; ক্ষতির শঙ্কা এখনো কাটেনি

টানা বৃষ্টিপাত কমে আসায় কিশোরগঞ্জের নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বেশিরভাগ পয়েন্টে পানির স্তর হ্রাস পেলেও একটি পয়েন্টে সামান্য বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েক দিনের মেঘলা আবহাওয়ার পর রোদ ওঠায় হাওরাঞ্চলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে, কাজে ফিরেছেন কৃষকেরা।

বুধবার (৬ মে) সকাল ৯টায় কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি কমে ৩.২৮ মিটারে দাঁড়িয়েছে। চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি ২.৯৫ মিটার এবং ভৈরব বাজার পয়েন্টে মেঘনার পানি কমে ১.৬৪ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে।

তবে অষ্টগ্রাম পয়েন্টে কালনী নদীর পানি সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ২.৬৫ মিটারে পৌঁছেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার সব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পানির উচ্চতা বিপৎসীমার ৮৭ থেকে ৪১৬ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, উজানের পানির চাপ কিংবা বৃষ্টিপাত আবার বাড়লে নদ-নদীর পানি পুনরায় বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে নতুন করে হাওরাঞ্চলের কৃষি ও জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে আকাশ পরিষ্কার হয়ে রোদ ওঠায় হাওরাঞ্চলে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। পানিতে ডুবে যাওয়া জমি থেকে ধান উদ্ধার এবং খলায় ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। বুধবার সকালেও একই চিত্র দেখা গেছে—কেউ পানি থেকে ধান তুলছেন, আবার কেউ খলায় ধান শুকাচ্ছেন।

নিকলী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং দ্রুত ধান কেটে নিরাপদে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে এবং প্রায় ৫০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।

বাজিতপুরে বিশেষ অভিযানে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুর্জয় গ্রেফতার

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
বাজিতপুরে বিশেষ অভিযানে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুর্জয় গ্রেফতার

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়া ইউনিয়নের পুড্ডা গ্রামের আলোচিত ব্যক্তি মামুন মিয়ার ছেলে নাঈমুল রহমান দুর্জয়কে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (৬ মে) ভোর প্রায় ৪টার দিকে বাজিতপুর থানা পুলিশ ও জেলা ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুর্জয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলার ভিত্তিতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি ও তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে হিলচিয়া বাজার এলাকায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা আদায় করে আসছিলেন। বিশেষ করে বিয়ে-শাদি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গবাদিপশু বিক্রি এবং জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও তাদের চাঁদা দিতে বাধ্য করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে একাধিক ব্যক্তিকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগও উঠে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, ব্যবসায়ী উসমান, সাইফুল ও বাগভের গ্রামের শরীফ মিয়াসহ কয়েকজন এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গুরুতর আহত শরীফ মিয়া বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী টুম্পা আক্তার বাদী হয়ে বাজিতপুর থানায় চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় জনসাধারণ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলও করেন। দীর্ঘদিনের অভিযোগের পর গ্রেফতারের ঘটনায় হিলচিয়া বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, “অনেকদিন পর আমরা স্বস্তি পেলাম।”

বাজিতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম শহিদুল্লাহ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল। মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গ্রেফতারকৃত দুর্জয়কে বুধবার (৬ মে) কিশোরগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।