সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

উইন্ডোজ ১০-এর সাপোর্ট বন্ধ আজ থেকে

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
উইন্ডোজ ১০-এর সাপোর্ট বন্ধ আজ থেকে

আজ (১৪ অক্টোবর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হচ্ছে মাইক্রোসফটের জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ১০-এর সাপোর্ট। কোম্পানিটি জানিয়েছে, আজকের পর থেকে ব্যবহারকারীরা আর কোনো নিরাপত্তা আপডেট, বাগ ফিক্স বা কাস্টমার সার্ভিস পাবেন না। যদিও কম্পিউটার চালু থাকবে, তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে।

২০১৫ সালের জুলাইয়ে উন্মোচিত উইন্ডোজ ১০ প্রথমে তেমন জনপ্রিয় না হলেও সময়ের সঙ্গে এটি বিশ্বের অন্যতম ব্যবহৃত ডেস্কটপ অপারেটিং সিস্টেমে পরিণত হয়। নিয়মিত আপডেট ও ব্যবহারবান্ধব ইন্টারফেসের কারণে লক্ষাধিক ব্যবহারকারী এখনো এই সংস্করণে অভ্যস্ত।

মাইক্রোসফট জানায়, যাদের কম্পিউটার উইন্ডোজ ১১–এর জন্য উপযুক্ত, তারা নতুন ভার্সনে আপগ্রেড করলে নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার সাপোর্ট ও এআই সুবিধা পাবেন। তবে পুরোনো কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য Extended Security Updates (ESU) প্রোগ্রামের মাধ্যমে সীমিত নিরাপত্তা আপডেট নিতে পারবেন।

মাইক্রোসফটের মতে, উইন্ডোজ ১০ ডেস্কটপ যুগ থেকে ক্লাউড-নির্ভর প্রযুক্তিতে রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসা শেষে আগামী বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দেশে ফিরবেন। ওই দিন রাত ৯টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি দূরপাল্লার ফ্লাইটে তাঁর ঢাকায় অবতরণের কথা রয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিএনপির মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, মির্জা আব্বাস বেশ কিছুদিন ধরে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা অনেকটাই ভালো। মেডিকেল বোর্ডের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই দেশে ফেরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১১ মার্চ পবিত্র রমজান মাসে ইফতার করার সময় হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে ওই রাতেই তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।

পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ১৪ এপ্রিল তাঁকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল থেকে মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা সন্তোষজনক। চিকিৎসকদের পরামর্শ ও মেডিকেল বোর্ডের অনুমোদনের পরই তাঁকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার মধ্যেই গত ১ আগস্ট ঢাকা-৮ আসনের এই সংসদ সদস্যকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা এক সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার পর মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরার খবরে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী ও অনুসারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পরিবারের জন্য মানবিক হাসপাতাল গড়তে চান কুতুব

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পরিবারের জন্য মানবিক হাসপাতাল গড়তে চান কুতুব

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারের পাশাপাশি এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য একটি মানবিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন সৌদি আরবপ্রবাসী হাবিবুর রহমান কুতুব। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নের প্রবাসীদের নিয়ে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১০০ সদস্যের একটি সংগঠন গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে এতে ৯০ জন সদস্য যুক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

হাবিবুর রহমান কুতুবের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংগঠনটির মাধ্যমে ভবিষ্যতে ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিবার মানবিক হাসপাতাল’ নামে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রাথমিকভাবে ১০০ শয্যার হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হলে প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে জানান তিনি।

হাবিবুর রহমান কুতুব বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা বিদেশে শ্রম ও মেধা দিয়ে অর্থ উপার্জন করে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। তাঁদের পরিবার ও স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই একটি মানবিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার চিন্তা থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত হাসপাতালটি শুধু প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না। এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসাসেবায়ও প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখবে। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই হাসপাতালটি পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

কুতুব বলেন, ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য একটি মানবিক উদ্যোগ গড়ে তুলতে চাই। সবাই পাশে থাকলে এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব।’

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে রশিদাবাদ ইউনিয়নের প্রবাসীদের নিয়ে ১০০ সদস্যের একটি সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ৯০ জন সদস্য সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ভবিষ্যতে ইউনিয়নের আরও প্রবাসী এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্যোক্তার মতে, প্রবাসীদের সম্মিলিত উদ্যোগ ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা পাওয়া গেলে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। এ জন্য প্রবাসী, স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে রশিদাবাদ ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে প্রবাসীদের পরিবার এবং দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবায় হাসপাতালটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

তাড়াইলে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

রুহুল আমিন প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। দিনে প্রখর রোদ ও তীব্র দাবদাহ, আর রাতে ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে মিলিয়ে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা, পোলট্রি খামারসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশেষ করে রাতের লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি বেশি হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেকেই ঘুমাতে পারছেন না। দিনের বেলায় বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ চান্দু ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার মতো বয়স্ক মানুষের পক্ষে তীব্র গরমে খুবই অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শুধু রাতেই পাঁচ-ছয় ঘণ্টা ধরে লোডশেডিং হচ্ছে। গরমের কারণে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না।’

তিনি লোডশেডিং কমাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ মিয়ার বাড়িতে ছোট আকারের একটি মুরগির খামার রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের মুরগিগুলো নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, লোডশেডিংয়ের কারণে এরই মধ্যে ডিমের উৎপাদন কমে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে খামারে আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।

চাল, হলুদ ও মরিচ ভাঙানোর ব্যবসা করেন জসীম উদ্দিন। লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁর ব্যবসাও ক্ষতির মুখে পড়েছে। জসীম উদ্দিন বলেন, ‘সারাদিন তো কারেন্টই থাকে না। আমার ব্যবসা লাটে ওঠার দশা। এভাবে চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই সম্ভব হবে না।’

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তাঁরা ব্যবসা পরিচালনা করেন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় কাজের সময় কমে যাচ্ছে। ফলে একদিকে উৎপাদন ও বিক্রি কমছে, অন্যদিকে দোকান পরিচালনার খরচও বাড়ছে।

তাড়াইল জোনাল অফিসের কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রচণ্ড দাবদাহে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হচ্ছে। এ কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাচ্ছি মাত্র ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। এই অবস্থায় লোডশেডিং দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’

বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে লোডশেডিংও কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তাড়াইলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির প্রত্যাশা করছেন। বিশেষ করে রাতের লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।