তাড়াইলের বাজারে পোড়া কোণার নতুন নোট, উৎস নিয়ে নানা প্রশ্ন
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ৫, ১০ ও ২০ টাকার নতুন কাগুজে নোটের এক বা একাধিক কোণা আগুনে পোড়া অবস্থায় লেনদেন হতে দেখা যাচ্ছে। দেখতে প্রায় ঝকঝকে নতুন হলেও নোটের কোনো কোনো অংশ পোড়া থাকায় এসব নোট নিয়ে বিপাকে পড়ছেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই। কোথা থেকে এসব নোট আসছে, কেনই বা নতুন নোটের কোণা পুড়ে যাচ্ছে—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে কৌতূহল।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সরেজমিনে তাড়াইল সদর বাজার, কাপড়পট্টি, সিএনজি স্ট্যান্ড, বাসস্ট্যান্ডসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিনের স্বাভাবিক লেনদেনে পোড়া কোণাযুক্ত নোটের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে ৫, ১০ ও ২০ টাকার নোটের মধ্যে এ ধরনের নোট বেশি দেখা যাচ্ছে। অধিকাংশ নোটই দেখতে একেবারে নতুন। কোনো নোটের এক কোণা সামান্য ঝলসে গেছে, আবার কোনো কোনো নোটে পোড়া অংশ বেশ স্পষ্ট।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, তাঁরা ব্যাংক থেকে নতুন নোট সংগ্রহ করলেও সেগুলো কীভাবে পরে পোড়া অবস্থায় বাজারে ফিরে আসছে, তা তাঁদের জানা নেই। তাঁদের মতে, বাজারে এ ধরনের নোটের সংখ্যা যদি সত্যিই বেড়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি ব্যাংক, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তাড়াইল সদর বাজারের কয়েকজন পান-সিগারেট বিক্রেতা ও মুদি দোকানদার বলেন, তরুণদের একটি অংশ বিভিন্ন ধরনের মাদকে আসক্ত। তাঁদের ধারণা, কোনো কোনো মাদক সেবনের পদ্ধতিতে কাগুজে নোট ব্যবহারের কারণে নোটের কোণা আগুনে পুড়ে যেতে পারে। তবে এটি তাঁদের ব্যক্তিগত ধারণা। এ দাবির পক্ষে তাঁরা কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
রিকশা, অটোরিকশা ও সিএনজির ভাড়া পরিশোধের সময়ও পোড়া কোণাযুক্ত নোট নিয়ে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। যাত্রীর হাতে থাকা পোড়া কোণাযুক্ত ৫, ১০ বা ২০ টাকার নোট চালক নিতে না চাইলে উভয়ের মধ্যে তর্কাতর্কির সৃষ্টি হয়।
বিশেষ করে স্বল্পমূল্যের ভাড়া পরিশোধের ক্ষেত্রে একটি নোট গ্রহণ না করায় যাত্রীকে নতুন নোট খুঁজতে হয়। কেউ কেউ নোট পরিবর্তন করে দেওয়ার জন্য যাত্রীকে পাশের দোকানে পাঠিয়ে দেন। এতে সামান্য কয়েক টাকার ভাড়া পরিশোধ করতেও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। সাধারণ যাত্রীদের মধ্যেও এ নিয়ে ভোগান্তি ও ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা জানান, সাধারণত পোড়া নোটের লেনদেন করতে তাঁরা নিরুৎসাহিত করেন। তবে এ ধরনের নোট নিয়ে অনেক সময় গ্রাহকদের সঙ্গে মনোমালিন্য তৈরি হয়।
এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ‘সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, নোটগুলো অনেক সময় একেবারেই নতুন থাকে। নতুন নোট কীভাবে পুড়ে যাচ্ছে, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার।’
ব্যাংক কর্মকর্তারা আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্যান্য ব্যাংকের শাখায় ছেঁড়া, ফাটা বা ক্ষতিগ্রস্ত নোট পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত নোটের বিনিময়মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে নোটের অবশিষ্ট অংশ ও ক্ষতির ধরন বিবেচনা করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, ‘কাগুজে নোটের এক বা একাধিক কোণা কী কারণে পোড়া থাকে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। কোথাও দুর্ঘটনাজনিত আগুনে পুড়ে যেতে পারে। অন্যান্য কারণও থাকতে পারে।’
তবে বাজারে নতুন নোটের পোড়া অংশের উপস্থিতি কেন বাড়ছে, এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। ফলে এসব নোটের উৎস ও পোড়ার কারণ নিয়ে স্থানীয়দের কৌতূহলও কাটেনি।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array