মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে কটিয়াদীতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে কটিয়াদীতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ

পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার বিকেলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিএনপি ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিকেল থেকেই কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড ও বাজার এলাকায় বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পরে তাঁরা দলীয় বিভিন্ন স্লোগান নিয়ে বাসস্ট্যান্ড এলাকার পেট্রোল পাম্পের সামনে জড়ো হন। সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

মিছিলটি কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডের পেট্রোল পাম্পের সামনে থেকে শুরু হয়ে কটিয়াদী বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অতিক্রম করেন। পরে মিছিলটি উপজেলা কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিল শেষে উপজেলা কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। কর্মসূচিতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দীন। তিনি কেন্দ্রীয় কর্মসূচির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।

সমাবেশে কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন বক্তব্য দেন। তাঁরা কর্মসূচির উদ্দেশ্য ও দলীয় অবস্থান তুলে ধরেন।

এ সময় কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ডা. জহর লাল সাহা, সহসভাপতি মিজানুর রহমান স্বপন, শফিকুর রহমান বাদল, মো. শহিদুল্লাহ ও জসীম উদ্দিন মেনু উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জাইদুল, যুগ্ম সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুব আলম মাসুদ, সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম সেতু, উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাবলু, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মো. জিল্লুর রহমান, সদস্যসচিব আঃ আজিজ প্রিন্স এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তফছিরুল হাসিবসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তাঁরা দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবেই কটিয়াদীতে এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁরা সন্ত্রাস, নৈরাজ্য এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশকে ঘিরে কটিয়াদী বাজার ও উপজেলা কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

ভৈরবে হাত-পা-মুখ বাঁধা অবস্থায় প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
ভৈরবে হাত-পা-মুখ বাঁধা অবস্থায় প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে গোয়ালঘরের পাশে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় হাত-পা ও মুখ বাঁধা রুকন উদ্দিন নামে এক সিঙ্গাপুরপ্রবাসী যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পূর্ব নয়াহাটি এলাকার সরকারবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভৈরব থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত রুকন উদ্দিন কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পূর্ব নয়াহাটি এলাকার সরকারবাড়ির কৃষক সাত্তার মিয়ার ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান।

থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে নিজ বাড়ির গোয়ালঘরের পাশে একটি গাছে রুকন উদ্দিনের মরদেহ ঝুলতে দেখেন তাঁর ভাই রুবেল মিয়া। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ থানায় নিয়ে যায়।

নিহতের ভাই রুবেল মিয়া বলেন, “আমার ভাই ২১ আগস্ট সিঙ্গাপুর থেকে দেশে এসেছে। রাত ১০টায় খাবার খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়েছিল। ভোরে আমি শৌচাগারে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে দেখি, গোয়ালঘরের পাশে আমার ভাইয়ের হাত-পা বাঁধা মরদেহ ঝুলছে। আমি আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই।”

নিহতের বাবা সাত্তার মিয়া বলেন, “আমার দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। ছোট ছেলে ছিল রুকন। তিন বছর আগে জমি বিক্রি করে ওকে সিঙ্গাপুর পাঠিয়েছিলাম। সেখানে একটি কোম্পানিতে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করত। সম্প্রতি সে সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি পেয়েছে। দেশ থেকে ফিরে সুপারভাইজার হিসেবেই কোম্পানিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। বাড়ির কাজ ধরবে বলে কিছু টাকাও জমিয়েছিল। কিন্তু আমার ছেলের আর স্বপ্ন পূরণ হলো না। ও আমাদের হজ করিয়ে এনেছে। ওর কোনো শত্রু ছিল না।”

তিনি আরও বলেন, “আমি রাতে বাড়িতে থাকি না। ক্ষেতে সেচের পানি দিতে রাতে জমির পাশেই থাকতে হয়। ভোরে নাতনি ডেকে পাঠালে এসে দেখি, ছেলেকে কে বা কারা মেরে গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে। ঘুরতে যাওয়ার জন্য কেনাকাটা করার কথা বলে ছেলে আমার কাছে ১০ হাজার টাকা চেয়েছিল। জানিয়েছিল, সে কক্সবাজার যাবে। টাকা দেওয়ার পর গতকাল ভৈরব শহরে বন্ধুদের সঙ্গে কেনাকাটাও করে।”

ঘটনার খবর পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিহতের বাড়িতে পরিবার ও স্বজনদের আহাজারি চলছে। আশপাশের এলাকার লোকজনও বাড়িতে ভিড় করছেন। মা-বোনদের কান্নায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নিহতের মা অনুফা বেগম চিৎকার করে বলেন, “আমার সোনার টুকরো ছেলেকে কেন এবং কারা হত্যা করল? আমার ছেলের তো কোনো শত্রু নেই!”

অনুফা বেগম আরও বলেন, “আজ (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার চলে যাওয়ার কথা ছিল ওর। রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েছিল। যেহেতু ভোরে চলে যাবে, তাই রাতে খুব কথা বলতে ইচ্ছে করলেও ডাকিনি। রাত ১টার দিকে ওকে ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলতে শুনেছি। হঠাৎ রাত ১টার পর কোনো একসময় আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে বসতঘরের পাশে মেরে গাছে ঝুলিয়ে রেখে গেছে।”

নিহতের বোন উম্মে হাবীবা বলেন, “আমার ভাইয়ের আজ ভোরে বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার যাওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে ঘুরে এসে আবার সিঙ্গাপুর চলে যেত। বাড়ির কাজ শেষ করে দেশে ফিরে বিয়ে করার কথা ছিল। বাড়ির নকশাও পছন্দ করেছিল। ওর অনেক স্বপ্ন ছিল। রাতে ওকে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এমনকি ওর মোবাইল ফোন থেকে সিমকার্ড খুলে নিয়ে গেছে। আমরা চাই, দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। আমরা খুনির ফাঁসি চাই।”

ভৈরব থানার ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে যান। মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যার পর হাত-পা বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে রেখে গেছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার, ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৩ অপরাহ্ণ
দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার, ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ সুপারের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

সভায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটসহ বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপ কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং জেলার ১৩টি উপজেলার ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, সব সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং থানার অফিসার ইনচার্জরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় পুলিশ সুপার বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, গুজব বা নাশকতা না ঘটে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে পুলিশ এবং আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি, সাইবার মনিটরিং এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ একা নয়; পূজা উদযাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত সহযোগিতায় এবারের পূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে। কোনো মণ্ডপে সন্দেহজনক কিছু দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় ধর্মীয় নেতারা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন। বিশেষ করে মণ্ডপে আলোকসজ্জা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানানো হয়।

পুলিশ সুপার ধর্মীয় নেতাদের উত্থাপিত দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান।

১১১ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ, মিঠামইনে ডিলারসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
১১১ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ, মিঠামইনে ডিলারসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে অবৈধভাবে পাচারের সময় ১১১ বস্তা ইউরিয়া সারসহ দুই চালককে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় পাচারকাজে ব্যবহৃত দুটি টলি গাড়িও জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় আটক দুই চালক, সার ডিলারসহ চারজনের বিরুদ্ধে মিঠামইন থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. গাফফারের নেতৃত্বে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে কাটখাল ইউনিয়ন এলাকায় টলিতে করে অবৈধভাবে সার স্থানান্তরের সময় চালক শাহিন মিয়া ও জহির মিয়াকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাঁদের গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ১১১ বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মিঠামইন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মনোয়ার জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আটক দুই চালক শাহিন মিয়া ও জহির মিয়া, সার ডিলার মুস্তাফিজুল ইসলাম রতন এবং লিটন নামের আরও একজনসহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে মিঠামইন থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ওসি বলেন, “কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত ও বরাদ্দকৃত সার কালোবাজারি বা পাচারের বিরুদ্ধে পুলিশের এই কঠোর অবস্থান ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্যকারী কাউকেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

বর্তমানে উদ্ধার করা ১১১ বস্তা ইউরিয়া সার এবং জব্দ করা দুটি টলি মিঠামইন থানা হেফাজতে রয়েছে।