কৈলাগ ইউপি চেয়ারম্যান তিন মাস ধরে নিখোঁজ, বন্ধ সরকারি সেবা
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার কৈলাগ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কায়ছার-এ-হাবীব তিন মাস ধরে অফিসে অনুপস্থিত। প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়োগ না দেওয়ায় ইউনিয়নের সরকারি সেবা কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক ও ওয়ারিশান সনদসহ বিভিন্ন জরুরি কাজ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।
ইউনিয়ন পরিষদ ম্যানুয়াল অনুযায়ী, চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা অবহিত করতে হয়। কিন্তু কায়ছার-এ-হাবীব তা করেননি। ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সোহেল রানা অভিযোগ করেছেন, চেয়ারম্যানের অসহযোগিতার কারণে তিনিও দায়িত্ব নিতে পারছেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাজিতপুরের ১১ ইউনিয়নের অনেক চেয়ারম্যান আত্মগোপনে চলে যান। তাঁদের মধ্যে কৈলাগ ইউপির চেয়ারম্যান কায়ছার-এ-হাবীব অন্যতম। তিনি সাবেক এমপি আফজাল হোসেনের সমর্থনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হন।
২০২৪ সালের আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক মামলায় আসামি হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে স্বল্প সময়ের জন্য অফিসে ফিরে এলেও, রাকিব নামে এক যুবক হত্যার মামলায় নাম আসার পর তিনি আবার অদৃশ্য হয়ে যান। এরপর থেকে তিনি কোনো সভায়ও উপস্থিত হননি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চেয়ারম্যানের কক্ষ তালাবদ্ধ। প্রশাসনিক কর্মকর্তা নয়ন চন্দ্র দাস বলেন, “আমি ১২ আগস্ট দায়িত্ব নিয়েছি, কিন্তু চেয়ারম্যানকে একদিনও অফিসে দেখিনি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, চেয়ারম্যান না থাকায় জন্মসনদ বা ওয়ারিশান সনদের মতো জরুরি কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ইউপি সদস্য সোহেল রানা বলেন, “এত মামলা থাকার পরও তিনি কীভাবে চেয়ারম্যান হিসেবে থাকছেন, তা প্রশ্নবিদ্ধ।”
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান কায়ছার-এ-হাবীব বলেন, “আমি জামিনে আছি এবং আত্মগোপনে থেকেও অফিসের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকলে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য ঘোষণা করা যেতে পারে।
বাজিতপুরের ইউএনও ফারশিদ বিন এনাম বলেন, “বিষয়টি নজরে এসেছে। জনগণের সেবায় ব্যাঘাত না ঘটে তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




