শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

সাবেক এমপি আমীর উদ্দিনের বাড়িতে খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় দোয়া মাহফিল

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:৫২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সাবেক এমপি আমীর উদ্দিনের বাড়িতে খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় দোয়া মাহফিল

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেল ৪টায় সাবেক সংসদ সদস্য আমীর উদ্দিন আহমেদের নিকলীস্থ নিজ বাসভবনে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাজিতপুর–নিকলী আসনের একাদশ জাতীয় সংসদ সদস্য, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। তাঁর বক্তব্যে তিনি দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্যের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

পাশাপাশি তিনি বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হলে বাজিতপুর–নিকলীর প্রতিটি মানুষের কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাইতে হবে। আজ থেকে আমাদের লক্ষ্য হবে দল–মত নির্বিশেষে বিএনপির ঐক্য আরও সুদৃঢ় করা। আমি এমপি হলে এটি শুধু আমার নয়—এটি আপনাদের সবার এমপি। তাই ঘরে ঘরে ধানের শীষের পক্ষে জনমত তৈরি করুন।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোকাররম সর্দার। আরও উপস্থিত ছিলেন—বাংলাদেশ কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও নিকলী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী মোহাম্মদ মাসুক মিয়া, নিকলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম তালুকদার হেলিম, যুবদলের নিকলী উপজেলা আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান, স্বেচ্ছাসেবক দলের উপজেলা সদস্যসচিব মোহাম্মদ নাদিম, ছাত্রদলের উপজেলা ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হৃদয় হাসান, ছাত্রদল উপজেলা সদস্যসচিব রনি আহমেদ প্রমুখ।

দোয়া মাহফিলে মোনাজাত পরিচালনা করেন ফায়ার সার্ভিস মসজিদের ইমাম। বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, ছাত্রদল ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।

তাড়াইলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, সভাপতির ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৯ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, সভাপতির ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা

নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে তাড়াইল-করিমগঞ্জ সড়কের রায়জানি ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন যুবক মিছিল বের করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। মিছিলের পর তাড়াইল উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সিরাজীর দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে কয়েকজন যুবক হঠাৎ মিছিল নিয়ে তাড়াইল-করিমগঞ্জ সড়কে বের হন। এ সময় তাঁদের ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘তাড়াইল থানার মাটি, আওয়ামী লীগের ঘাঁটি’ এবং ‘ডাক দিয়েছেন ইসমাইল ভাই, ঘরে থাকার সময় নাই’—এ ধরনের স্লোগান দিতে শোনা যায়। কিছুক্ষণ মিছিল করার পর তাঁরা দ্রুত সড়ক থেকে সরে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলে তাড়াইল উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সিরাজীকে দেখা যায়নি। তবে মিছিলের পর তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে ওই কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসমাইল সিরাজীর ফেসবুক পোস্টে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা (সুমন) এবং ‘বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক’ জি এস ওমানের নির্দেশনায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদ, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনসহ বিভিন্ন দাবিতে তাড়াইল উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

পোস্টে আরও বলা হয়, ‘জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলাই হোক আমাদের প্রত্যয়।’ পোস্টের শেষে আয়োজক হিসেবে ইসমাইল সিরাজীর নাম এবং ‘সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, তাড়াইল উপজেলা শাখা’ পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ফেসবুক পোস্টে মিছিলের আয়োজনের কথা উল্লেখ থাকলেও ইসমাইল হোসেন সিরাজী নিজে ওই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের এমন কর্মসূচির পর পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলের অনেকে। তাঁদের দাবি, প্রকাশ্যে সড়কে ঝটিকা মিছিল হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো আইনগত পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলের কয়েকজনের ভাষ্য, নিষিদ্ধঘোষিত কোনো সংগঠনের মিছিল বা সমাবেশের ঘটনা ঘটলে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত, ঘটনাস্থল ও আশপাশের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ, আয়োজকদের বিষয়ে অনুসন্ধান এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কিন্তু তাড়াইলে এ ঘটনার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তাঁদের আরও দাবি, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরও পুলিশের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা গা-ছাড়া মনোভাবের প্রকাশ পেয়েছে বলে তাঁদের মনে হয়েছে। এ ধরনের কর্মসূচিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও তাঁরা মনে করেন।

এ বিষয়ে তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, ‘আমরা খোঁজ-খবর রাখছি। মিছিলে উপস্থিত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারিনি।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিছিলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মিছিলের ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে জড়িতদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের এমন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলের লোকজন।

কিশোরগঞ্জে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিশাল জশনে জুলুস

আসাউজ্জামান জুয়েল প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিশাল জশনে জুলুস

কিশোরগঞ্জে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিশাল জশনে জুলুস (আনন্দ মিছিল), সমাবেশ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে ঈদে মিলাদুন্নবী জশনে জুলুস উদযাপন পরিষদ ও জেলা সুন্নী সাইবার টিমের যৌথ আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন।

শহরের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান থেকে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুসটি বের হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও সুন্নী আকাইদের পতাকা বহন করেন। এ সময় তাঁরা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

জশনে জুলুসটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ, মিলাদ ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ইসমাইল হোসেন মধু, তরফিয়া দরবার শরীফের গদিনিশীন পীর সৈয়দ ইয়াছিন, আটরশি দরবার শরীফের জেলা কর্মীপ্রধান আনিসুর রহমান, পাটধা দরবারের গদিনিশীন পীর শফিকুল ইসলাম এবং ঈদে মিলাদুন্নবী জশনে জুলুস উদযাপন পরিষদের সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ আলামিন প্রমুখ।

বক্তারা হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও শিক্ষার আলোকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ন্যায়বোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ওআইসির নতুন মহাসচিব মৌরিতানিয়ার ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
ওআইসির নতুন মহাসচিব মৌরিতানিয়ার ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন মৌরিতানিয়ার অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ। ২৭ আগস্ট সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ২৩তম জরুরি অধিবেশনে সদস্য দেশগুলোর সম্মতিতে তাঁকে নতুন মহাসচিব নির্বাচিত করা হয়। পরদিন ২৮ আগস্ট তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ বর্তমান মহাসচিব চাদের হুসেইন ইব্রাহিম তাহার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। ২০২১ সালের শেষ দিকে দায়িত্ব নেওয়া তাহার মেয়াদ চলতি বছরের নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে দুই কূটনীতিকের মধ্যে ওআইসির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, উন্নয়ন ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার পাশাপাশি তিনি আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক সংঘাত ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি মৌরিতানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ইয়েমেনে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে ইয়েমেনের সংঘাতরত পক্ষগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ ও শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় তিনি যুক্ত ছিলেন।

২০১৪ সালে লিবিয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ-বিশেষ প্রতিনিধি, আবাসিক সমন্বয়কারী ও মানবিক সমন্বয়কারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এর আগে ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইয়েমেনে জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের প্রতিনিধি ছিলেন। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সিরিয়াতেও একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

নতুন মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ ওআইসির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার ও ফিলিস্তিন ইস্যুকে ওআইসির অগ্রাধিকারের কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করে ন্যায়সংগত ও স্থায়ী শান্তির জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে ইসলামবিদ্বেষ, ঘৃণামূলক বক্তব্য, অসহিষ্ণুতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ওআইসির ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। পারস্পরিক সংলাপ ও সম্মানের পরিবেশ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংস্থাটির অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত করার কথাও বলেছেন নতুন মহাসচিব।

তিনি ওআইসির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সংহতি ও সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি তরুণদের জ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সুযোগ কাজে লাগানোর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।

ওআইসি ৫৭ সদস্যদেশের একটি আন্তঃসরকারি সংস্থা এবং জাতিসংঘের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তঃসরকারি সংগঠন। মুসলিম বিশ্বের অভিন্ন স্বার্থ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করাই সংস্থাটির অন্যতম লক্ষ্য।

ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে ওআইসির নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় শুরু হলো। আন্তর্জাতিক কূটনীতি, সংঘাত ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্বে সংস্থাটির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।