সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক বিবরণ দিলেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:৩০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক বিবরণ দিলেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার সেই সময় থেকে যুবলীগ–ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো, আক্রমণ ও হত্যার কৌশল বারবার প্রয়োগ করেছে, যার শেষ পরিণতিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তারা পুরো জাতির প্রতিরোধের মুখে পড়ে।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি শাপলা চত্বরের রাতের বিভীষিকাময় মুহূর্তগুলোর কথা তুলে ধরেন।

শফিকুল আলম লিখেছেন, সাধারণত শাপলা স্কয়ার এলাকায় যা ঘটেছিল, সেটাকেই ‘শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড’ বলা হয়। ৫ মে রাতেই শাপলা চত্বর, পল্টন, বিজয়নগর, নাইটিঙ্গেল মোড় ও মতিঝিলে সহিংসতার খবর আসতে শুরু করে। সেই সময় তিনি এএফপি’র ঢাকার দফতরে ছিলেন, যা ছিল বর্তমান বিডিবিএল ভবনে।

তিনি বলেন, “আমাদের জানালা থেকে শাপলা চত্বরজুড়ে কয়েক দশক হাজার হেফাজত সমর্থকের ভিড় দেখা যাচ্ছিল। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এক-দুটি লাশ সেখানে আনা হয়। আমরা জানতাম না তারা কোথায় বা কীভাবে মারা গেছে।”

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, রাত ৮টার দিকে প্রথম বড় তথ্যটি তারা পান—শাহিদবাগ-মালিবাগের বারাকা জেনারেল হাসপাতালে ছয়জন হেফাজত সমর্থকের লাশ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি লাশের মাথায় গুলির চিহ্ন ছিল। হাসপাতালের ম্যানেজার ঘটনাটি নিশ্চিত করলেও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে দ্বিতীয় উৎস থেকেও নিশ্চিত হওয়ার পর এএফপি খবর প্রকাশ করে।

এরপর কাকরাইলের ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে আরও লাশের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। শফিকুল আলম লিখেছেন, ভোরে কাঁচপুর–সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় পরিবহন বন্ধ থাকায় হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে হেফাজতের একটি বড় দলের ওপর বিজিবি গুলি চালায়, যেখানে প্রায় ২০ জন নিহত হয়।

তিনি বলেন, সেই সময় আওয়ামী লীগ নেতারা, আইজিপি এবং ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে হত্যা করেছে। বরং দাবি করেন অভিযানে খুব সামান্য হতাহত হয়েছে। অথচ তাদের হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা ৪৯–এ পৌঁছায়। পরে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের হিসাবও প্রায় ৬০ মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করে।

পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, পল্টন ও আশপাশের এলাকায় অনেক হত্যাকাণ্ডই করেছে অস্ত্রধারী যুবলীগ–ছাত্রলীগের কর্মীরা। তাদের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত দুজনের নামও উল্লেখ করেন—জাহিদ সিদ্দিকী তারেক এবং রিয়াজ মিল্কি। পরবর্তীতে তারেক সিসিটিভিতে ধরা পড়া ঘটনায় মিল্কিকে হত্যা করে এবং পরে র‍্যাবের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়।

ফেসবুক পোস্টের শেষ অংশে শফিকুল আলম লিখেন, গত ১১ বছর আওয়ামী লীগ একই কৌশল ব্যবহার করেছে—প্রতিপক্ষকে দমন করতে যুবলীগ–ছাত্রলীগকে কাজে লাগানো। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তারা পুরো জাতির ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে পড়ে।

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।