সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’: আল জাজিরায় হাসিনাপুত্র জয়

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’: আল জাজিরায় হাসিনাপুত্র জয়

হাসিনাপুত্র জয়ের সাক্ষাতকার ছবিঃ আলজাজিরা

আওয়ামী লীগ যদি আবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পায়, সে ক্ষেত্রে দলের নেতৃত্বে শেখ হাসিনাকে আর দেখা নাও যেতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন।

সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, ‘আমার মা দেশে ফিরতে চান। তিনি অবসর নিতে চান। তিনি বিদেশে থাকতে চান না।’

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটন ডিসিতে তাঁর বাসভবনে এই সাক্ষাৎকার নেন আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কোথাও যাচ্ছে না। এটি দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও বড় রাজনৈতিক দল। আমাদের প্রায় ৪০–৫০ শতাংশ ভোট রয়েছে। ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ৬–৭ কোটি ভোটার আওয়ামী লীগের সমর্থক।’

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে জয় বলেন, ‘তার বয়স এখন ৭৮ বছর। এমনিতেই এটি তার শেষ মেয়াদ হওয়ার কথা ছিল। তিনি অবসর নিতে চান।’

এ সময় শ্রীনিবাসন জৈন প্রশ্ন করেন, তাহলে কি একে ‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’ বলা যায়?
উত্তরে জয় বলেন, ‘সম্ভবত তাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনাকে নিয়ে অথবা তাকে ছাড়াই চলতে পারে। দলটি ৭০ বছরের পুরোনো। কেউ চিরদিন বেঁচে থাকে না।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারছে না।

দলের অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতা বর্তমানে বিদেশে আত্মগোপনে আছেন এবং দেশে থাকা অনেক নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

আল জাজিরার সাংবাদিক আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানির অভিযোগ তুললে জয় বলেন, ‘আমরা সহিংসতা চাই না। কিন্তু যখন কাউকে একেবারে কোণঠাসা করে ফেলা হয়, তখন পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।’

তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শত শত আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ হেফাজতে মারা গেছেন।

ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে জয় বলেন, ‘এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমাদের যদি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর মতো সক্ষমতা থাকত, তাহলে এই সরকার টিকে থাকত না।’

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান দমনে শেখ হাসিনার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নে জয় বলেন, ‘সরকার পরিস্থিতি সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে পারেনি—এটা সত্য। তবে এসব কিছু শেখ হাসিনার নির্দেশে হয়নি।’

বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ প্রসঙ্গে জয় দাবি করেন, আল জাজিরা ও বিবিসি অডিও ক্লিপের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেনি। তাঁর ভাষায়, ‘নির্দেশ ছিল সশস্ত্র সহিংস গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নয়।’

নিহতদের সংখ্যা নিয়ে তিনি বলেন, সরকারপতনের আগ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা প্রায় ৮০০। বাকিদের মৃত্যুর দায় বর্তমান সরকারের সময়ের ঘটনা।

বিচার প্রসঙ্গে জয় বলেন, ‘বিচার সবার জন্য সমান হতে হবে। একতরফা বিচার মানেই বিচার নয়।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমার মা কোনো হত্যার নির্দেশ দেননি। তিনি কোনো মৃত্যু চাননি।’

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।