‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’: আল জাজিরায় হাসিনাপুত্র জয়
হাসিনাপুত্র জয়ের সাক্ষাতকার ছবিঃ আলজাজিরা
আওয়ামী লীগ যদি আবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পায়, সে ক্ষেত্রে দলের নেতৃত্বে শেখ হাসিনাকে আর দেখা নাও যেতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন।
সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, ‘আমার মা দেশে ফিরতে চান। তিনি অবসর নিতে চান। তিনি বিদেশে থাকতে চান না।’
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটন ডিসিতে তাঁর বাসভবনে এই সাক্ষাৎকার নেন আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কোথাও যাচ্ছে না। এটি দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও বড় রাজনৈতিক দল। আমাদের প্রায় ৪০–৫০ শতাংশ ভোট রয়েছে। ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ৬–৭ কোটি ভোটার আওয়ামী লীগের সমর্থক।’
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে জয় বলেন, ‘তার বয়স এখন ৭৮ বছর। এমনিতেই এটি তার শেষ মেয়াদ হওয়ার কথা ছিল। তিনি অবসর নিতে চান।’
এ সময় শ্রীনিবাসন জৈন প্রশ্ন করেন, তাহলে কি একে ‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’ বলা যায়?
উত্তরে জয় বলেন, ‘সম্ভবত তাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনাকে নিয়ে অথবা তাকে ছাড়াই চলতে পারে। দলটি ৭০ বছরের পুরোনো। কেউ চিরদিন বেঁচে থাকে না।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারছে না।
দলের অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতা বর্তমানে বিদেশে আত্মগোপনে আছেন এবং দেশে থাকা অনেক নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
আল জাজিরার সাংবাদিক আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানির অভিযোগ তুললে জয় বলেন, ‘আমরা সহিংসতা চাই না। কিন্তু যখন কাউকে একেবারে কোণঠাসা করে ফেলা হয়, তখন পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।’
তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শত শত আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ হেফাজতে মারা গেছেন।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে জয় বলেন, ‘এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমাদের যদি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর মতো সক্ষমতা থাকত, তাহলে এই সরকার টিকে থাকত না।’
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান দমনে শেখ হাসিনার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নে জয় বলেন, ‘সরকার পরিস্থিতি সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে পারেনি—এটা সত্য। তবে এসব কিছু শেখ হাসিনার নির্দেশে হয়নি।’
বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ প্রসঙ্গে জয় দাবি করেন, আল জাজিরা ও বিবিসি অডিও ক্লিপের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেনি। তাঁর ভাষায়, ‘নির্দেশ ছিল সশস্ত্র সহিংস গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নয়।’
নিহতদের সংখ্যা নিয়ে তিনি বলেন, সরকারপতনের আগ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা প্রায় ৮০০। বাকিদের মৃত্যুর দায় বর্তমান সরকারের সময়ের ঘটনা।
বিচার প্রসঙ্গে জয় বলেন, ‘বিচার সবার জন্য সমান হতে হবে। একতরফা বিচার মানেই বিচার নয়।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমার মা কোনো হত্যার নির্দেশ দেননি। তিনি কোনো মৃত্যু চাননি।’







