‘বাপের দোয়া’ ক্রিকেট বোর্ড: বিসিবি অ্যাড-হক কমিটি বিতর্কে
বিসিবির অ্যাড-হক কমিটিতে রাজনৈতিক পরিবারের চার সদস্যের উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। নতুন কমিটিতে রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি অনেকেই ভালোভাবে নিচ্ছেন না। তবে দীর্ঘদিন ধরে উপমহাদেশে এই ধরনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত।
বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে কারচুপিসহ নানা অনিয়মের দায়ে আগের বোর্ড ভেঙে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। নতুন করে ১১ সদস্যের অ্যাড-হক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। গত ৭ এপ্রিল, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী এনএসসি এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
নতুন কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন ফাহিম সিনহা, রফিকুল ইসলাম বাবু, সালমান ইস্পাহানি, তানজিল চৌধুরী, আতহার আলি খান, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, ইসরাফিল খসরু, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, মির্জা ইয়াসির আব্বাস এবং রাশনা ইমাম।
নবগঠিত অ্যাড-হক কমিটির সদস্যদের মধ্যে বেশ কিছু রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য রয়েছেন। আইনজীবী রাশনা ইমাম বিএনপির সংসদ সদস্য এবং শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের স্ত্রী। এছাড়া, মির্জা ইয়াসির আব্বাস ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের ছেলে। বিএনপির সংসদ সদস্য এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে সৈয়দ ইব্রাহিম আহমদ এবং বিএনপির সংসদ সদস্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদের ছেলে ইসরাফিল খসরুও কমিটিতে রয়েছেন।
এই চার সদস্যকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। যদিও বছরের পর বছর ধরে উপমহাদেশে এই ধরনের প্রবণতা বিরাজমান। আগের বোর্ডেও তখনকার সরকারের পছন্দের ব্যক্তিরা বিসিবির পরিচালক হয়েছিলেন, যা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সংসদে এই বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন কুমিল্লা-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জনপ্রিয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। অধিবেশনে তিনি বলেন, “বিসিবিকে এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বলা যায় না। এটি হয়ে গেছে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’। যেভাবে দখল করা হয়েছে, তাতে বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ যেন পরিবারবিহীন নয়।”
এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “ক্রিকেট বোর্ড কীভাবে এসেছে তা মাননীয় স্পিকারকে জানাই। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সরকারি ক্ষমতার প্রয়োগ করে জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর কমিটিগুলোকে প্রভাবিত করেছিলেন। রেজিস্টার্ড ক্লাবগুলোর কাউন্সিলরদেরও প্রভাবিত করা হয়েছিল এবং হাইকোর্টে যে রিট দায়ের হয়েছিল, সেটি এখনও স্থগিত। পরে বর্তমান সরকার মাননীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর (আমিনুল হক) নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী যথেষ্ট অনিয়মের বিষয়গুলো উঠে এসেছে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “আগের বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং নতুন অ্যাড-হক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে দেশের কৃতী ক্রিকেটার তামিম ইকবালকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখানে আমরা কোনো ‘বাপের দোয়া’ বা ‘মায়ের দোয়া’ করি নি। তিন মাসের মধ্যে এই কমিটি বিধি মোতাবেক নির্বাচন সম্পন্ন করবে।”
অ্যাড-হক কমিটির মেয়াদ তিন মাস, যা আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এর পর তারা নির্বাচিত বোর্ডের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে।










