চারিতলার রাস্তা যেন মৃত্যুফাঁদ, আটকে যাচ্ছে ধানবোঝাই গাড়ি
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নেমতপুর ইউনিয়নের চারিতলা গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কাঁচা রাস্তা এখন এলাকাবাসীর জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাল মিয়ার বাড়ি থেকে চারিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বড় বড় গর্তে ভরে গিয়ে কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে হাজারো কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বড় হাওর এলাকার কৃষকদের যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনের একমাত্র ভরসা এই রাস্তাটি বর্তমানে ভয়াবহ বেহাল অবস্থায় রয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটার ব্যস্ত সময়েও ধানবোঝাই ট্রলি ও যানবাহন রাস্তার গভীর গর্তে আটকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এতে কৃষকদের উৎপাদিত ধান ঘরে তোলা ও বাজারজাতকরণে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে রাস্তাটি এখন ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদা ও পানিতে পুরো সড়ক ডুবে যায়। এতে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল আমিন বলেন, “এই দুই কিলোমিটার রাস্তা দ্রুত পাকাকরণ করা হলে কয়েক হাজার কৃষকের দুর্ভোগ কমবে। একই সঙ্গে এলাকার মানুষের চলাচলও সহজ হবে। আমরা দ্রুত স্থায়ী সমাধান চাই।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত ৪০ থেকে ৫০ বছরেও রাস্তাটির দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। সংস্কারের জন্য একমুঠো মাটিও ফেলা হয়নি বলে দাবি তাদের। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত হয়, পাশাপাশি জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬ থেকে ৭ বছর আগে রাস্তাটির একটি সরকারি আইডি নম্বর বরাদ্দ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো উন্নয়নকাজ শুরু হয়নি। এ নিয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত পাকাকরণ বা টেকসই সংস্কার না করা হলে কৃষি উৎপাদন, শিক্ষাব্যবস্থা ও জনজীবনে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই অবিলম্বে রাস্তাটির উন্নয়নকাজ শুরু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।







