এ কোন হীরক রাজার দেশ? শিক্ষকদের বেতনে দুই নীতি!
সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’ যেমন নিয়ম ছিল ক্ষমতাবানদের জন্য এক রকম, সাধারণ মানুষের জন্য আরেক রকম—বাস্তবেও যেন তেমন এক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দেশের এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকরা। একই শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হয়েও স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা মাসের শুরুতেই বেতন পেলেও, মে মাসের শেষভাগ পর্যন্ত অপেক্ষা করেও বেতন-ভাতা পাননি হাজারো মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী।
দেশের ৮ হাজার ২২৯টি মাদ্রাসার প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার ২৩১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর অভিযোগ, একই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে থেকেও তারা বৈষম্যের শিকার। স্কুল-কলেজে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বেতন পৌঁছে গেলেও মাদ্রাসা শিক্ষকদের এখনো ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার বেড়াজালে আটকে থাকতে হচ্ছে।
ফলে সংসার চালানো, বাসাভাড়া পরিশোধ, সন্তানের লেখাপড়া কিংবা পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা ব্যয় মেটানো অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, মানুষ গড়ার কারিগর হয়েও নিজের পরিবারটিই যেন ঠিকভাবে সামলাতে পারছেন না।
মাদ্রাসা শিক্ষকদের এই দুর্ভোগ জাতীয় সংসদেও আলোচিত হয়েছে। গত ১৬ জুন সংসদে রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন বেতন-ভাতা বিলম্বের বিষয়টি তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মে মাসের বেতন না পাওয়ায় অর্থাভাবে এক শিক্ষক তাঁর অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করাতে পারছেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, ২০১৭ সালে এমইএমআইএস (MEMIS) প্রকল্প চালু হলেও সেখানে স্কুল-কলেজের মতো পূর্ণাঙ্গ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় এ জটিলতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে মাত্র কয়েকটি মাদ্রাসায় পরীক্ষামূলকভাবে ইএফটি চালু থাকলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বেতন ছাড় করা হয়।
এদিকে সরকার জানিয়েছে, প্রকল্প সংশোধনের মাধ্যমে ইএফটি কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে বকেয়া বেতন-ভাতা ছাড়ের চেষ্টা চলছে।
তবে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা বলছেন, তাদের দাবি নতুন কিছু নয়—স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের মতো মাসের প্রথম দিনেই যেন বেতন সরাসরি ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। একই রাষ্ট্রে, একই শিক্ষা ব্যবস্থায়, একই দায়িত্ব পালন করেও দুই ধরনের বাস্তবতা তারা আর দেখতে চান না।













