শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি শিবা শানু, সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি শিবা শানু, সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী

সংগ্রহীত

দীর্ঘদিন পর টানা প্রায় এক মাস ধরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) প্রাঙ্গণ ছিল তারকাদের পদচারণায় মুখর। সেই উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যেই শুক্রবার (৩ জুলাই) অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। ভোটগ্রহণ শেষে সভাপতি পদে খল অভিনেতা শিবা শানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন।

নির্বাচনে সভাপতি পদে শিবা শানু ২৪৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অভিনেতা, ফাইটার ও প্রযোজক আরমান পান ১৭৩ ভোট। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী ২৩৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রুমানা ইসলাম মুক্তি পান ১৭৯ ভোট।

ফলাফল ঘোষণার পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিল্পীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আবেগঘন বক্তব্যে সভাপতি শিবা শানু বলেন, শিল্পীদের দেওয়া ভালোবাসা ও বিশ্বাসই তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করাই এখন তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

তিনি বলেন, “যারা আমাকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন, তারা আমার ওপর যে বিশ্বাস রেখেছেন, সেটির মর্যাদা রাখাই এখন আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই গলায় যে ফুলের মালা পরানো হয়েছে, সেটি আমি প্রকৃত অর্থে সেদিনই ধারণ করব, যেদিন শিল্পীদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারব।”

নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী বলেন, নির্বাচনী যাত্রা সহজ ছিল না। তবে সহকর্মীদের সহযোগিতা, অভিজ্ঞ শিল্পীদের পরামর্শ এবং ভোটারদের সমর্থনে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর পরিষদ গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা একটি সুন্দর, ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর পরিষদ গঠন করতে চাই। আমাদের সঙ্গে সিনিয়র শিল্পীদের অভিজ্ঞতা, সুব্রত দার নেতৃত্ব এবং জ্যাকি ভাইসহ অনেকের সহযোগিতা ছিল। পুরো নির্বাচনী পথচলা সহজ ছিল না। তবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা সফল হয়েছি। এখন আমাদের লক্ষ্য শিল্পীদের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করা।”

নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উভয়েই বলেন, শিল্পীদের কল্যাণ, পারস্পরিক ঐক্য এবং দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করতে তারা সম্মিলিতভাবে কাজ করবেন। শিল্পী সমিতিকে আরও সক্রিয়, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সংগঠনে পরিণত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তারা।

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার বিরতি ছিল। নির্বাচনকে ঘিরে গত এক মাস ধরে এফডিসি প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রার্থীদের গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণা, শিল্পীদের উপস্থিতি এবং সমর্থকদের আনাগোনায় পুরো এলাকা ছিল প্রাণবন্ত।

এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় দুটি প্যানেলের মধ্যে। একটি প্যানেলে ছিলেন আরমান ও রুমানা ইসলাম মুক্তি, অন্য প্যানেলে নেতৃত্ব দেন শিবা শানু ও জয় চৌধুরী। ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে শেষ পর্যন্ত শিবা শানু ও জয় চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন প্যানেল গুরুত্বপূর্ণ দুটি শীর্ষ পদে বিজয় অর্জন করে।

নবনির্বাচিত নেতৃত্বের প্রতি চলচ্চিত্র অঙ্গনের প্রত্যাশা—শিল্পীদের অধিকার রক্ষা, কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড জোরদার এবং দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে তারা কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।

ছুটির দিনেও হাওরে জেলা পরিষদ প্রশাসক ভিপি সোহেল

রেজাউল হক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
ছুটির দিনেও হাওরে জেলা পরিষদ প্রশাসক ভিপি সোহেল

ছুটির দিন শুক্রবারেও হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, পর্যটন পরিস্থিতি ও জেলা পরিষদের চলমান কার্যক্রম দেখতে মাঠে ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান (ভিপি সোহেল)। শুক্রবার (২১ আগস্ট) তিনি নিকলী ও মিঠামইন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে মিঠামইনের কামালপুরে জেলা পরিষদ পরিচালিত হাওর বিলাস পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় হাওর বিলাস রেস্ট হাউজের আঙিনায় থাকা গাছের চারার পরিচর্যা ও সংরক্ষণে কর্মরতদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। পরিবেশের ভারসাম্য, জলবায়ু ও দেশের সবুজায়নে গাছের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি নিজেও গাছের গোড়ায় মাটি দেওয়া ও পরিচর্যার কাজে অংশ নেন।

প্রশাসকের এ উদ্যোগে উৎসাহিত হন রেস্ট হাওর বিলাস-র কর্মীরা। তাঁদের কয়েকজন বলেন, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিজ হাতে গাছের পরিচর্যায় অংশ নিলে কর্মীদের মধ্যেও কাজের প্রতি আগ্রহ ও দায়িত্ববোধ বাড়ে।

হাওর ভ্রমণের সময় নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেন জেলা পরিষদ প্রশাসক। নৌযানে ওঠার সময় তিনি নিজেও লাইফ জ্যাকেট পরিধান করেন এবং সঙ্গে থাকা অন্যদেরও লাইফ জ্যাকেট পরতে বলেন। একই সঙ্গে হাওরে ভ্রমণকারী পর্যটক ও যাত্রীদেরও নৌযানে ওঠার আগে বাধ্যতামূলকভাবে লাইফ জ্যাকেট পরিধানের পরামর্শ দেন তিনি।

স্থানীয় নৌকার মাঝি, ট্রলার মালিক ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য নৌযানে পর্যাপ্ত সংখ্যক লাইফ জ্যাকেট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম রাখার নির্দেশনা দেন ভিপি সোহেল। আবহাওয়ার পূর্বাভাসের দিকে নজর রেখে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নৌযান পরিচালনারও পরামর্শ দেন তিনি।

বর্তমানে হাওরে ঝোড়ো বাতাস ও বড় ঢেউ থাকায় নৌপথে পর্যটকদের চলাচল কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা শোনেন তিনি। নৌযান চলাচল, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং হাওরকেন্দ্রিক পর্যটনের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

পরিদর্শনকালে হাওরাঞ্চলে জেলা পরিষদের বিভিন্ন চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও বর্তমান অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রকল্পগুলোর কাজের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতির খোঁজ নেন।

খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান (ভিপি সোহেল) কিশোরগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। তিনি জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ছাত্ররাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি হিসেবেও পরিচিত।

দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুবাদে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়ার পরও মাঠপর্যায়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সরেজমিনে দেখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

ছুটির দিনে হাওরাঞ্চল পরিদর্শনও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক পরিধির পাশাপাশি জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন বিষয় সরাসরি পর্যবেক্ষণ এবং মানুষের কাছে গিয়ে তাঁদের কথা শোনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ভিপি সোহেল।

কিশোরগঞ্জের তিন উপজেলায় কাল শুরু কলেরা টিকাদান, আওতায় ৭ লাখ ২৫ হাজার মানুষ

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের তিন উপজেলায় কাল শুরু কলেরা টিকাদান, আওতায় ৭ লাখ ২৫ হাজার মানুষ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল উপজেলায় আগামীকাল শনিবার (২২ আগস্ট) শুরু হচ্ছে ‘ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন (OCV) ক্যাম্পেইন-২০২৬’। এ কর্মসূচির আওতায় তিন উপজেলায় এক বছর বা তার বেশি বয়সী ৭ লাখ ২৫ হাজার ১৩৮ জনকে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গর্ভবতী নারীরা এ টিকার আওতায় থাকবেন না।

এর মধ্যে করিমগঞ্জে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮১, হোসেনপুরে ২ লাখ ৭ হাজার ১৪১ এবং তাড়াইলে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫১৬ জনকে টিকা দেওয়া হবে।

আগামীকাল থেকে প্রথম ডোজ দেওয়া শুরু হয়ে এ কার্যক্রম চলবে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। পূর্ণ সুরক্ষার জন্য প্রথম ডোজ গ্রহণের কমপক্ষে ১৪ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করতে হবে।

টিকাদান কার্যক্রম প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত দিনগুলোতে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিকা দেওয়া হবে। অন্যান্য দিনে নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্র, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মোবাইল টিকাদান দলের মাধ্যমে সব বয়সী উপযুক্ত নাগরিককে টিকার আওতায় আনা হবে।

আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। কিশোরগঞ্জ-১ (সদর ও হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম এর উদ্বোধন করবেন। এ সময় জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

উদ্বোধনী কার্যক্রমের জন্য করিমগঞ্জে চর দেহুন্দা কমিউনিটি ক্লিনিক ও জ্ঞান সিঁড়ি স্কুল, হোসেনপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং তাড়াইলে দারুল হুদা কাসেমুল উলুম মাদ্রাসা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, টিকা গ্রহণের আগে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর দেওয়া কার্ডটি পরবর্তী সময়ে হেলথ কার্ড হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিন উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে তিনটি করে টিম টিকাদান কার্যক্রমে কাজ করবে। করিমগঞ্জের ১১টি ইউনিয়নের ৩৩টি, হোসেনপুরের ছয়টি ইউনিয়নের ১৮টি এবং তাড়াইলের সাতটি ইউনিয়নের ২১টি ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন (ওসিভি) ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর সমন্বয় ও অবহিতকরণ সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. আজিজুল হক তানজিল এবং ইউনিসেফের ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর হোসেন মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ইউনিসেফের ইপিআই বিশেষজ্ঞ ডা. তরিকুল ইসলাম।

সভায় টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে সংবাদমাধ্যম, ধর্মীয় নেতা, ইমাম-মুয়াজ্জিন, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

সভায় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মোস্তারী কাদেরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মী, সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমনসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনও, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS) ও আইসিডিডিআর,বি’র (icddr,b) যৌথ ব্যবস্থাপনায় দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয়ভাবে এ কর্মসূচির আওতায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার তত্ত্বাবধানে গ্যাভি (Gavi), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউনিসেফ (UNICEF) ও আইএফআরসি (IFRC)-এর সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জের তিন উপজেলা ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন এলাকা, মুন্সীগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর উপজেলায় এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পূর্ণ সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয়—দুই ডোজ টিকা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অনুপস্থিতির কারণ জানালেন বিএনপি নেতা

রেজুয়ানুল হক পূর্ণ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সফর ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অনুপস্থিতির কারণ জানালেন বিএনপি নেতা

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক বর্তমানে ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন করিমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুর রহমান বিপ্লব।

নিজের ফেসবুক পোস্টে হাবিবুর রহমান বিপ্লব জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশন গত ১৫ জুলাই শেষ হওয়ার পর ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান ড. এম ওসমান ফারুক।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফরে ড. এম ওসমান ফারুকের অনুপস্থিতি এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাঁর ভোট না দেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করছে।

হাবিবুর রহমান বিপ্লব বলেন, এ ধরনের মন্তব্যের সমুচিত জবাব দেওয়া করিমগঞ্জ-তাড়াইলের প্রতিটি জাতীয়তাবাদী কর্মী-সমর্থকের দায়িত্ব। একই সঙ্গে ড. এম ওসমান ফারুকের অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা না চালানোর আহ্বান জানান তিনি।

ফেসবুক পোস্টে হাবিবুর রহমান বিপ্লব ড. এম ওসমান ফারুককে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেন।