মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

বৃষ্টির পানিতে ব্যাহত পাঠদান, দীর্ঘদিনেও হয়নি বিদ্যালয়ের ভবন

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বৃষ্টির পানিতে ব্যাহত পাঠদান, দীর্ঘদিনেও হয়নি বিদ্যালয়ের ভবন

সামান্য বৃষ্টি হলেই টিনের ছাউনি ভেদ করে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। বেঞ্চ সরিয়ে, কখনো গাদাগাদি করে, আবার কখনো পাঠদান বন্ধ রেখেই চলে শিক্ষা কার্যক্রম। দুই দফা মাটি পরীক্ষা, প্রকৌশলীদের একাধিক পরিদর্শন এবং ভবন নির্মাণের আশ্বাস মিললেও কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়া পশ্চিমপাড়া আব্দুল মান্নাফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত আট বছরেও নির্মিত হয়নি নতুন ভবন। ফলে ১৫১ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী প্রতিদিনই ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেড ভবনে পাঠ নিতে বাধ্য হচ্ছে।

জানা গেছে, বিদ্যালয়টি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি সরকারিকরণ করা হয়। বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মান্নাফ। হিলচিয়া মৌজার খতিয়ান নম্বর ২৫৯/৯৩ এবং দাগ নম্বর ৩১৪৭/৪১৬৭-এর জমিতে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৫১ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে ৮৬ জন ছাত্রী ও ৬৫ জন ছাত্র। অনুমোদিত ছয়টি শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন পাঁচজন শিক্ষক।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাজিতপুর উপজেলার ১১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে মাত্র তিনটি বিদ্যালয়ে এখনো টিনশেড ভবনে পাঠদান চলছে। এর মধ্যে রয়েছে হিলচিয়া পশ্চিমপাড়া আব্দুল মান্নাফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাজিতপুর পৌর এলাকার গোলক চন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মিরাবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বর্তমান ভবনের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৪ ফুট এবং প্রস্থ ২৩ ফুট। অফিস কক্ষসহ মাত্র চারটি কক্ষ থাকায় শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে পাঠ গ্রহণ করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে টিনের ছাউনি দিয়ে পানি পড়ায় শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়। অনেক সময় বেঞ্চ সরিয়ে ক্লাস নিতে হয়, আবার কখনো পাঠদান ব্যাহত হয়।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. মাহবুবা সুলতানা বলেন, “বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের জন্য ২০১৮ সালে একবার এবং ২০২৩ সালে আবার মাটি পরীক্ষা করা হয়েছে। একাধিকবার প্রকৌশলীরা এসে পরিমাপও করেছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী এখানে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের আট কক্ষবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একই সময়ে যেসব বিদ্যালয়ের মাটি পরীক্ষা করা হয়েছিল, সেসব বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণ শেষ হলেও আমাদের বিদ্যালয়টি এখনো টিনশেড ভবনেই পরিচালিত হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিদ্যালয়ের পেছনে একটি পুকুর রয়েছে। ভবন নির্মাণের জন্য কিছু অংশ ভরাট করা প্রয়োজন। জমিদাতা নিজ উদ্যোগে কিছু মাটি ভরাট করেছেন। আরও প্রায় ১৮ হাজার ঘনফুট মাটি ভরাট করা গেলে ভবন নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন।”

বিদ্যালয়ের জমিদাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মান্নাফ বলেন, “বিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থে আমি নিজ খরচে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয়ে মাটি ভরাট করেছি। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে জমি দান করেছি। এখন দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি।”

বাজিতপুর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে বিদ্যালয়টিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভবন নির্মাণের আওতায় আনা হবে।”

বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জালাল উদ্দিন বলেন, “বিদ্যালয়টির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।”

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে শুধু আশ্বাস মিললেও নতুন ভবনের কাজ শুরু হয়নি। বর্ষা এলেই শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তারা দ্রুত মাটি ভরাট, ভবনের অনুমোদন এবং নির্মাণকাজ শুরু করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নিরাপদ ও উপযোগী অবকাঠামো নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা যেমন বিঘ্নিত হয়, তেমনি পাঠদানের পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

তাড়াইলে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় বিশেষ অভিযানে ৩০ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে জেলা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে তাড়াইল থানার একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, তাড়াইল উপজেলার জাওয়ার ইউনিয়নের পশ্চিম জাওয়ার এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি মাদক কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকার হাদিছ মিয়ার মুদি দোকানের পূর্ব পাশের পাকা সড়কে অভিযান চালায় তাড়াইল থানা পুলিশ।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করলে অভিযানকারী দল তাদের মধ্যে দুইজনকে হাতেনাতে আটক করে। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তল্লাশি চালিয়ে তাদের হেফাজত থেকে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে তাড়াইলসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় গোপনে বিক্রি করে আসছিল বলে স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানায়।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুইজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাড়াইল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নেইমার–রোনালদোর অশ্রুর পর আজ কী মেসির পালা?

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
নেইমার–রোনালদোর অশ্রুর পর আজ কী মেসির পালা?

ফুটবলে অতীতের অর্জন, ব্যক্তিগত রেকর্ড কিংবা কোটি ভক্তের ভালোবাসা—কোনোটিই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিশ্চিত নিরাপত্তা দেয় না। কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই নির্মম বাস্তবতার শিকার হয়েছেন দুই মহাতারকা নেইমার জুনিয়রক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। দুজনেরই শেষ বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে চোখের জলে। এখন গোটা ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে আছে আরেক কিংবদন্তি লিওনেল মেসির দিকে। আজ আর্জেন্টিনা জিতবে, নাকি বিশ্বমঞ্চে আরেকটি অশ্রুসিক্ত বিদায়ের সাক্ষী হবে ফুটবল?

বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব বরাবরই অনিশ্চয়তার অন্য নাম। একটি ভুল, একটি মিস কিংবা একটি মুহূর্ত বদলে দিতে পারে ইতিহাস। সেই কারণেই এবার ব্রাজিল ও পর্তুগালের বিদায় ফুটবলপ্রেমীদের মনে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—তবে কি এবার মেসিরও শেষ বিশ্বকাপ এমন করেই শেষ হবে?

মেটলাইফেই শুরু, মেটলাইফেই শেষ নেইমারের আন্তর্জাতিক অধ্যায়

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। বদলি হিসেবে নেমে যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করলেও দলের হার ঠেকাতে পারেননি নেইমার।

শেষ বাঁশি বাজতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। পরে ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ইঙ্গিত দেন, জাতীয় দলের জার্সিতে এটাই ছিল তার শেষ ম্যাচ।

বিশেষ এক কাকতালীয় ঘটনাও জড়িয়ে রইল তার বিদায়ে। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ঠিক এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই ব্রাজিলের হয়ে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। ১৬ বছর পর একই মাঠেই শেষ হলো তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।

সংখ্যার হিসেবে নেইমারের ক্যারিয়ার ঈর্ষণীয়—

  • ম্যাচ: ১৩০
  • গোল: ৮০ (ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ)
  • অ্যাসিস্ট: ৫৮

কিন্তু শিরোপার তালিকায় রয়েছে কেবল ২০১৩ সালের কনফেডারেশন্স কাপ। অলিম্পিক স্বর্ণ জিতলেও বিশ্বকাপের ট্রফি অধরাই থেকে গেল।

বিশ্বকাপ ছুঁতে পারলেন না রোনালদোও

স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। শেষ বাঁশির পর অশ্রু লুকাতে পারেননি ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

এটাই ছিল তার ষষ্ঠ ও শেষ বিশ্বকাপ।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্লাব ফুটবলে প্রায় সবকিছু জয় করা রোনালদোর ক্যারিয়ারে অপূর্ণ থেকে গেল একমাত্র বিশ্বকাপ।

তবে বিদায়বেলায়ও রেখে গেলেন ইতিহাস।

রোনালদোর বিশ্বকাপ রেকর্ড

  • ২৭ ম্যাচে ১১ গোল।
  • ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল।
  • ৪১ বছর ১৪৭ দিন বয়সে নকআউট পর্বে গোল করে নতুন রেকর্ড।
  • ২০১৮ সালে স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক এখনো বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স।

পর্তুগালের সাবেক কোচ রবার্তো মার্টিনেজ বলেন,

“বিশ্বকাপ জেতাই ছিল তার স্বপ্ন। অধিনায়ক হিসেবে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছেন। ফুটবলের ইতিহাসে তিনি চিরকাল একজন আইকন হয়ে থাকবেন।”

দুই কিংবদন্তির অশ্রু, এবার চোখ মেসির দিকে

নেইমার কাঁদলেন।

রোনালদো কাঁদলেন।

আজ মাঠে নামছেন লিওনেল মেসি।

বিশ্বকাপে মেসির নাম মানেই কোটি মানুষের আবেগ। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জিতে নিজের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা ঘুচিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চার বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপ অভিযানে আবারও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা।

নকআউটে কোনো ফেভারিট নেই। অতীতে জার্মানি, স্পেন, ব্রাজিল কিংবা ফ্রান্স—সবাই এই বাস্তবতা দেখেছে।

তাই আজকের ম্যাচ ঘিরে একটাই প্রশ্ন-  শেষ হাসিটা কি মেসির হবে, নাকি বিশ্ব ফুটবল আরও একটি কিংবদন্তির অশ্রুসিক্ত বিদায় দেখবে?

ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপ কাউকে ছাড় দেয় না

বিশ্বকাপের সৌন্দর্যই হলো এর নিষ্ঠুরতা।

পেলে, মারাদোনা, জিদান, রোনালদো নাজারিও—প্রত্যেক কিংবদন্তির ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ লিখেছে গৌরব, আবার বেদনাও।

এবার সেই তালিকায় যোগ হয়েছে নেইমার ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নাম।

একজন বিদায় নিলেন নিজের শুরু হওয়া স্টেডিয়ামেই।

আরেকজন বিদায় নিলেন ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড রেখে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এখন আর ব্যক্তিগত রেকর্ডের মূল্য নেই। বেঁচে থাকার লড়াই।

আজ জিতলে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যাবে আরেক ধাপ।

হারলে শেষ হয়ে যাবে মেসির বিশ্বকাপ অধ্যায়ও।

দুই কিংবদন্তির চোখের জল ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আবেগে ভাসিয়েছে।

এখন পুরো ফুটবল বিশ্বের দৃষ্টি এক মানুষকে ঘিরে-  লিওনেল মেসি কি হাসিমুখে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে হাঁটবেন, নাকি বিশ্বকাপ আরেকটি অশ্রুসিক্ত বিদায়ের গল্প লিখবে?

হোসেনপুরে মৎস্য আইন বাস্তবায়নে বিশেষ অভিযান, নিষিদ্ধ জাল ধ্বংস

এস কে শাহীন নবাব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে মৎস্য আইন বাস্তবায়নে বিশেষ অভিযান, নিষিদ্ধ জাল ধ্বংস

দেশীয় মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ এবং মৎস্য আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে বিশেষ মোবাইল কোর্ট ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন নদী ও উন্মুক্ত জলাশয় থেকে জব্দ করা নিষিদ্ধ জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাবিকুন নাহার, হোসেনপুর উপজেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম অর্জুন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন নদী ও উন্মুক্ত জলাশয় থেকে মৎস্য সম্পদের জন্য ক্ষতিকর নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারি জাল ও সুতি জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

এ সময় পোনা মাছ ও প্রজনন মৌসুমে মা মাছ নিধন রোধে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়। পাশাপাশি মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অমান্য করে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার এবং অবৈধভাবে মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী জরিমানা ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

অভিযান চলাকালে স্থানীয় জেলে, মৎস্যজীবী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে মৎস্য আইন, দেশীয় মাছ সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং নিষিদ্ধ জালের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় জানিয়েছে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দেশীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের মোবাইল কোর্ট ও ঝটিকা অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে মাছ শিকার এবং নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।



Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41