শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

মুক্তিযুদ্ধ অস্বীকারকারীদের পাকিস্তানে চলে যেতে বললেন ফজলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
মুক্তিযুদ্ধ অস্বীকারকারীদের পাকিস্তানে চলে যেতে বললেন ফজলুর রহমান

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অস্বীকারকারীদের পাকিস্তানে চলে যেতে বলেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ কিন্তু হয়েছে। অবিশ্বাস করলে পাকিস্তানে যান। যারা বাংলাদেশ স্বীকার করে না, তারা পাকিস্তানে যান।’

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকের স্মরণে আয়োজিত নাগরিক স্মরণসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, একটি পক্ষ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ভারতের ষড়যন্ত্র হিসেবে প্রচার করছে। অথচ মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় ও খাবার দিয়েছে এবং অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করেছে। ভারতের সহযোগিতা ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ভারতীয় সেনারাও প্রাণ দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন এই সংসদ সদস্য।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রতিবাদ করায় তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, এমনকি তাঁর বাসা ঘেরাও করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে নিরাপত্তা দেয়।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্বাধীনতার অর্জন রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি আপনাদের আশীর্বাদে আর পাঁচটা বছর বাঁচতে চাই। আমি বাংলাদেশটাকে দেখে যেতে চাই, এটা কি বাঙালির বাংলাদেশ থাকবে, নাকি রাজাকারদের পাকিস্তান- এটা দেখে যেতে চাই।’

মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির উত্থান তাঁকে উদ্বিগ্ন করছে।

ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে ফজলুর রহমান বলেন, হিন্দু-মুসলমানের ধর্ম আলাদা হলেও বাঙালি হিসেবে তাঁদের পরিচয় এক। ধর্ম পালনের স্বাধীনতা সবার রয়েছে। তবে দৈনন্দিন জীবনের সংকট ও প্রয়োজন সবার জন্যই একই। বাজারে চাল, ডাল কিংবা চায়ের দাম হিন্দু-মুসলমানের জন্য আলাদা নয়। তাই ধর্মীয় বিভাজন নয়, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং মা-বোনের সম্ভ্রম রয়েছে। এই আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে বাংলা ও বাঙালির সংস্কৃতির পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও আদিবাসীদের সংস্কৃতিকেও সমৃদ্ধ করতে হবে।

বাংলাদেশের সংবিধানের চার মূলনীতি পুনরুদ্ধারের ওপরও গুরুত্ব দেন সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে প্রণীত সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। এসব মূলনীতি পুনরুদ্ধার করতে হবে। অন্যথায় সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান এবং বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর প্রচেষ্টা দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে ব্যর্থ করে দেবে।

প্রয়াত অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকের স্মৃতিচারণ করে ফজলুর রহমান বলেন, তিনি আজীবন মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের পক্ষে কাজ করেছেন। কখনো সশস্ত্রভাবে, কখনো নিরস্ত্রভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লড়াই করে গেছেন।

করিমগঞ্জে মাদক কারবারির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে মাদক কারবারির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে মাদক কারবারের অভিযোগে এক ব্যক্তির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের বারবার্তা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় মাদকবিরোধী বিক্ষুব্ধ জনতা মোস্তফা নামের ওই ব্যক্তির বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ঘরের ইটের দেয়াল ভেঙে ফেলে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে করিমগঞ্জ থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই বিক্ষুব্ধ জনতা অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রুস্তম আলী জানান, মোস্তফা প্রায় দুই যুগ ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। প্রথম দিকে তিনি গাঁজা বিক্রি করতেন। গত দুই থেকে তিন বছর ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েছেন। এতে এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক কারবার বন্ধ করতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এর আগে মোস্তফাকে কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছিল। মাদক ব্যবসা ছেড়ে বিকল্প আয়ের পথ তৈরি এবং পুনর্বাসনে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছিলেন স্থানীয় নেতৃত্ব ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তবে প্রায় দুই মাস বিরতির পর তিনি আবারও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে খুচরা মাদক কারবারি ও মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা মোস্তফার বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এতে এলাকার পরিবেশ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হচ্ছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাঁর বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধারের এক মাস, ভৈরবে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধারের এক মাস, ভৈরবে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী রুকন উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের এক মাস পার হলেও রহস্য উদ্‌ঘাটন হয়নি। হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের কালিকাপ্রসাদ এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে নিহতের স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় এলাকাবাসীও অংশ নেন।

মানববন্ধন চলাকালে বিক্ষোভকারীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় তাঁদের কয়েকজনকে সড়কের ওপর ফুটবল খেলতেও দেখা যায়। এতে সড়কের উভয় পাশে যানবাহন আটকে পড়ে এবং যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

খবর পেয়ে ভৈরব থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আন্দোলনকারীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন। তাঁরা রুকন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সড়কের ওপর বিক্ষোভকারীদের ফুটবল খেলার দৃশ্যটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

নিহত রুকন উদ্দিন কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পূর্ব নয়াহাটি এলাকার সরকারবাড়ির কৃষক সাত্তার মিয়ার ছেলে। তিনি সিঙ্গাপুরপ্রবাসী ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পূর্ব নয়াহাটি এলাকার সরকারবাড়িতে গোয়ালঘরের পাশে একটি গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রুকন উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় তাঁর হাত-পা বাঁধা ছিল। ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

গুদাম ছাড়াই সারের ডিলারশিপ! কটিয়াদীতে খোকন এন্টারপ্রাইজ ঘিরে বিতর্ক

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
গুদাম ছাড়াই সারের ডিলারশিপ! কটিয়াদীতে খোকন এন্টারপ্রাইজ ঘিরে বিতর্ক

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সহশ্রাম-ধূলদিয়া ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে খোকন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী খোকন মিয়ার (৫৫) বিরুদ্ধে। স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের প্রশ্ন, প্রয়োজনীয় গুদাম সুবিধা নিশ্চিত না করেই কীভাবে প্রতিষ্ঠানটি সার ডিলারশিপ পেল? তাঁদের অভিযোগ, ডিলারশিপের জন্য দেখানো স্থানে সার সংরক্ষণ ও বিতরণের উপযোগী পর্যাপ্ত অবকাঠামো রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খোকন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মুদি দোকানের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। সম্প্রতি তাঁর মালিকানাধীন খোকন এন্টারপ্রাইজকে সহশ্রাম-ধূলদিয়া ইউনিয়নের সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে ডিলারশিপের জন্য দেখানো স্থানে সার সংরক্ষণের উপযোগী পর্যাপ্ত গুদাম রয়েছে কি না, তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট স্থানে মুদি দোকানের কার্যক্রম চললেও সার সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা হয়নি। কৃষকদের প্রশ্ন, পর্যাপ্ত গুদাম সুবিধা ছাড়া কীভাবে সার সংরক্ষণ ও বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হবে? এতে সারের গুণগত মান বজায় রাখা এবং কৃষকদের কাছে যথাসময়ে সার পৌঁছে দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বসতবাড়িসংলগ্ন মুদি দোকানকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখিয়ে এবং পর্যাপ্ত গুদাম সুবিধা নিশ্চিত না করেই ডিলারশিপ নেওয়া হয়েছে। ডিলার নিয়োগে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব কিংবা অনিয়ম কাজ করেছে কি না, তা-ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ডিলারশিপ নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে খোকন মিয়া তাঁর আবেদনের সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, “আমি যখন ডিলারশিপের জন্য আবেদন করি, তখন আমার মুদি দোকান ছিল। কৃষি কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এলে তাঁদের বলেছিলাম, এটি আমার মুদি দোকান। আমাকে ডিলারশিপ দেওয়া হলে দোকানটি ভেঙে এখানেই সারের গোডাউন তৈরি করব।” এ সময় তিনি তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা চলমান রয়েছে বলেও স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, “সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে। তবে খোকন এন্টারপ্রাইজের নামে যেহেতু অভিযোগ এসেছে, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে কিংবা উপযুক্ত গুদামজাতকরণ সুবিধা ছাড়া ডিলারশিপ দেওয়া হয়ে থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “আমরা যখন পরিদর্শনে গিয়েছিলাম, তখন সেখানে একটি বড় ঘর দেখেছি। এখন হয়তো তিনি সেটি ভেঙে অন্য কিছু তৈরি করতে পারেন। খোকন এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে যেহেতু অভিযোগ এসেছে, আমরা সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

অন্যদিকে, গৌরীপুর গ্রামটি সহশ্রাম-ধূলদিয়া ইউনিয়নের একেবারে শেষ প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় সেখান থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সার সংগ্রহে অতিরিক্ত ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু কাগজপত্র নয়, গুদামের বাস্তব অবস্থা, সার সংরক্ষণের সক্ষমতা এবং কৃষকদের যাতায়াতের সুবিধাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

স্থানীয় কৃষক ও সচেতন নাগরিকেরা খোকন এন্টারপ্রাইজের ডিলারশিপের আবেদনপত্র, নিয়োগের শর্ত, সরেজমিন পরিদর্শনের প্রতিবেদন এবং বর্তমানে গুদামের বাস্তব অবস্থা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা, সারের সুষ্ঠু সরবরাহ এবং সরকারি নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।