বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩

ভৈরবে এবি ব্যাংক পিএলসি’র ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভৈরবে এবি ব্যাংক পিএলসি’র ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এবি ব্যাংক পিএলসি’র ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে ভৈরব বাজার শাখা প্রাঙ্গণে শাখা কর্তৃপক্ষের আয়োজনে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

উদযাপন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভৈরব রিপোর্টার্স ক্লাব ও ইউনিটি’র সভাপতি এবং সাপ্তাহিক ‘অবলম্বন’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক তাজুল ইসলাম তাজ ভৈরবী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী আসাদুজ্জামান জামান, হাজী সুমন মিয়া, ইব্রাহিম খলিল, জাহাঙ্গীর হোসেন, বাছির উদ্দিন, লন্ডনপ্রবাসী সালমা বেগমসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবি ব্যাংক পিএলসি’র ভৈরব বাজার শাখার ব্যবস্থাপক শাহনূর আলম। এছাড়া ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কেক কাটা এবং গ্রাহকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

আমন্ত্রিত অতিথিরা তাদের বক্তব্যে ব্যাংকটির দীর্ঘ পথচলা, সেবামূলক কার্যক্রম ও গ্রাহকসেবার মানের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, বর্তমান সময়েও ব্যাংকটির কার্যক্রম এবং শাখা ব্যবস্থাপকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক আচরণ গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সভাপতির বক্তব্যে শাখা ব্যবস্থাপক শাহনূর আলম বলেন, “এবি ব্যাংক দীর্ঘ ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও আমরা আধুনিক ও উন্নত ব্যাংকিং সেবা দিয়ে গ্রাহকদের পাশে থাকতে চাই।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত গ্রাহকরাও ব্যাংকের সাফল্য কামনা করেন এবং দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি ও অতিথিদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন শেষ হয়।

ভৈরবে ডেঙ্গুতে দুইজনের মৃত্যু, সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভৈরবে ডেঙ্গুতে দুইজনের মৃত্যু, সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে জিদনী সায়হাম (৩৫) ও সৈয়দ বানু (৬৫) নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে জিদনী সায়হাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সৈয়দ বানু ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরপর দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিদনী সায়হামের মৃত্যু হয়। তিনি ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা জি এম ইস্পাহানি মিয়ার ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই পুত্রসন্তান রেখে গেছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, তিন দিন আগে জিদনী সায়হাম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। পরে তাঁর শরীরে প্লাটিলেটের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেলে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বুধবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

এর আগে একই এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ বানু (৬৫) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই এলাকায় দুজনের মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

জিদনী সায়হামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার সন্ধ্যায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী স্থানীয় একটি সড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভৈরব শহরে নির্দিষ্ট ডাম্পিং ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশ নোংরা হওয়ার পাশাপাশি মশার উপদ্রব ও ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে। তাঁরা দ্রুত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা আরাফাত ভূঁইয়া বলেন, ‘ভৈরব শহরে ডাম্পিং ব্যবস্থা না থাকায় যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটছে। একই দিনে দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় আমরা সড়ক অবরোধ করেছি। প্রশাসনের কাছে দ্রুত ময়লা ফেলা বন্ধ এবং জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

আরেক বিক্ষোভকারী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘শুধু মৃত্যুর পর ব্যবস্থা নিলে হবে না। আগে থেকেই মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে হবে। এলাকায় নিয়মিত ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’

সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলা হয়। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে পরে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, ভৈরবে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং ব্যবস্থা নেই। ফলে শহরের বিভিন্ন জনবসতিপূর্ণ স্থানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের দুটি মৃত্যুর ঘটনা খুবই দুঃখজনক। ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। রেলওয়ে স্টেশন সড়কের পাশে আর ময়লা-আবর্জনা ফেলা হবে না। অন্যত্র বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।’

স্থানীয়দের দাবি, ভৈরবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও সমন্বিতভাবে মশক নিধন অভিযান জোরদার, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

তাড়াইলে আমন চাষে ব্যস্ত কৃষক, সেচে বাড়ছে উৎপাদন খরচ

রুহুল আমিন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
তাড়াইলে আমন চাষে ব্যস্ত কৃষক, সেচে বাড়ছে উৎপাদন খরচ

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাত ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন করে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জমিতে চারা রোপণ করছেন তাঁরা। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক কৃষককে সেচের মাধ্যমে জমিতে পানি দিয়ে আমনের চারা রোপণ করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তাড়াইল উপজেলায় আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৮২৩ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ৫৪০ হেক্টর, উফশী জাতের ৭ হাজার ২৮০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ৩ হেক্টর। এ পর্যন্ত হাইব্রিড ৫০০, উফশী ৪ হাজার ৯৫০ এবং স্থানীয় জাতের ৩ হেক্টরসহ মোট ৫ হাজার ৪৫৩ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭০ শতাংশ।

তবে চলতি মৌসুমে আমন আবাদ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ভাদ্র মাসে আশানুরূপ বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমন চাষে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। আমন ধানের চারার বয়স বেশি হয়ে গেলে তা রোপণ করে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সময়মতো চারা রোপণের জন্য বৃষ্টির পানির অপেক্ষা না করে গভীর ও অগভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ দিয়ে জমিতে চারা রোপণ করছেন কৃষকেরা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা জমি প্রস্তুত, বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন এবং চারা রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিভিন্ন গ্রামের মাঠে মাঠে চলছে আমনের চারা রোপণ। ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে আমন চারা রোপণের কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে অবশিষ্ট জমিতে চারা রোপণের কাজ শেষ হবে বলে তাঁদের আশা।

এবার আমন মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জমিতে পানি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন কৃষকেরা। প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না থাকায় অনেকেই গভীর ও অগভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ দিয়ে চারা রোপণ করেছেন। কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এতে প্রতি বিঘা জমিতে সেচ বাবদ অতিরিক্ত ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হয়েছে।

উপজেলার তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান ও ফজলুর রহমান বলেন, ‘ঠিক সময়ে বৃষ্টি না হওয়ায় এবার ধানের চারা রোপণে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছি। সেচের পানি দিয়ে ধান লাগাতে হয়েছে। এতে খরচও বাড়বে। এবার ফলন ও দাম ভালো পেলেই আমরা খুশি।’

তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিকাশ রায় বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং দ্রুত পানি সরে যাওয়ায় আমন আবাদের অগ্রগতি ভালো। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পাশাপাশি তা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছি।

তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির ঘাটতির কারণে কৃষকেরা যে সমস্যায় পড়েছেন, তা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে কাজ করছেন এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

‘শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না’- বায়তুল মোকাররম খতিব

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
‘শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না’- বায়তুল মোকাররম খতিব

কোরআন ও হাদিসের স্পষ্ট নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন সংবিধানে থাকলে তা সংশোধন বা বাতিল করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক। তিনি বলেছেন, শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত শানে রেসালত সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন, আদর্শ ও ইসলামী শরিয়াহর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে ইসলামী মূল্যবোধ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

মাওলানা আব্দুল মালেক বলেন, আইন প্রণেতারা পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ থেকে আইন ও বিধান গ্রহণ করতে পারেন। তবে দেশীয় ব্যবস্থাপনার কোনো আইনকে ইসলামী শরিয়াহর সমতুল্য মনে করার সুযোগ নেই। ভুলবশত সংবিধানে কোরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট নির্দেশনার বিরোধী কোনো ধারা যুক্ত হয়ে থাকলে তা সংশোধন বা বাতিল করা উচিত।

সংসদ সদস্যদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁরা সংবিধান রক্ষা ও সংরক্ষণের শপথ নেন। কিন্তু সংবিধানের কোনো বিধান যদি কোরআন, হাদিস, আকিদা ও ইসলামী শরিয়াহর মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। শুধু শরিয়াহবিরোধী আইনের প্রতিবাদ করলেই হবে না, সেগুলো পরিবর্তন বা বাতিলের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সম্মেলনে মাওলানা আব্দুল মালেক তাঁর বক্তব্যের একটি বড় অংশ কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের আকিদাগত অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, কাদিয়ানিরা নিজেদের মুসলমান দাবি করে এবং নামাজ ও জাকাত আদায়ের কথা বলে। তাদের উপাসনালয়েও ইসলামী বিভিন্ন নিদর্শন দেখা যায়। তবে তাদের আকিদা ও বিশ্বাসের সঙ্গে মূলধারার ইসলামী আকিদার মৌলিক পার্থক্য রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে ‘প্রতারক, বেইমান ও দাজ্জাল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর এই মন্তব্য তাঁর বক্তব্যের অংশ হিসেবে প্রতিবেদনে উদ্ধৃত করা হলো; কোনো সম্প্রদায় সম্পর্কে এসব অবমাননাকর বিশেষণকে প্রতিবেদনের নিজস্ব বর্ণনা হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী রয়েছেন এবং তাঁরা নিজ নিজ ধর্মীয় পরিচয়ে পরিচিত। তবে কাদিয়ানিদের বিশ্বাস ও আকিদা নিয়ে মুসলিম সমাজে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশিদ। এতে হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা ও বিপুলসংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।