শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

জারি করা ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে বেতন বৃদ্ধির একটি অংশ এবং পর্যায়ক্রমে ২০২৭ সালের জুলাই থেকে শতভাগ বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইভাবে পেনশনভোগীরাও পর্যায়ক্রমে বর্ধিত নিট পেনশন পাবেন।

বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পরে তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

আদেশ অনুযায়ী, ১ জুলাই নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করে বেতন বৃদ্ধির মোট অঙ্কের ৪০ শতাংশ নবম ও এর ওপরের গ্রেডের এবং ৫০ শতাংশ দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেওয়া হবে।

পরবর্তী ধাপে ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির মোট অঙ্কের ৭০ শতাংশ নবম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব এবং ৭৫ শতাংশ দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের দেওয়া হবে।

এরপর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টসহ মূল বেতন শতভাগ কার্যকর হবে।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, কর্মচারীরা ১ জুলাই থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের বেতন বকেয়া হিসেবে পাবেন।

পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে পর্যায়ক্রমে বর্ধিত নিট পেনশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদ্যমান নিট পেনশন স্ল্যাব ২০ হাজার ১ টাকা ও তদূর্ধ্বের ক্ষেত্রে নিট পেনশন বৃদ্ধির মোট অঙ্কের ৪০ শতাংশ এবং ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্ল্যাবের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ বিদ্যমান নিট পেনশনের সঙ্গে যোগ করে দেওয়া হবে।

আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ২০ হাজার ১ টাকা ও তদূর্ধ্বের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির ৭০ শতাংশ এবং ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্ল্যাবের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ দেওয়া হবে।

আগামী বছরের ১ জুলাই থেকে বার্ষিক বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টসহ নিট পেনশন শতভাগ কার্যকর হবে। অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরাও গত ১ জুলাই থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের নিট পেনশন বকেয়া হিসেবে পাবেন।

এ ছাড়া, গত ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে কোনো কর্মচারী অবসর-উত্তর ছুটি শেষে অবসরে গেলে তাঁর গ্রস ও নিট পেনশন ‘জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬’ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।

নিকলীতে ২৪ ঘণ্টা পরেও নৌকা বাইচে নিখোঁজ মাঝির সন্ধান মেলেনি

শেখ ওবায়দুল হক সম্রাট প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
নিকলীতে ২৪ ঘণ্টা পরেও নৌকা বাইচে নিখোঁজ মাঝির  সন্ধান মেলেনি

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার সময় নৌকা থেকে পড়ে নিখোঁজ হওয়া মাঝি কফিল উদ্দিনের(৪৫) ২৪ ঘণ্টায়ও সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ মাঝির সন্ধানে দুই দিন ধরে নিকলী থানা পুলিশ ও স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। অভিযান জোরদার করতে জেলা সদর থেকে ডুবুরি দলের সদস্য বাড়ানো হয়েছে।

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ঘোড়াউত্রা নদীর গভীরে নৌকা বাইচ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ কফিল উদ্দিন(৪৫) উপজেলার গুরুই ইউনিয়নের বাগবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৮ সেপ্টেম্বর নিকলী বেরিবাঁধ এলাকায় সম্মিলিত নাগরিক সমাজের ব্যানারে নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়। এতে কিশোরগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে প্রতিযোগী নৌকা অংশ নেয়। বেরিবাঁধ-সংলগ্ন হাওরে পানি স্বল্পতার কারণে আয়োজক কমিটি খরস্রোতা ঘোড়াউত্রা নদীতে নৌকা বাইচের আয়োজন করে।

নৌকা বাইচ দেখতে শত শত নৌকায় হাজার হাজার দর্শক উপস্থিত হন। নির্ধারিত স্থান থেকে উপজেলার গুরুই ইউনিয়ন থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া কফিল মাঝির নৌকাটি নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে তিনি নৌকার পেছন দিক থেকে পানিতে পড়ে যান। এ সময় নৌকায় থাকা কয়েকজন মাঝি বিষয়টি দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন মাঝি কফিল উদ্দিনকে উদ্ধারের জন্য নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে তাঁকে খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আয়োজক কমিটিকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে নিকলী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে থানা পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। দুই দিন ধরে অভিযান চালিয়েও নিখোঁজ কফিল উদ্দিনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় গুরুই ইউনিয়নে কফিল উদ্দিনের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।

নিকলী থানার এসআই রুমান বলেন, “এখনো পর্যন্ত নিখোঁজ কফিল উদ্দিনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সর্বসাধারণ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে হাওর এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে। বিষয়টি যথাযথ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”

এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে নৌকা বাইচ চলাকালে দুর্ঘটনা বা আপৎকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসকে আগাম অবহিত করা হয়নি। এ নিয়ে সচেতন স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও অভিযোগ রয়েছে।

নিকলী স্থল কাম নদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, কিশোরগঞ্জের একমাত্র নদী ফায়ার স্টেশন হওয়া সত্ত্বেও এখানে কোনো ডুবুরি নেই। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও স্থানীয় মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হলে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করলেও ডুবুরি না থাকায় উদ্ধারকাজের গতি ব্যাহত হয়। দুর্ঘটনা ঘটলে জেলা অফিস থেকে ডুবুরি দল আসার পর উদ্ধারকাজ শুরু হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক(ডিএডি) মোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ফায়ার সার্ভিসে সব জেলায় ডুবুরি নেই। কিশোরগঞ্জে ডুবুরি থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। ডুবুরি সাধারণত মাঝামাঝি কোনো স্টেশনে থাকে, যেখান থেকে বেশি এলাকায় দ্রুত যাতায়াত করা সম্ভব।”

ভৈরবে মেধাবৃত্তির আড়ালে মাইজভাণ্ডারী মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগ, অবগত নয় প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
ভৈরবে মেধাবৃত্তির আড়ালে মাইজভাণ্ডারী মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগ, অবগত নয় প্রশাসন

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশন আয়োজিত ১৩তম গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মেধাবৃত্তির নামে সাধারণ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের মধ্যে ধর্মীয় কার্যক্রমের আড়ালে মাইজভাণ্ডারী তরিকার মতবাদ প্রচার করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় শিক্ষা অফিস ও উপজেলা প্রশাসন অবগত নয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় ভৈরব উপজেলার আগানগর জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করে দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ডিআইআরআই) ও মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্লাব।

এর আগে ২০২৫ সালে ভৈরবে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথমবারের মতো ১২তম গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়।

২০২৬ সালের মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় ভৈরব উপজেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং ভোকেশনালের চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত প্রায় সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১০টি কক্ষে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০ জন সহকারী শিক্ষক।

কেন্দ্র তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশনের সদস্য ইউনূস আলমগীর। ১০০ নম্বরের এ পরীক্ষার সময় ছিল এক ঘণ্টা ৩০ মিনিট। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষার সিলেবাসে বাংলা ২০, ইংরেজি ২০, গণিত ২০, মেধা বিকাশ ১৪, নৈতিক শিক্ষা ১৪ এবং তাদের প্রসপেক্টাসে অন্তর্ভুক্ত অষ্টম অধ্যায়ের মাইজভাণ্ডারী প্রবন্ধ থেকে ১২ নম্বর রাখা হয়। ভোকেশনালের ক্ষেত্রে মাইজভাণ্ডারী প্রবন্ধ থেকে রাখা হয় ১০ নম্বর। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আবেদন ফরমের জন্য ১৮০ টাকা নেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের খণ্ডকালীন শিক্ষক রাব্বি মিয়া এবং মাইজভাণ্ডারী তরিকার অনুসারী আগানগর গ্রামের সুরুল্লার বাড়ির সজিব মিয়া ভৈরবের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে মাইজভাণ্ডারী তরিকার অনুসারী কিছুসংখ্যক সহকারী শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিক্ষার্থীদের এ মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রশাসনকে না জানিয়ে প্রায় ২৫টি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা প্রধান শিক্ষকদের অবহিত করে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষার জন্য জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে নিয়ে যান। ওই কেন্দ্রে ১০টি কক্ষে প্রায় সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের আবেদন ফরম পূরণের আগে সহকারী শিক্ষকেরা নিজ নিজ প্রধান শিক্ষককে অবহিত করলেও প্রধান শিক্ষকেরা উপজেলা শিক্ষা অফিসকে বিষয়টি জানাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ তাপস চন্দ্র বিশ্বাসও তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ মেধাবৃত্তি আয়োজনের বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেননি। অন্যদিকে, আয়োজনকারী মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও কোনো ধরনের প্রশাসনিক অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন সচেতন বাসিন্দার ভাষ্য, এ মেধাবৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের কাছে কী ধরনের শিক্ষা বা আদর্শ উপস্থাপন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন।

তাঁদের দাবি, সরকারি কারিকুলামের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় মতাদর্শ বা আকিদা যুক্ত করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁদের আরও দাবি, ধর্মের নামে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট তরিকার প্রতি আকৃষ্ট করতে মেধাবৃত্তির আয়োজন করা হয়ে থাকলে এর অন্তরালে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ স্থানীয় প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত।

পরীক্ষার কক্ষ পরিদর্শক ও বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আনিছুর রহমান সাদেক বলেন, “এখানে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি পরীক্ষা চট্টগ্রাম থেকে আয়োজন করা হয়েছে। মাইজভাণ্ডারী প্রচারণা ও প্রসারের জন্যই এই মেধাবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

কক্ষ পরিদর্শক ও ফাতেমা রমজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “গত দুই বছর ধরে এই বৃত্তি পরীক্ষা চালু হয়েছে। আমি মনে করি, এটি একটি চমৎকার বৃত্তি। প্রশ্নের মান খুব ভালো এবং সম্পূর্ণ গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়।”

এ বিষয়ে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশনের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও পরীক্ষা কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক ইউনূস আলমগীর বলেন, “সিলেবাসের মধ্যে স্কুল-কলেজে পড়ানো বইয়ের পাঠ্যসূচি থেকে ৬০ নম্বরের পরীক্ষা রয়েছে। এছাড়া নৈতিক শিক্ষা ও পরিবেশ বিষয়ক প্রশ্নও রয়েছে। আমরা যারা আয়োজন করেছি, তারা মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মাইজভাণ্ডারী প্রবন্ধের ওপর ১২ নম্বরের প্রশ্ন রেখেছি।”

তিনি আরও বলেন, “গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী, যিনি আধ্যাত্মিক শরাফত সৃষ্টি করেছেন, তিনি হলেন সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী। তাঁর জীবনীর ওপর আমরা কিছু প্রশ্ন রেখেছি।”

এ ধরনের প্রশ্ন কেন রাখা হয়েছে জানতে চাইলে ইউনূস আলমগীর বলেন, “দরবার শরীফ সম্পর্কে জানার জন্য এসব প্রশ্ন করা হয়েছে। দরবারে যেসব ভালো কাজ হয়, সেগুলো সম্পর্কে জানার জন্য এবং দরবার যে সবসময় ভালো ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে আছে, তা জানানোর জন্য এসব প্রশ্ন রাখা হয়েছে।”

জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ তাপস চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “ধর্মীয় বিষয় হওয়ায় এবং বন্ধের দিন থাকায় সভাপতি সাহেবের সঙ্গে কথা বলে আয়োজনের অনুমতি দিয়েছি। এর আগে গত বছরও প্রথমবারের মতো এভাবেই বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা অফিস ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়নি, যেটা সত্য, সেটাই বলছি। আর প্রসপেক্টাসে কী আছে, সেটিও আমি পড়ে দেখিনি। ভবিষ্যতে এই ধরনের আয়োজন এখানে আর করতে পারবে না।”

ভৈরব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামাল উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, “এটা তো অবশ্যই আমাদের সিলেবাস-বহির্ভূত। এ ধরনের আয়োজন তারা কীভাবে করেন, তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। যারা এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, তাদেরও বিষয়টি জেনে-শুনে শিক্ষার্থীদের পাঠানো উচিত ছিল। যেহেতু আমাদের কোনো সরকারি অনুমোদন নেই, এটি কোনো নীতিমালার মধ্যেও পড়ে না। প্রধান শিক্ষকদের উচিত ছিল আয়োজনের আগে প্রশাসন বা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং এ ধরনের আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা জানা।”

তিনি আরও বলেন, “ছুটির দিনে এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে, এটি অবশ্যই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হয়। তাদের কোনো নিজস্ব এজেন্ডা থাকতে পারে। আমার ধারণা, কোনো গোষ্ঠী হয়তো নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক আয়োজন করেছে। এটি সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত এবং শিক্ষা কারিকুলামের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রশাসন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কিংবা আমরা কেউই এ বিষয়ে অবগত নই।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরও বলেন, “বিভিন্ন সংগঠন এ ধরনের আয়োজন করে থাকে। তবে যেহেতু এটি একটি তরিকাপন্থী প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে, সেহেতু তাদের কোনো নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।”

কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা পরিষদের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা পরিষদের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আয়োজন করেছে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ।

শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর সামনে এ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। তাঁর নেতৃত্বে জেলা পরিষদের সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন।

এ সময় খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান বলেন, “ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। জলাশয়, নর্দমা এবং বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানিতে মশা বংশবৃদ্ধি করে। আমাদের নিজ নিজ আঙিনা ও এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে মশার বিস্তার রোধ করতে হবে। জেলা পরিষদ এ বিষয়ে সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে এবং জনসচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মাধ্যমে জেলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জমে থাকা আবর্জনা অপসারণ এবং মশার লার্ভা ধ্বংসের লক্ষ্যে ওষুধ ছিটানো হবে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় জনসাধারণ এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছেন।