সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ফ্যামিলি কার্ডে অনিয়ম-দুর্নীতি বরদাশত নয়: ডেপুটি স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ফ্যামিলি কার্ডে অনিয়ম-দুর্নীতি বরদাশত নয়: ডেপুটি স্পিকার

ফ্যামিলি কার্ড ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জরিপে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য কায়সার কামাল। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে নিজ দলের নেতাকর্মী হলেও তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে ফ্যামিলি কার্ড ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জরিপ-২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের নিয়ে আয়োজিত নির্দেশনামূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় এ সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশকে কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে রূপান্তর করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এর গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ ফ্যামিলি কার্ড। অতীতে টাকার বিনিময়ে বা স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সচ্ছল পরিবারের নাম তালিকাভুক্ত এবং প্রকৃত দরিদ্রদের বঞ্চিত করার অভিযোগ ছিল। এবার এ ধরনের সুযোগ দেওয়া হবে না।

তিনি তথ্য সংগ্রহকারীদের ছাপরা ঘর, গৃহহীন ও সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছ থেকে জরিপ কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেন। সচ্ছল বা পাকা বাড়ির বাসিন্দাদের আগে তালিকাভুক্ত না করারও নির্দেশনা দেন তিনি।

সরকার নির্ধারিত সম্মানী ভাতার বাইরে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার নামে কেউ টাকা দাবি করলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন কায়সার কামাল। তিনি বলেন, অনিয়ম করলে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ পার পাওয়ার সুযোগ পাবে না। স্বজনপ্রীতি বা চাঁদাবাজিতে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় সীমান্ত এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী গারো ও হাজং সম্প্রদায়ের জীবনমান ও সততার প্রশংসা করেন তিনি। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী নৃগোষ্ঠীর পানীয় জল, শিক্ষা ও বাসস্থানের সংকট দূর করতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত নৃগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তিসহ সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর আশ্বাস দেন।

বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে, যা দুঃখজনক। তিনি দিনের আলো কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমস্যার সমাধান করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

বক্তব্যের শেষে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকাবাসীর সেবা করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে কায়সার কামাল বলেন, ‘কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর একটি ফুলের বাগান, আর আমি নিজেকে এই বাগানের একজন মালী মনে করি। আগামী পাঁচ বছর সততার সঙ্গে এই বাগানের পরিচর্যা করে যাব।’

কালেমা পড়ে মৌখিকভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন এমপি গাজী নজরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
কালেমা পড়ে মৌখিকভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন এমপি গাজী নজরুল

জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারকে কালেমা পড়ে মৌখিকভাবে বিয়ে করেছিলেন বলে ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। পরে নিজ এলাকায় ওই বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রি করা হয় বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দফার রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে গাজী নজরুল জানান, মামলার বাদী তার পূর্ব আত্মীয় এবং সম্পর্কে ভাগিনা। মরিয়ম তার নাতনি-সম্পর্কের আত্মীয়। ঢাকায় এলে তিনি প্রায়ই বাদীর বাসায় থাকতেন এবং সংসদ সদস্য হিসেবে তার বিভিন্ন কাজকর্ম সেখান থেকেই পরিচালনা করতেন। সেই সূত্রে মরিয়মের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে এবং গত ১৭ জুন তিনি কালেমা পড়ে মৌখিকভাবে মরিয়মকে বিয়ে করেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, এটি একটি চাঞ্চল্যকর মামলা। রিমান্ডে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। এ অবস্থায় আসামিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হলে তদন্তে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাই তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় চার দিনের এবং ২৪ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় আরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।

উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।

মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলায় গ্রেপ্তারের পর মাকসুদা ইসলাম এক দিনের রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর এবং ওবায়দুর রহমান ২৩ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠানো হন।

টেকনাফ সীমান্তে জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, বিজিবির হাতে ২ লাখ পিস উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
টেকনাফ সীমান্তে জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, বিজিবির হাতে ২ লাখ পিস উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে জেলের ছদ্মবেশে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচারের সময় ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী মেজরের ঘের এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)।

৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, নিয়মিত টহলের সময় উনচিপ্রাং বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৭ থেকে প্রায় ৫০০ মিটার উত্তরে মেজরের ঘের এলাকায় এক ব্যক্তিকে মাথায় মাছভর্তি একটি ক্যারেট নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখে। বিজিবি সদস্যরা তাকে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি ক্যারেটটি ফেলে পাশের গ্রামের দিকে পালিয়ে যান।

পরে বিজিবি সদস্যরা ক্যারেটটি তল্লাশি করে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের বায়ুরোধী প্যাকেটের ২০টি কার্টনে রাখা ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়েও আর কোনো অবৈধ মালামাল পাওয়া যায়নি।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ইয়াবা সরবরাহকারী ও এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

হোসেনপুরে বিএমইউজের উদ্যোগে দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

এস কে শাহীন নবাব প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে বিএমইউজের উদ্যোগে দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) হোসেনপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিএমইউজে হোসেনপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হোসেনপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও ‘জুলাই যোদ্ধা’ শওকত হোসেন।

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএমইউজের সভাপতি খাইরুল ইসলাম, জেলা প্রতিনিধি মো. আজিজুল হক ফাহিম, হোসেনপুর উপজেলা বিএমইউজের সভাপতি ও ‘দৈনিক নওরোজ’-এর উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক এসকে শাহীন নবাব, ‘দৈনিক কালের নতুন সংবাদ’-এর উপজেলা প্রতিনিধি আতাহার আলী মৃধা, ‘দৈনিক কিশোরগঞ্জ’-এর উপজেলা প্রতিনিধি সনজিৎ শীল, ‘সাপ্তাহিক সুরুক’-এর প্রতিনিধি মো. তাওহীদ হাসান, ‘দৈনিক জনতার শক্তি’-এর বিশেষ প্রতিনিধি মো. সুজন মিয়া ও প্রতিনিধি শাহ আলম মাহাবুব রাজীব, ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও ‘অপরাধ জগত’-এর উপজেলা প্রতিনিধি মো. রাজীব আহমেদ পিয়াস, ‘কালের নতুন সংবাদ’-এর ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি মো. জাহিদুল ইসলাম এবং ‘এসকে বাংলা টিভি’-এর বিশেষ প্রতিনিধি মো. মোস্তফা আহমেদ ডালিম।

বৃক্ষরোপণকালে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশকে সবুজ ও বাসযোগ্য রাখতে সামাজিক দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে বিএমইউজে হোসেনপুর উপজেলা শাখা নিয়মিত এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

কর্মসূচি শেষে আয়োজকেরা জানান, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় বিএমইউজে ভবিষ্যতেও এ ধরনের পরিবেশবান্ধব ও জনহিতকর কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।