মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩

ইইউ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে সন্তোষজনক মূল্যায়ন পেল সংসদ নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ইইউ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে সন্তোষজনক মূল্যায়ন পেল সংসদ নির্বাচন

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস বলেছেন, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য এবং দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। তিনি বলেন, এ নির্বাচন গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ইভার্স ইজাবস বলেন, ২০০৮ সালের পর এই প্রথম নির্বাচনটি প্রকৃত অর্থে প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে। একটি নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে নির্বাচনটি পরিচালিত হয়, যা মূলত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মৌলিক স্বাধীনতাগুলোকে উল্লেখযোগ্যভাবে মর্যাদা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, কিছু বিক্ষিপ্ত স্থানীয় রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও সেগুলোর অনেকটাই অনলাইনে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্যের ফল, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে কাজ করেছে এবং স্টেকহোল্ডারদের আস্থা বজায় রেখে নির্বাচনের অখণ্ডতা নিশ্চিত করেছে। পর্যবেক্ষক মিশনের মতে, বিদ্যমান নির্বাচনি আইনি কাঠামো গণতান্ত্রিক নির্বাচন পরিচালনার জন্য উপযোগী এবং ২০২৫ সালের সংশোধনীগুলো অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।

তবে তিনি উল্লেখ করেন, আইনি নিশ্চয়তা আরও জোরদার করতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ন করে—এমন ফাঁকফোকর দূর করতে অতিরিক্ত সংস্কার প্রয়োজন।

ইভার্স ইজাবস বলেন, সদ্য নিযুক্ত নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে একটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারসহ অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সমর্থনের মধ্য দিয়ে কমিশন স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। কমিশন সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের দ্রুত জবাব দিয়েছে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ বজায় রেখেছে।


নামফলক অপসারণকে ‘অপকর্ম’ বললেন ভিপি সোহেল, বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ
নামফলক অপসারণকে ‘অপকর্ম’ বললেন ভিপি সোহেল, বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস

কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল বলেছেন, অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না; প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) কিশোরগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত শিল্প ও বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত কিশোরগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামের উদ্বোধন করেছিলেন। একই দিনে কিশোরগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটেরও উদ্বোধন করা হয়।

খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল অভিযোগ করেন, সময়ের ব্যবধানে স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী নামফলক অপসারণ করা হয়েছে। এ ঘটনাকে ‘অপকর্ম’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এ কাজে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা প্রয়োজন। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

হোসেনপুরে নির্মাণকাজে বাধার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে নির্মাণকাজে বাধার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় নিজস্ব জমিতে ভবন নির্মাণকাজে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মুহাম্মদ রুহুল আমিন।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ঢেকিয়া এলাকার নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে রুহুল আমিন জানান, হোসেনপুর থানাধীন ঢেকিয়া এলাকার হনুমানতলা খাজা স্টুডিওর সামনে পশ্চিম পাশে তার নিজস্ব ক্রয়কৃত জমিতে তিনতলা ফাউন্ডেশনের একটি ভবন নির্মাণ করছেন। নির্মাণকাজ চলাকালে পাশের একটি টিনের ছাউনায় সামান্য বালু পড়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

তিনি জানান, পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে তা নতুন টিন দিয়ে মেরামত করে দেওয়া হবে। উভয় পক্ষ এ সিদ্ধান্তে সম্মত হলেও পরবর্তীতে প্রতিবেশী আশরাফুল আলম ও তার ছেলে অনিক মিয়া নির্মাণকাজে বাধা দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রুহুল আমিনের দাবি, ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিবাদীপক্ষ ধারাবাহিকভাবে ভবনের প্লাস্টারের কাজে বাধা প্রদান করে আসছে। ফলে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার নির্মাণসামগ্রী নষ্ট হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভবনটি প্লাস্টারবিহীন অবস্থায় থাকায় বৃষ্টির পানি দেয়াল বেয়ে বৈদ্যুতিক লাইনে প্রবেশ করছে, যা থেকে শর্ট সার্কিট ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৫ মার্চ ২০২৬ কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানালে তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং কাজ করলে দাঙ্গা-হাঙ্গামার হুমকি দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে রুহুল আমিন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “নিজস্ব জমিতে বৈধভাবে ভবন নির্মাণে যেন কোনো বাধা না থাকে এবং নিরাপদে কাজ সম্পন্ন করতে পারি—সেজন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

বর্ণিল আয়োজনে কিশোরগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
বর্ণিল আয়োজনে কিশোরগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন

বছর ঘুরে আবারও এলো বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। জীর্ণ-পুরাতন, অশুভ ও অসুন্দরকে পেছনে ফেলে নতুনের আহ্বান নিয়ে শুরু হয়েছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। এ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হয়েছে।

মঙ্গলবার(১৪ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরিবেশনায় অংশ নেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা। পরে বেলুন উড়িয়ে বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনের পর বর্ণিল আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি পুরাতন স্টেডিয়াম থেকে শুরু হয়ে আখড়াবাজার মোড়সহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্টেডিয়ামে এসে শেষ হয়। ঢাক-ঢোল, মুখোশ, ব্যানার ও লোকজ উপকরণে সাজানো এই শোভাযাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।

দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে জেলা শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণীজন ইসলাম উদ্দীন পালাকারের পরিবেশনা বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে। নাচ, গান ও কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার ড. এম. এম. ফরহাদ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুধীজন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন। পরে দলীয় নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

একই দিনে কিশোরগঞ্জ সরকারি গুরুদয়াল কলেজ, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-এর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও পৃথকভাবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করেন। এসব আয়োজন শহরের উৎসবমুখর পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

এদিকে, বৈশাখী মেলায় বিভিন্ন স্টলে দেশীয় পণ্য ও লোকজ সামগ্রী প্রদর্শন করা হয়, যা দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপর উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পুরো আয়োজন সম্পন্ন হয়। নববর্ষকে ঘিরে কিশোরগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ। নতুন বছরের প্রত্যাশা ও শুভকামনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো শহর।