সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মাদক পাচারের পথে ভৈরবে আটক দম্পতি, গাঁজা উদ্ধার

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
মাদক পাচারের পথে ভৈরবে আটক দম্পতি, গাঁজা উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ২ কেজি গাঁজাসহ এক দম্পতিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভৈরব সার্কেল কার্যালয়। আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

সোমবার (৮ জুন) সকাল ১০টার দিকে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল এলাকার বাসিন্দা মো. ঝন্টু মিয়া (৩৬) এবং তার স্ত্রী আঁখি আক্তার শিউলী (২৮)। ঝন্টু মিয়া ওই এলাকার শানু মিয়ার ছেলে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আকবরনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ভৈরব থেকে কিশোরগঞ্জগামী একটি ভাড়ায় চালিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।

তল্লাশিকালে আঁখি আক্তার শিউলীর হাতে থাকা একটি শপিং ব্যাগ থেকে কাপড়ে মোড়ানো এবং স্কচটেপ দিয়ে প্যাঁচানো অবস্থায় প্রায় ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই আটক করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে ভৈরবে নিয়ে আসেন। পরে সেখান থেকে কিশোরগঞ্জে যাওয়ার উদ্দেশ্যে অন্য একটি সিএনজিতে যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা তাদের আটক করেন।

ভৈরব মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর বলেন, “আটককৃত স্বামী-স্ত্রী দুজনই চিহ্নিত মাদক কারবারি। তাদের বিরুদ্ধে ভৈরবসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। স্বামী-স্ত্রী পরিচয়কে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কৌশলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদক পাচার করে আসছিল।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক সংগ্রহ, বিক্রি ও পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। বর্তমানে মাদক পাচারকারীরা ভৈরবকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পুরুষের পাশাপাশি নারী মাদক কারবারির সংখ্যাও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।”

তিনি জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের ভৈরব থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক পাচার ও কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলনে অচলাবস্থা, উদ্বেগে রোগী-স্বজনরা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলনে অচলাবস্থা, উদ্বেগে রোগী-স্বজনরা

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি নোটিশ প্রত্যাহারসহ ছয় দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। একই দাবিতে মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘একাডেমিক শাটডাউন’ কর্মসূচির কারণে শিক্ষা কার্যক্রমও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষাকার্যক্রম—উভয় ক্ষেত্রেই সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পাশাপাশি মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নোটিশ চিকিৎসকদের স্বার্থবিরোধী, বৈষম্যমূলক এবং অযৌক্তিক। এ কারণে তাঁরা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় ৬৪৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। নিয়মিত চিকিৎসকদের পাশাপাশি প্রায় ৮০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক বিভিন্ন ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করেন। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি চলায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ভর্তি রোগীদের নিয়মিত তদারকি, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে সংকট তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগের সামনে রোগীদের দীর্ঘ সারি। দূরদূরান্ত থেকে আসা শত শত রোগী চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করছেন। টিকিট কাউন্টার খোলা থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক সংকট থাকায় অনেক রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডেও দেখা দিয়েছে অতিরিক্ত চাপ। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে দায়িত্বরত নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। ফলে রোগীদের নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ফলোআপ এবং ওষুধ ব্যবস্থাপনায় বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তাড়াইল উপজেলা থেকে অসুস্থ মাকে নিয়ে হাসপাতালে আসা মো. রহমত আলী বলেন, “সকাল থেকে মাকে নিয়ে হাসপাতালে দাঁড়িয়ে আছি। টিকিট কেটেছি, কিন্তু এখনও ডাক্তার দেখাতে পারিনি। ভেতরে গিয়ে দেখি চিকিৎসক নেই। গরিব মানুষের কষ্ট দেখার যেন কেউ নেই।”

মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি এক রোগীর স্বজন হোসেনপুর উপজেলার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার ভাইকে দুই দিন আগে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। বড় ডাক্তাররা রাউন্ড দিয়ে চলে যাওয়ার পর কোনো সমস্যা হলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পাওয়া যেত। কিন্তু গত দুই দিন ধরে তাঁদের দেখা মিলছে না। রোগী নিয়ে আমরা উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে আছি।”

দুপুরের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মো. আবু ইউসুফ, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আদনান কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তওসিফ ফারহান সামি, মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাফিউল সাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মোক্তাদির আল বিরুনী।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, তাঁদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ বা ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাঁরা আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মো. আবু ইউসুফ বলেন, “আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আমরা কখনোই রোগীদের কষ্ট দিতে চাই না। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দাবি উপেক্ষিত হওয়ায় বাধ্য হয়েই কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”

এদিকে কর্মবিরতি দীর্ঘায়িত হলে চিকিৎসাসেবার সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনরা। দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন এবং হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বালিখলা ফেরিঘাটে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ শুরু, স্বস্তি ফিরবে হাওরাঞ্চলের যাত্রীদের

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:২৫ অপরাহ্ণ
বালিখলা ফেরিঘাটে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ শুরু, স্বস্তি ফিরবে হাওরাঞ্চলের যাত্রীদের

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বালিখলা ফেরিঘাটে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিতব্য এ যাত্রী ছাউনির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হাওরাঞ্চলের হাজারো মানুষের যাতায়াত আরও স্বস্তিদায়ক হবে।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জ্বল, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফজলুল রহমান, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, বালিখলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কুতুব উদ্দিন, বাজার কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালিখলা ফেরিঘাটটি করিমগঞ্জ, ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামসহ বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ ঘাট ব্যবহার করে যাতায়াত করলেও এতদিন সেখানে যাত্রীদের বসার বা আশ্রয় নেওয়ার উপযুক্ত কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ফলে রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।

ইটনা উপজেলার বাসিন্দা ও নিয়মিত যাত্রী মো. আব্দুল কাদির বলেন, “বালিখলা ঘাট দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু এখানে বসার কিংবা বৃষ্টির সময় আশ্রয় নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। যাত্রী ছাউনি নির্মিত হলে সাধারণ মানুষ অনেক উপকৃত হবে।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “হাওরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাটে দীর্ঘদিন ধরেই একটি যাত্রী ছাউনির প্রয়োজন ছিল। অবশেষে সেই দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছাউনির পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও শৌচাগার নির্মাণ করা হলে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও কমবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান বলেন, “ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রামসহ বিশাল হাওরাঞ্চলের লাখো মানুষ প্রতিদিন বালিখলা ফেরিঘাট ব্যবহার করেন। রোদ, বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে অনেক সময় তাদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। যাত্রীদের এই দুর্ভোগ কমানোর লক্ষ্যেই যাত্রী ছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণ এখানে একটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে সরকারি জায়গায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, যাত্রী ছাউনির সঙ্গে আধুনিক টয়লেট ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধার ব্যবস্থাও রাখা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ আরও স্বাচ্ছন্দ্যে সেবা গ্রহণ করতে পারেন। পাশাপাশি ঘাট এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এ অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সম্প্রতি মিঠামইন-করিমগঞ্জ নৌপথে সংঘটিত ছিনতাইয়ের ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “হাওরাঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।”

জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “নতুন পুলিশ সুপার দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। করিমগঞ্জ থানার নতুন ওসিও দায়িত্ব পালনে আন্তরিক ও তৎপর। তবে একটি এলাকার পরিবেশ ও সমস্যাগুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে একজন কর্মকর্তার কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়।”

জেলা পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, “জেলা পরিষদ মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে ১৫ থেকে ২০টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ৩০ থেকে ৪০টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।”

তিনি বলেন, “জেলা পরিষদ মানুষের সেবার জন্য কাজ করে। জনগণের যেকোনো যৌক্তিক দাবি ও প্রয়োজন পূরণে আমরা সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাব।”

এদিকে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ করে যাত্রী ছাউনিটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ঘাট এলাকায় নিরাপত্তা, আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

‘স্বপ্নসারথী’ কিশোরীদের স্বাবলম্বী করতে হাঁস-মুরগি পালন প্রশিক্ষণ

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ২:৫৮ অপরাহ্ণ
‘স্বপ্নসারথী’ কিশোরীদের স্বাবলম্বী করতে হাঁস-মুরগি পালন প্রশিক্ষণ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে কিশোরীদের আত্মকর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্র্যাকের উদ্যোগে হাঁস-মুরগি পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কিশোরীদের মুরগি পালন, পরিচর্যা, রোগ প্রতিরোধ ও খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়।

সোমবার (৮ জুন) সকালে ব্র্যাক করিমগঞ্জ এরিয়া অফিসের হলরুমে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি এবং ব্র্যাক মাইক্রোফিন্যান্স কর্মসূচির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রকল্পভুক্ত ‘স্বপ্নসারথী’ ২০ জন কিশোরী অংশগ্রহণ করেন।

দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা করেন করিমগঞ্জ উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মুকছুদুল হক। তিনি কিশোরীদের হাঁস-মুরগি পালনকে একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন কৌশল, রোগব্যাধি প্রতিরোধ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং খামার পরিচালনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির জোনাল ম্যানেজার প্রশান্ত কুমার দে, জেলা কো-অর্ডিনেটর সাফরিনা জান্নাত, জেলা ব্যবস্থাপক গোলাম শফিউল আলম, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (প্রগতি) আশরাফ হোসেন এবং শাখা ব্যবস্থাপক (দাবি) মো. মোবারক হোসেন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কিশোরীদের শুধু হাঁস-মুরগি পালন বিষয়ক কারিগরি জ্ঞানই দেওয়া হয়নি, বরং তাদের কর্মমুখী কার্যক্রমে সম্পৃক্তকরণ, আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, নেতৃত্বের বিকাশ এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ আলোচনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, কিশোরীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে তারা পরিবার ও সমাজে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার মাধ্যমে বাল্যবিবাহ, ঝরে পড়া এবং সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা সহজ হবে।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কিশোরীরা জানান, এ ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং ভবিষ্যতে ছোট পরিসরে খামার গড়ে তুলে আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

ব্র্যাক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কর্মসূচির আওতায় দেশের ৩৩টি জেলার ২৬৩টি উপজেলায় মোট ৭ হাজার ৫৬০ জন কিশোরীকে হাঁস-মুরগি পালন বিষয়ে সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া ২০০ জন কিশোরীকে আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হবে।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে কিশোরীদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।