শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩

সাত দিনব্যাপী শেষ বিদায় শুরু: খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে লাখো মানুষের ঢল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সাত দিনব্যাপী শেষ বিদায় শুরু: খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে লাখো মানুষের ঢল

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সাত দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় দাফন ও শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ এ রাষ্ট্রীয় আয়োজনে কোটি কোটি শোকাহত মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে এ উপলক্ষে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা, শোকসভা, শোকমিছিল ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর শুরু হওয়া এ আনুষ্ঠানিকতাকে ইরানি কর্মকর্তারা ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় বিদায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজিত এ কর্মসূচি শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; বরং জাতীয় ঐক্য, রাজনৈতিক বার্তা এবং রাষ্ট্রীয় সংহতিরও প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, শেষ বিদায়ে এক কোটি ২০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। সম্ভাব্য এই বিপুল জনসমাগমকে সামনে রেখে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ নিরাপত্তা ও লজিস্টিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তুতির অংশ হিসেবে হাজারো সেবাকেন্দ্র (মাওকিব) স্থাপন, ১০ লাখেরও বেশি মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা, চিকিৎসাসেবা, নিরাপত্তা এবং তেহরানের কেন্দ্রজুড়ে পৃথক প্রবেশ ও বহির্গমন পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) তেহরানভিত্তিক ‘মোহাম্মদ রাসুলুল্লাহ কর্পস’।

ইরানি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক ডজন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্ট স্পিকার, মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা শেষকৃত্যের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৮০০ বিদেশি সাংবাদিক এ আয়োজন কাভার করছেন। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদও ইতোমধ্যে তেহরানে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।

রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের প্রতীক হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে মুষ্টিবদ্ধ হাতের প্রতীক এবং ‘আমাদের জেগে উঠতেই হবে’ স্লোগান।

শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় তেহরানের গ্র্যান্ড মুসাল্লা কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। রোববার বিকেল পর্যন্ত সাধারণ মানুষ সেখানে গিয়ে প্রয়াত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাবেন।

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডার হাসান হাসানজাদেহ জানান, খামেনির কফিন একটি উঁচু মঞ্চে রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার মরদেহ কোম শহরে নেওয়া হবে। সেখানে জামকারান মসজিদে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বুধবার মরদেহ ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার তা আবার ইরানে ফিরিয়ে এনে তাঁর জন্মশহর মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.) মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে।

দাফনের পর দেশজুড়ে আরও ৪০ দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পর্যন্ত বিভিন্ন স্মরণানুষ্ঠান আয়োজনের কথাও জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই শেষকৃত্য কেবল ধর্মীয় আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়; এটি ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আয়োজনও। তাঁদের ধারণা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে রাষ্ট্র জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি খামেনি-পরবর্তী নেতৃত্বের প্রতি জনসমর্থন আরও সুসংহত করার চেষ্টা করবে। তবে এত বড় আয়োজন দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন কমাতে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

এদিকে শেষকৃত্যকে ঘিরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো স্পষ্ট হয়নি। প্রথমত, খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কি না। দ্বিতীয়ত, জানাজার নামাজে কে ইমামতি করবেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দুটি বিষয়ই ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও ক্ষমতার ভারসাম্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করতে পারে।

ছুটির দিনেও হাওরে জেলা পরিষদ প্রশাসক ভিপি সোহেল

রেজাউল হক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
ছুটির দিনেও হাওরে জেলা পরিষদ প্রশাসক ভিপি সোহেল

ছুটির দিন শুক্রবারেও হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, পর্যটন পরিস্থিতি ও জেলা পরিষদের চলমান কার্যক্রম দেখতে মাঠে ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান (ভিপি সোহেল)। শুক্রবার (২১ আগস্ট) তিনি নিকলী ও মিঠামইন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে মিঠামইনের কামালপুরে জেলা পরিষদ পরিচালিত হাওর বিলাস পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় হাওর বিলাস রেস্ট হাউজের আঙিনায় থাকা গাছের চারার পরিচর্যা ও সংরক্ষণে কর্মরতদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। পরিবেশের ভারসাম্য, জলবায়ু ও দেশের সবুজায়নে গাছের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি নিজেও গাছের গোড়ায় মাটি দেওয়া ও পরিচর্যার কাজে অংশ নেন।

প্রশাসকের এ উদ্যোগে উৎসাহিত হন রেস্ট হাওর বিলাস-র কর্মীরা। তাঁদের কয়েকজন বলেন, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিজ হাতে গাছের পরিচর্যায় অংশ নিলে কর্মীদের মধ্যেও কাজের প্রতি আগ্রহ ও দায়িত্ববোধ বাড়ে।

হাওর ভ্রমণের সময় নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেন জেলা পরিষদ প্রশাসক। নৌযানে ওঠার সময় তিনি নিজেও লাইফ জ্যাকেট পরিধান করেন এবং সঙ্গে থাকা অন্যদেরও লাইফ জ্যাকেট পরতে বলেন। একই সঙ্গে হাওরে ভ্রমণকারী পর্যটক ও যাত্রীদেরও নৌযানে ওঠার আগে বাধ্যতামূলকভাবে লাইফ জ্যাকেট পরিধানের পরামর্শ দেন তিনি।

স্থানীয় নৌকার মাঝি, ট্রলার মালিক ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য নৌযানে পর্যাপ্ত সংখ্যক লাইফ জ্যাকেট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম রাখার নির্দেশনা দেন ভিপি সোহেল। আবহাওয়ার পূর্বাভাসের দিকে নজর রেখে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নৌযান পরিচালনারও পরামর্শ দেন তিনি।

বর্তমানে হাওরে ঝোড়ো বাতাস ও বড় ঢেউ থাকায় নৌপথে পর্যটকদের চলাচল কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা শোনেন তিনি। নৌযান চলাচল, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং হাওরকেন্দ্রিক পর্যটনের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

পরিদর্শনকালে হাওরাঞ্চলে জেলা পরিষদের বিভিন্ন চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও বর্তমান অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রকল্পগুলোর কাজের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতির খোঁজ নেন।

খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান (ভিপি সোহেল) কিশোরগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। তিনি জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ছাত্ররাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি হিসেবেও পরিচিত।

দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুবাদে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়ার পরও মাঠপর্যায়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সরেজমিনে দেখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

ছুটির দিনে হাওরাঞ্চল পরিদর্শনও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক পরিধির পাশাপাশি জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন বিষয় সরাসরি পর্যবেক্ষণ এবং মানুষের কাছে গিয়ে তাঁদের কথা শোনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ভিপি সোহেল।

কিশোরগঞ্জের তিন উপজেলায় কাল শুরু কলেরা টিকাদান, আওতায় ৭ লাখ ২৫ হাজার মানুষ

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের তিন উপজেলায় কাল শুরু কলেরা টিকাদান, আওতায় ৭ লাখ ২৫ হাজার মানুষ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল উপজেলায় আগামীকাল শনিবার (২২ আগস্ট) শুরু হচ্ছে ‘ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন (OCV) ক্যাম্পেইন-২০২৬’। এ কর্মসূচির আওতায় তিন উপজেলায় এক বছর বা তার বেশি বয়সী ৭ লাখ ২৫ হাজার ১৩৮ জনকে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গর্ভবতী নারীরা এ টিকার আওতায় থাকবেন না।

এর মধ্যে করিমগঞ্জে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮১, হোসেনপুরে ২ লাখ ৭ হাজার ১৪১ এবং তাড়াইলে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫১৬ জনকে টিকা দেওয়া হবে।

আগামীকাল থেকে প্রথম ডোজ দেওয়া শুরু হয়ে এ কার্যক্রম চলবে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। পূর্ণ সুরক্ষার জন্য প্রথম ডোজ গ্রহণের কমপক্ষে ১৪ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করতে হবে।

টিকাদান কার্যক্রম প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত দিনগুলোতে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিকা দেওয়া হবে। অন্যান্য দিনে নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্র, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মোবাইল টিকাদান দলের মাধ্যমে সব বয়সী উপযুক্ত নাগরিককে টিকার আওতায় আনা হবে।

আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। কিশোরগঞ্জ-১ (সদর ও হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম এর উদ্বোধন করবেন। এ সময় জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

উদ্বোধনী কার্যক্রমের জন্য করিমগঞ্জে চর দেহুন্দা কমিউনিটি ক্লিনিক ও জ্ঞান সিঁড়ি স্কুল, হোসেনপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং তাড়াইলে দারুল হুদা কাসেমুল উলুম মাদ্রাসা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, টিকা গ্রহণের আগে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর দেওয়া কার্ডটি পরবর্তী সময়ে হেলথ কার্ড হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিন উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে তিনটি করে টিম টিকাদান কার্যক্রমে কাজ করবে। করিমগঞ্জের ১১টি ইউনিয়নের ৩৩টি, হোসেনপুরের ছয়টি ইউনিয়নের ১৮টি এবং তাড়াইলের সাতটি ইউনিয়নের ২১টি ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন (ওসিভি) ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর সমন্বয় ও অবহিতকরণ সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. আজিজুল হক তানজিল এবং ইউনিসেফের ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর হোসেন মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ইউনিসেফের ইপিআই বিশেষজ্ঞ ডা. তরিকুল ইসলাম।

সভায় টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে সংবাদমাধ্যম, ধর্মীয় নেতা, ইমাম-মুয়াজ্জিন, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

সভায় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মোস্তারী কাদেরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মী, সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমনসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনও, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS) ও আইসিডিডিআর,বি’র (icddr,b) যৌথ ব্যবস্থাপনায় দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয়ভাবে এ কর্মসূচির আওতায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার তত্ত্বাবধানে গ্যাভি (Gavi), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউনিসেফ (UNICEF) ও আইএফআরসি (IFRC)-এর সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জের তিন উপজেলা ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন এলাকা, মুন্সীগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর উপজেলায় এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পূর্ণ সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয়—দুই ডোজ টিকা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অনুপস্থিতির কারণ জানালেন বিএনপি নেতা

রেজুয়ানুল হক পূর্ণ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সফর ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অনুপস্থিতির কারণ জানালেন বিএনপি নেতা

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক বর্তমানে ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন করিমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুর রহমান বিপ্লব।

নিজের ফেসবুক পোস্টে হাবিবুর রহমান বিপ্লব জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশন গত ১৫ জুলাই শেষ হওয়ার পর ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান ড. এম ওসমান ফারুক।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফরে ড. এম ওসমান ফারুকের অনুপস্থিতি এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাঁর ভোট না দেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করছে।

হাবিবুর রহমান বিপ্লব বলেন, এ ধরনের মন্তব্যের সমুচিত জবাব দেওয়া করিমগঞ্জ-তাড়াইলের প্রতিটি জাতীয়তাবাদী কর্মী-সমর্থকের দায়িত্ব। একই সঙ্গে ড. এম ওসমান ফারুকের অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা না চালানোর আহ্বান জানান তিনি।

ফেসবুক পোস্টে হাবিবুর রহমান বিপ্লব ড. এম ওসমান ফারুককে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেন।