ভৈরবে প্রতিবেশী দম্পতির মারধরে ষাটোর্ধ্ব নারীর মৃত্যু
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রতিবেশী স্বামী-স্ত্রীর মারধরে লিলি বেগম (৬০) নামে এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণপাড়া (গাইনহাটি) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লিলি বেগম জগন্নাথপুর দক্ষিণপাড়া (গাইনহাটি) এলাকার মৃত সুরুত আলীর স্ত্রী। তিনি হাজী ধন মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর মিয়া (৩৫) একই এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে। তার স্ত্রী লিমা বেগম (৩০)-কেও এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তারা বাড়িঘরে তালা দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে নিজ বাড়ির উঠোনে ঝাড়ু দিচ্ছিলেন লিলি বেগম। এ সময় প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর মিয়ার ১০ বছর বয়সী ছেলে আলিফ সাইকেল চালানোর সময় অসাবধানতাবশত লিলি বেগমের শরীরে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পরিবারের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে অভিযোগ অনুযায়ী, জাহাঙ্গীর মিয়া ও তার স্ত্রী লিমা বেগম লিলি বেগমকে মারধর করেন। স্বজনদের দাবি, বাঁশ ও ইট দিয়ে আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রতিবেশী বকুল বেগম ও বেদেনা বেগম জানান, লিলি বেগম ও তার সন্তানরা অত্যন্ত নিরীহ প্রকৃতির মানুষ। অভিযুক্ত পরিবারের সঙ্গে পূর্ব থেকেই তাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল। শুক্রবার বিকেলের তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে লিলি বেগমকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয়রা আরও জানান, লিলি বেগমের স্বামী অনেক আগেই মারা গেছেন। তার দুই মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে এবং একমাত্র ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী। সংসারের হাল ধরতে তিনি মানুষের বাড়িতে কাজ করতেন। তার ছেলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে টিফিন সরবরাহের কাজ করতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তার মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
নিহতের মেয়ে সৌরভি অভিযোগ করে বলেন, “আমার মাকে জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমাদের সংসার তিনিই চালাতেন। আমরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস বলেন, “ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”














Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array