মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০১ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিএনপির

বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির একাধিক নেতা। তাঁদের ভাষ্য, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন।

তবে এ বিষয়ে এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত দলীয় সূত্রের বক্তব্য হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দলীয় চেয়ারম্যান মির্জা ফখরুলের নাম প্রায় নিশ্চিতভাবেই চূড়ান্ত করেছেন। দীর্ঘদিনের বিএনপি মহাসচিবই রাষ্ট্রপতি পদে দলের পছন্দ।’

দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষমতা বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হলেও তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত হননি।

তবে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একজন নেতা দাবি করেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে রোববার নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি। দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

এর আগে বিএনপির সর্বশেষ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষমতা সর্বসম্মতভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয় বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রয়োজন হলে ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ হবে।

তবে একাধিক প্রার্থী না থাকলে সংসদে ভোটের প্রয়োজন হবে না। সে ক্ষেত্রে একক প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হতে পারে।

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির বাইরে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সহ ১১ দলীয় জোট অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ইতোমধ্যে এই জোট রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ তথ্য জানান।

ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী জোট—দুই পক্ষেরই প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির মহাসচিব পদটি শূন্য হবে। দীর্ঘদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন নেতৃত্ব আসা নিয়ে ইতোমধ্যে দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেন। পরে ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দৃশ্যমান নেতা হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থানের সময় দল পরিচালনায় মির্জা ফখরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দলের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্য ধরে রাখার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখেন।

দলের ভেতরে নতুন মহাসচিব হিসেবে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় রয়েছে।

দলীয় একটি সূত্রের দাবি, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে রুহুল কবির রিজভীকে আপাতত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে অথবা কাউন্সিলের সময় নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত করার আগ পর্যন্ত দলটি একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে বলেও বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে।

গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়। বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এবং বিরোধী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই প্রক্রিয়া এখন প্রকাশ্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিকে এগোচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং একই সঙ্গে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচন—দুই ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশে প্রযুক্তি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্থাপনে ভিসাকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে প্রযুক্তি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্থাপনে ভিসাকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাপী আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভিসা। একই সঙ্গে ডিজিটাল আর্থিক সেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল পেমেন্ট ও প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভিসার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন কার্পিনের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে স্টিফেন কার্পিন বাংলাদেশে ভিসার বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আগ্রহের কথা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল আর্থিক সেবা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে কাজ করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

ভিসার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট বলেন, যেসব ব্যাংক হিসাবধারী এখনো কার্ড ব্যবহারের আওতার বাইরে রয়েছেন, তাদের কার্ড ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং দেশে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি বাড়াতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করতে চায় ভিসা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, সহজ ও দ্রুত করার ক্ষেত্রেও ভিসা কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান স্টিফেন কার্পিন।

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেন আরও সহজ করতে মেট্রোরেল, টোল প্লাজা ও এক্সপ্রেসওয়েসহ বিভিন্ন সরকারি ও জনসেবামূলক ব্যবস্থায় ভিসা কার্ড ব্যবহারের সুযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও ক্রিয়েটিভ ইকোনমির বিকাশে অবদান রাখার আগ্রহের কথাও জানান ভিসার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট। বিশেষ করে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় নিরাপদ ও সহজে দেশে আনার জন্য কার্যকর ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ভিসার একটি প্রযুক্তি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার অথবা গ্লোবাল সার্ভিস সেন্টার স্থাপনের জন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিকে আহ্বান জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবা ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণে বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানান। তিনি বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিসার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং ভিসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পাঁচজনের পাঁচজনই ফেল, আট শিক্ষক নিয়েও ব্যর্থতার খবরে প্রশ্ন

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
পাঁচজনের পাঁচজনই ফেল, আট শিক্ষক নিয়েও ব্যর্থতার খবরে প্রশ্ন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের কাজিহাটি গ্রামের জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যালয়টির মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচ শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির মানবিক বিভাগ থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী পাঁচ শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়টির শতভাগ পরীক্ষার্থীই ফেল করেছে।

বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক মো. জাকিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে আটজন শিক্ষক রয়েছেন। অন্যদিকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী। শিক্ষকসংখ্যার তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম হলেও একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে না পারায় বিদ্যালয়ের পাঠদান ও একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের কয়েকজনের ভাষ্য, শিক্ষার্থীসংখ্যা কম হলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রতি আলাদাভাবে নজর দেওয়ার সুযোগ বেশি থাকার কথা। সে ক্ষেত্রে পাঁচজন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শ্রেণি কার্যক্রম, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিক্ষার্থী কম থাকলে শিক্ষকদের পক্ষে প্রত্যেকের পড়াশোনার অগ্রগতি আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করা সহজ হয়। কিন্তু এবারের ফলাফল দেখে মনে হচ্ছে, কোথাও না কোথাও ঘাটতি থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ বের করা প্রয়োজন।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, একটি বছরের ফলাফলের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক শিক্ষার মান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। একই সঙ্গে শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার মতো ফলাফল অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতি, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক কার্যক্রম ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা জরুরি।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জাকির বলেন, ‘আমি বাইরে রয়েছি। ফলাফল এখনো জানতে পারিনি।’ তিনি বিদ্যালয়ে আটজন শিক্ষক থাকার কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে।

তবে প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবার পাঠদানের অনুমতি পাওয়ার বিষয়টি এবারের শূন্য পাসের হারের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, কিংবা এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য কী ধরনের একাডেমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল—এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এদিকে বিদ্যালয়টির এমন ফলাফলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি ভিজিট করা হবে। ফলাফল এমন হওয়ায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শোকজ করা হবে।’

শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, পাঠদানের ঘাটতি, পরীক্ষার প্রস্তুতির দুর্বলতা, একাডেমিক তদারকির অভাব কিংবা অন্য কোনো কারণে এমন ফল হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করতে হবে।

বিশেষ করে মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পরও সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের যোগাযোগ ও সমন্বয় কতটা কার্যকর ছিল, সেটিও দেখা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নত করা সম্ভব। নিয়মিত পাঠদান, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস, ধারাবাহিক মূল্যায়ন, মডেল টেস্ট এবং অভিভাবকদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা গেলে এমন ফলাফল এড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এবারের এসএসসি ফলাফল তাই শুধু পাঁচ শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা নয়; একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের পাঠদান, একাডেমিক তদারকি ও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি কতটা কার্যকর ছিল, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের পরিদর্শন ও পরবর্তী তদন্তে এর প্রকৃত কারণ কতটা স্পষ্ট হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

এসএসসিতে কিশোরগঞ্জের সেরা আফতাব উদ্দিন, জিপিএ-৫-এ শীর্ষে উচ্চ বালিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
এসএসসিতে কিশোরগঞ্জের সেরা আফতাব উদ্দিন, জিপিএ-৫-এ শীর্ষে উচ্চ বালিকা

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কিশোরগঞ্জ জেলার সেরা ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে আফতার উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ৩২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩২২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় জেলার সবার ওপরে রয়েছে কিশোরগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ১৪০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পাসের হারে জেলার সেরা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আসমিয়া বারি আদর্শ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৩ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩১ জন।

তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে এসডি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ২৯৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৯০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯২ জন।

চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে সরকারি তমিজা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন।

পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ৩৪১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩২৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৪ জন।

ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা কিশোরগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে ৫৮৫ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৫০৮ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় জেলার সেরা এই প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়টির ১৪০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

সপ্তম অবস্থানে রয়েছে পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ১২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ জন।

অষ্টম অবস্থানে থাকা কটিয়াদী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩৬৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ২৬৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬ জন।

তালিকায় নবম অবস্থানে রয়েছে আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ৩৯১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৭৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৬ জন।

পাসের হারে জেলার সেরা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় দশম স্থানে রয়েছে পাকুন্দিয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ২১৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬০ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ জন।

পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুই সূচকে ভিন্ন চিত্র

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাসের হারে এগিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠান এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় এগিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আফতার উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৯৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ পাসের হার নিয়ে তালিকার শীর্ষে থাকলেও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় শীর্ষস্থান দখল করেছে কিশোরগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়।

কিশোরগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ৫৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫০৮ জন উত্তীর্ণ হলেও ১৪০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। অন্যদিকে ৩২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩২২ জন পাস করা আফতার উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৩ জন।

ফলে জেলার শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের ফলাফলে একদিকে যেমন উচ্চ পাসের হার, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক জিপিএ-৫ অর্জনের চিত্রও উঠে এসেছে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41