কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওড়ে বিষ প্রয়োগে ১০ লক্ষাধিক টাকার দেশি মাছ নিধন
বিস্তারিত আসছে
বিস্তারিত আসছে
কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার মহাখালী রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাস মালিকদের মধ্যে বিরোধের জেরে এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে অনন্যা পরিবহন, অনন্যা ক্লাসিক, জলসিঁড়ি ও উজান-ভাটিসহ বিভিন্ন পরিবহনের মোট ২৩৭টি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন এ রুটের যাত্রীরা।
বিরোধের সূত্রপাত বাসের মান ও এ রুটে নতুন বাস অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে। কিশোরগঞ্জের বাস মালিকদের দাবি, যাত্রীসেবার মান বাড়াতে তাঁরা পুরোনো ও জরাজীর্ণ বাস পরিবর্তন করে নতুন বাস বহরে যুক্ত করেছেন। কিন্তু মহাখালী বাস টার্মিনালের মালিকেরা তাঁদের পুরোনো বাস সরাতে রাজি হননি। বরং এ রুটে আরও বাস চালানোর চেষ্টা এবং কিশোরগঞ্জের নতুন বাস চলাচলে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির আহ্বায়ক আনিসুজ্জামান বাবুলের দাবি, মহাখালী বাস মালিকেরা জোরপূর্বক অনন্যা পরিবহন ও উজান-ভাটি পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকায় কিশোরগঞ্জের বাসের কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
বাসের চালক ও শ্রমিকদের অভিযোগ, বিরোধের জেরে ঢাকায় তাঁদের বাস আটকে রাখা হয়েছে। এমনকি কিছু বাসের চাকা ও ব্যাটারি খুলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তাঁরা দাবি করেছেন।
এদিকে, কিশোরগঞ্জ অনন্যা ক্লাসিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অভিযোগ করেছেন, গতকাল দুপুর আড়াইটার পর থেকে অনন্যা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুজ্জামান বাবুল তাঁদের কাউন্টার বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অনন্যা পরিবহন সমিতির পরিচালক। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।
অন্যায়ভাবে কাউন্টার বন্ধ ও চালকদের হয়রানির প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির আহ্বায়ক আনিসুজ্জামান বাবুলের সিদ্ধান্তে মহাখালী রুটের বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় অনন্যা পরিবহনের ৫০টি, অনন্যা ক্লাসিকের ৫৭টি, জলসিঁড়ির ১০০টি এবং উজান-ভাটির ৩০টি বাস চলাচল করতে পারছে না। বিরোধের দ্রুত সমাধান না হলে এ রুটে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ সুরুজ মিয়াকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়ে শনিবার রাতে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের চরপাড়া-আতকাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় এ সভা হয়। এতে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মো. লুৎফুর রহমান মাস্টারের সভাপতিত্বে এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মো. ইজাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন হোসেন্দী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রুস্তম আলী ও স্বপন মেম্বার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মাসুদ, হোসেন্দী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মো. এমদাদুল হক সোহেল, সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল মিয়া, মৎস্যদলের সভাপতি নজরুল ইসলাম, চরপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ মিয়া এবং আতকাপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মস্তুসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সভায় বক্তারা বলেন, মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর শিক্ষা, যোগ্যতা, ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বিবেচনায় তাঁকে হোসেন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান তাঁরা। সুরুজ মিয়া নির্বাচিত হলে দল-মতনির্বিশেষে এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন বক্তারা।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া বলেন, ‘আমি সব সময় আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আগামী দিনেও আপনাদের পাশে থাকতে চাই। আপনাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসা নিয়ে একসঙ্গে পথ চলতে চাই। গত ১৭ বছরে দলের কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে আমি এক মুহূর্তের জন্যও পিছিয়ে থাকিনি। দলের প্রতি আমার আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে।’
দলীয় সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দল সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা বিবেচনা করলে তিনি হোসেন্দী ইউনিয়নে দলীয় সমর্থন পাবেন বলে আশা করেন।
সুরুজ মিয়া আরও বলেন, শুধু দলীয় সমর্থন পেলেই হবে না, জনগণের সমর্থনও প্রয়োজন। জনগণের ভালোবাসা ও সহযোগিতা ছাড়া নির্বাচনে সফল হওয়া সম্ভব নয়। অতীতে যেভাবে দলের, এলাকার মানুষের ও দেশের জন্য কাজ করেছেন, ভবিষ্যতেও সেভাবে কাজ করে যেতে চান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি আমাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন, তাহলে আপনাদের দেওয়া আমানতের মর্যাদা রক্ষা এবং প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। আপনারা পাশে থাকলে ও সহযোগিতা করলে ইনশাআল্লাহ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হওয়ার চেষ্টা করব।’
সভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও স্থানীয় ব্যক্তিরা সুরুজ মিয়ার প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাঁকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান বলে নিজেদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন হোসেন্দী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া। আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে রাজধানী ঢাকায় পুলিশের হাতে আটক হন তিনি। পরে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুক্তি পান বলে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সুরুজ মিয়া দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশের মধ্য দিয়ে হোসেন্দী ইউনিয়নের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি।
ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পাঠ্যবইয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ৩৮ লাখ বইয়ের সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এর মধ্যে ১৮ লাখ বই ইতিমধ্যে বিদ্যালয় পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে।
বাকি ২০ লাখ বইয়ের ছাপার কাজ চলছে। সরবরাহ করা বই ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা বাদ দিয়ে নতুন করে সংশোধিত পৃষ্ঠা যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি।
অন্যদিকে, প্রাথমিকের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে অপ্রাসঙ্গিকভাবে ব্যবহার করা ৮২টি নৌকার ছবি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও চলতি বছর আর সংশোধনের সুযোগ নেই। এসব বইয়ের ছাপার কাজ প্রায় শেষ। এনসিটিবি জানিয়েছে, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে।
পাঠ্যবই পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম শ্রেণির ‘আমার বাংলা বইয়ে’ ৩৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৩টি এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫টি নৌকার ছবি রয়েছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নৌকার ছবি প্রাসঙ্গিক হলেও বিভিন্ন পাঠের বিষয়বস্তুর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও একাধিক জায়গায় এসব ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে ‘উপাত্ত ও তথ্য’ বিষয়ে আলোচনার সময় ‘নলেজ পিরামিড’ বা জ্ঞানের পিরামিডে ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
অথচ ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে একই ধারণা বোঝাতে ‘বুদ্ধি’ শব্দের সঙ্গে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি রাখা হয়েছিল। ২০২৫ সালের বইয়েও ‘উইজডম’ বা প্রজ্ঞা বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছিল।
এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হায়দার বলেন, প্রাথমিকের বইয়ে ব্যবহৃত ছবিগুলো বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিলিয়ে শিল্পীরা এঁকেছেন। বিষয়বস্তুর পরিবর্তন না হলে ছবি পরিবর্তন করা কঠিন। তবে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে।
দাঁড়িপাল্লার ছবি থাকা আইসিটি বইয়ের পৃষ্ঠা সংশোধনের বিষয়ে এনসিটিবি জানিয়েছে, উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো বই ঢাকায় ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা পরিবর্তন করা হবে।
Disqus comments are not configured yet.