বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

হাতিয়ায় বিয়েবাড়িতে গানবাদ্য ; সালিশে বেত্রাঘাত, জরিমানা

রেজাউল হক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ২:১৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হাতিয়ায় বিয়েবাড়িতে গানবাদ্য ; সালিশে বেত্রাঘাত, জরিমানা

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিয়েতে মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে মধ্যযুগীয় বর্বরতার মতো এক ঘটনা ঘটেছে। সামান্য সময়ের জন্য মাইক ব্যবহারের অভিযোগে কনে ও তার মা–বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের বেত্রাঘাত করা হয়েছে এবং চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে ৩০ হাজার টাকার জরিমানা। জরিমানার টাকা দিতে না পারায় জামাতার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন অটোরিকশাটিও আটকে রাখা হয়েছে। ফলে পরিবারটি চরম অসহায় অবস্থায় পড়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার(২৬ নভেম্বর) দুপুরে হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে, যেখানে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি একটি অনানুষ্ঠানিক সালিশ বসিয়ে এই অমানবিক রায় দেন।

জানা যায়, বুড়িরচর এলাকার শাহজাহানের মেয়ের বিয়ে হয় গত সেপ্টেম্বর মাসে। তখন কোনো অনুষ্ঠান না করায় বুধবার ছোট আকারে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয় এবং আনন্দের জন্য কিছুক্ষণ মাইক ব্যবহার করা হয়। এতেই কিছু স্থানীয় ব্যক্তি আপত্তি তুলে শাহজাহানের বাড়িতে যান। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় কয়েকজন সালিশ ডাকেন এবং সেখানে সিদ্ধান্ত হয় পরিবারের সবার ওপর ১৫টি করে বেত মারা হবে। একই সঙ্গে আরোপ করা হয় ৩০ হাজার টাকার জরিমানা। টাকা দিতে না পারায় আফছার নামের একজন জামাতার অটোরিকশা আটকে রাখে।

মেয়ের বাবা শাহজাহান বলেন, তিনি বারবার ক্ষমা চাইলেও সালিশদাররা কর্ণপাত করেননি। তাঁর ভাষায়, “গরিব মানুষ। মেয়ের বিয়েতে শখ করে মাইক বাজিয়েছি। এতেই আফসার, ছারোয়ার আর মালেক আমাদের মেরেছে। পরে সালিশ ডেকে আরও বেত মেরেছে এবং জরিমানাও করেছে।” তবে সালিশে উপস্থিত আলাউদ্দিন মাঝি দাবি করেন, মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের সময় আফছারের নাকি ৫০ হাজার টাকা হারিয়ে যায়। যদিও তারা কোনো প্রমাণ পাননি, তবুও একজন সালিশদারের সিদ্ধান্তে ৩০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়। তিনি বলেন, মহিলাদের বেত মারা হয়নি; তাদের ‘শাসন’ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঘরের মুরুব্বি শাহজাহানকে।

স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের সালিশ ও শাস্তি সম্পূর্ণ বেআইনি। বাংলাদেশের আইনে গ্রাম্য সালিশের কোনো ক্ষমতা নেই কাউকে বেত্রাঘাত বা আর্থিক জরিমানা করার। এটি ব্যক্তি স্বাধীনতার লঙ্ঘন এবং ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এ বিষয়ে সাগরিয়া ফাঁড়ির এসআই ফরহাদ হোসেন জানান, বিয়েতে মাইক বাজানো নিয়ে সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন এবং উভয়পক্ষকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তারা গ্রাম্য সালিশ করায় তিনি আর সেখানে থাকেননি। কেউ লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি জানান।

কেন্দুয়ায় ২৮ কেজি গাঁজাসহ কুলিয়ারচরের বিএনপি নেতা আটক

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
কেন্দুয়ায় ২৮ কেজি গাঁজাসহ কুলিয়ারচরের বিএনপি নেতা আটক

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে ২৮ কেজি গাঁজাসহ এক বিএনপি নেতাকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের দামিনা মোড় এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশির সময় একটি নম্বরবিহীন সিএনজি অটোরিকশা থেকে এসব গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তি মো. জিল্লুর রহমান (৪৪)। তিনি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।

ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশা ও একটি মোবাইল ফোনসহ জব্দকৃত আলামতের মোট মূল্য প্রায় ১৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

নেত্রকোণা জেলা ডিএনসির সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হকের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং বিষয়টি কেন্দুয়া থানায় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সরকারি বীজ খোলা বাজারে! করিমগঞ্জে ৮০ কেজি পাট বীজ জব্দ

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
সরকারি বীজ খোলা বাজারে! করিমগঞ্জে ৮০ কেজি পাট বীজ জব্দ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ৮০ কেজি উন্নত জাতের পাট বীজ উদ্ধার করেছে প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছে, এসব বীজ অবৈধভাবে বাজারে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করিমগঞ্জ উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা রানা মজুমদার জনৈক আব্দুল মালেকের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল প্রায় ৩টার দিকে রিকশাযোগে করিমগঞ্জ বাজারে বীজ ব্যবসায়ী মনা বাবুর দোকানে এসব বীজ পৌঁছে দেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত হন। এ সময় বীজ ও কীটনাশক ব্যবসায়ী মো. ফেরদৌস বীজ বিক্রির মধ্যস্থতায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা রানা মজুমদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে মুসলিমার নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল আমিন কবিরের সহযোগিতায় বীজগুলো উদ্ধার করে উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফেরত আনা হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিস্ময় দেখা দিয়েছে। তারা জানান, বিনামূল্যে বিতরণের সরকারি বীজ খোলা বাজারে বিক্রির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। তবে কার্যকর জবাবদিহিতার অভাবে তিনি বারবার দায় এড়িয়ে গেছেন। নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থেকেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তবে এবার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে মুসলিমা। তিনি বলেন, “ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

‘অধিক সারে অধিক ফসল’ ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
‘অধিক সারে অধিক ফসল’ ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান

‘অধিক সারে অধিক ফসল’—এই ভ্রান্ত ধারণা থেকে কৃষকদের বেরিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. ইমরুল কায়েস। তিনি বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারে ফসলের ক্ষতি হয়, মাটির উর্বরতা নষ্ট হয় এবং পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেসের দিনব্যাপী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষি জমিতে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ‘প্রোগ্রাম অন রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্ট্রাপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’-এর আওতায় এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার ১৭টি পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেসের ৩৪ জন সদস্য, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ ভূঁইয়া ও হাসিবুল হাসান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জলি বদন তৈয়বা এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা রিফফাত জাহান ত্রপা।

উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোছা মিয়া, সাংবাদিক ফজলুর রহমান এবং কৃষি পরিবার কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আলমসহ সংশ্লিষ্টরা।

সেমিনারে বক্তারা জানান, ভৈরব উপজেলায় বর্তমানে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেসের ২৭টি টিম রয়েছে। প্রতিটি টিমে ২৫ জন সদস্য রয়েছেন, যারা ১০টি সেশনের মাধ্যমে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি ও বাণিজ্যিক কৃষি সম্প্রসারণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

বক্তারা আরও বলেন, এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো নারী ও তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, বীজ প্রত্যয়ন ব্যবস্থা জোরদার, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং উত্তম কৃষি চর্চা (GAP) বাস্তবায়ন। পাশাপাশি পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তারা জানান, বর্তমানে কৃষিজমিতে জৈব সারের পরিমাণ হওয়া উচিত কমপক্ষে ৫ শতাংশ, অথচ বাস্তবে তা মাত্র ১ শতাংশ। অন্যদিকে রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহার ফসল ও মাটির জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠছে। তাই সুষম সার ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, ভৈরবের ইউনিয়নগুলো থেকে কর্মঠ, উদ্যোগী এবং বাণিজ্যিক কৃষিতে আগ্রহী কৃষকদের বাছাই করে এই কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

সেমিনারে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফিল্ড স্কুলের সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ কৃষকদেরও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। বিশেষ করে নারী কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হতে পারেন।