শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

হাতিয়ায় বিয়েবাড়িতে গানবাদ্য ; সালিশে বেত্রাঘাত, জরিমানা

রেজাউল হক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ২:১৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হাতিয়ায় বিয়েবাড়িতে গানবাদ্য ; সালিশে বেত্রাঘাত, জরিমানা

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিয়েতে মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে মধ্যযুগীয় বর্বরতার মতো এক ঘটনা ঘটেছে। সামান্য সময়ের জন্য মাইক ব্যবহারের অভিযোগে কনে ও তার মা–বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের বেত্রাঘাত করা হয়েছে এবং চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে ৩০ হাজার টাকার জরিমানা। জরিমানার টাকা দিতে না পারায় জামাতার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন অটোরিকশাটিও আটকে রাখা হয়েছে। ফলে পরিবারটি চরম অসহায় অবস্থায় পড়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার(২৬ নভেম্বর) দুপুরে হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে, যেখানে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি একটি অনানুষ্ঠানিক সালিশ বসিয়ে এই অমানবিক রায় দেন।

জানা যায়, বুড়িরচর এলাকার শাহজাহানের মেয়ের বিয়ে হয় গত সেপ্টেম্বর মাসে। তখন কোনো অনুষ্ঠান না করায় বুধবার ছোট আকারে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয় এবং আনন্দের জন্য কিছুক্ষণ মাইক ব্যবহার করা হয়। এতেই কিছু স্থানীয় ব্যক্তি আপত্তি তুলে শাহজাহানের বাড়িতে যান। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় কয়েকজন সালিশ ডাকেন এবং সেখানে সিদ্ধান্ত হয় পরিবারের সবার ওপর ১৫টি করে বেত মারা হবে। একই সঙ্গে আরোপ করা হয় ৩০ হাজার টাকার জরিমানা। টাকা দিতে না পারায় আফছার নামের একজন জামাতার অটোরিকশা আটকে রাখে।

মেয়ের বাবা শাহজাহান বলেন, তিনি বারবার ক্ষমা চাইলেও সালিশদাররা কর্ণপাত করেননি। তাঁর ভাষায়, “গরিব মানুষ। মেয়ের বিয়েতে শখ করে মাইক বাজিয়েছি। এতেই আফসার, ছারোয়ার আর মালেক আমাদের মেরেছে। পরে সালিশ ডেকে আরও বেত মেরেছে এবং জরিমানাও করেছে।” তবে সালিশে উপস্থিত আলাউদ্দিন মাঝি দাবি করেন, মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের সময় আফছারের নাকি ৫০ হাজার টাকা হারিয়ে যায়। যদিও তারা কোনো প্রমাণ পাননি, তবুও একজন সালিশদারের সিদ্ধান্তে ৩০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়। তিনি বলেন, মহিলাদের বেত মারা হয়নি; তাদের ‘শাসন’ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঘরের মুরুব্বি শাহজাহানকে।

স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের সালিশ ও শাস্তি সম্পূর্ণ বেআইনি। বাংলাদেশের আইনে গ্রাম্য সালিশের কোনো ক্ষমতা নেই কাউকে বেত্রাঘাত বা আর্থিক জরিমানা করার। এটি ব্যক্তি স্বাধীনতার লঙ্ঘন এবং ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এ বিষয়ে সাগরিয়া ফাঁড়ির এসআই ফরহাদ হোসেন জানান, বিয়েতে মাইক বাজানো নিয়ে সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন এবং উভয়পক্ষকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তারা গ্রাম্য সালিশ করায় তিনি আর সেখানে থাকেননি। কেউ লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি জানান।

পানি কমায় চালু হলো কিশোরগঞ্জের বালিখোলা ও শান্তিপুর ফেরি

শাহীন আলম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
পানি কমায় চালু হলো কিশোরগঞ্জের বালিখোলা ও শান্তিপুর ফেরি

দীর্ঘ ছয় মাস বন্ধ থাকার পর শেষ পর্যন্ত চালু হয়েছে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ রক্ষায় নদীর ওপর স্থাপিত দুটি ফেরি।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে করিমগঞ্জ উপজেলার সূতারপাড়া ইউনিয়নের ধনু নদীতে বালিখলা ফেরি এবং মিঠামইন উপজেলা সদরসংলগ্ন ঘোড়াউত্রা নদীতে শান্তিপুর ফেরির চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

ফেরি চলাচল উদ্বোধনের সময় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং ইজারাদারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানায়, ফেরিগুলো মূলত শুকনো মৌসুমে চলাচল করে। প্রতি বছর প্রায় ছয় মাস হাওরের সাবমার্জিবল সড়ক পানির নিচে তলিয়ে থাকার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পানি নেমে সড়ক ভেসে উঠতেই ফেরি আবার চলতে শুরু করে।

এই রুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় করিমগঞ্জের বালিখলা হয়ে হাওরের তিন উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের যোগাযোগে স্বস্তি ফিরেছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন।

তাড়াইলে ডা. জেহাদ খানের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে দুই শতাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা

শাহীন আলম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে ডা. জেহাদ খানের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে দুই শতাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা

দেশের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও কিশোরগঞ্জ–৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খানের উদ্যোগে তাড়াইল–সাচাইল ইউনিয়নের পাইকপাড়ায় আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে স্থানীয় মানুষের ব্যাপক সাড়া মিলেছে।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকে পাইকপাড়া হোসাইনিয়া বাবুলউলুম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে দুই শতাধিক নারী–পুরুষ মেডিসিন, হৃদরোগ, চর্মরোগ, গাইনি ও স্ত্রীরোগসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘এ ধরনের ক্যাম্পের কারণে এলাকার মানুষের জন্য চিকিৎসা পাওয়া সহজ হয়েছে। যারা সময়মতো ডাক্তার দেখাতে পারেন না, তারা আজ সুবিধা পেয়েছেন।’
চিকিৎসা নিতে আসা শাহানারা বেগম বলেন, ‘হৃদরোগের পরীক্ষা করতে আগে দূরে যেতে হতো। আজ ক্যাম্পে এসে চেকআপ করিয়ে স্বস্তি পেয়েছি।’

হাফিজুল ইসলাম জানান, তিনি দীর্ঘদিন চর্মরোগে ভুগছিলেন। ক্যাম্পে এসে চিকিৎসকদের কাছ থেকে সময় নিয়ে পরামর্শ নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধও পেয়েছেন।
রুবিনা আক্তার বলেন, ‘আমরা গ্রামের মানুষ। গাইনি সমস্যায় চিকিৎসা পেতে কষ্ট হত। আজ একদম বিনা খরচে সেবা পেয়েছি।’

ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খানের নেতৃত্বে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ডা. ফয়সাল আহমেদ। ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুসলেহ উদ্দিন সুমন, তাড়াইল উপজেলা আমির হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, তাড়াইল–সাচাইল ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা আবু সাইদ, দিগদাইড় ইউনিয়ন সভাপতি শরিফুল, ধলা ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল বাতেন, সাবেক সভাপতি খায়রুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা।
পুরো আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন তাড়াইল উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মাওলানা রবিউল ইসলাম।

‘দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দেশ, বাদ নেই কিশোরগঞ্জ–হোসেনপুর’ — হেদায়েতুল্লাহ হাদী

শাহীন আলম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১২ অপরাহ্ণ
‘দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দেশ, বাদ নেই কিশোরগঞ্জ–হোসেনপুর’ — হেদায়েতুল্লাহ হাদী

কিশোরগঞ্জ–১ (সদর ও হোসেনপুর) আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ হাদী বলেছেন, “দেশজুড়ে দুর্নীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আমার নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জ এবং হোসেনপুরও এর বাইরে নয়। এমপি থেকে শুরু করে পৌরসভা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যপর্যন্ত দুর্নীতির বিস্তার দেখা যায়। এই দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।”

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের জনশক্তি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাদী এ মন্তব্য করেন।

সভায় জেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মদ মোকাররম হুসাইনের সভাপতিত্ব এবং সহসভাপতি মুহাম্মদ মুযাক্কির হুসাইনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান।

প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোল্লা মুহাম্মদ খালিদ সাইফুল্লাহ।

এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুল আহাদ, কেন্দ্রীয় আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক মুহাম্মাদ আশিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মদ দিদারুল ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মুহাম্মদ শাহরিয়ার আলম।