বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে সরকারি ভবনের ছাদে দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে সরকারি ভবনের ছাদে দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প

সরকারি ভবনের অব্যবহৃত ছাদ কাজে লাগিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায় স্থাপিত রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো থেকে এসব সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রকল্পের আওতায় তিন উপজেলায় সরকারি বিভিন্ন স্থাপনার ছাদে সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, এসব স্থাপনায় মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট বা প্রায় শূন্য দশমিক ৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। সরকারি ভবনে স্থাপিত দেশের প্রথম এ ধরনের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে এটিকে উল্লেখ করা হচ্ছে।

নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় প্রথমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাহিদা মেটাতে ব্যবহার করা হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় ফুলগাজী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ ভবন, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো এবং ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ আটটি সরকারি স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্থাপনায় সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ২৪৯ কিলোওয়াট। ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের প্রতিটিতে প্রায় ২৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেম বসানো হয়েছে। উপজেলা পরিষদ ভবনে স্থাপিত সিস্টেমটির সক্ষমতা প্রায় ১০৩ কিলোওয়াট।

ছাগলনাইয়া উপজেলায় উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা ভবন, ডাকবাংলো এবং ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ ১২টি সরকারি স্থাপনায় সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। এসব স্থাপনায় মোট ৪১৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

অন্যদিকে, পরশুরাম উপজেলায় উপজেলা পরিষদ ভবন, অডিটোরিয়াম, তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলোসহ ছয়টি স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্থাপনায় উৎপাদন সক্ষমতা ২৯৮ দশমিক ৫ কিলোওয়াট।

প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে (আরইবি)। তবে প্রকল্পের মোট ব্যয়ের নির্দিষ্ট হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি। ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. নুরুল হোসাইন জানিয়েছেন, তিন উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আনুমানিক ৫ থেকে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

এদিকে, ফেনী সফরের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি।

বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কর্মসূচিতেও প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ ফাতেমা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানাধীন বিন্নাটি বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ শোয়েব ইবনে রেজার নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ লাইন পুলিশের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিন্নাটি বাজার এলাকার ঈসাখা ট্রান্সপোর্ট অফিসের পশ্চিম পাশে সড়কে অভিযান চালিয়ে ফাতেমা খাতুনকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটক ফাতেমা খাতুন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের মৃত শামসুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। তাঁর বাবার নাম মহিবুল্লাহ এবং মায়ের নাম আছিয়া খাতুন।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওবায়দুল্লাহ খান বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট ধারায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনায়েত হোসেন এসব তথ্য সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রায় ১২ ঘণ্টা পুলিশি ‘হেনস্থা’ ও আটকের অভিযোগ তুলে সক্রিয় রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।

হুমায়ুন কবীর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমলে তিনি আর কোনোদিন রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে অংশ নেবেন না। একই সঙ্গে বিধানসভা সম্পূর্ণ বয়কটের ঘোষণাও দেন তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যে গণতান্ত্রিক নিয়মে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একজন বিধায়ককে পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুলিশমন্ত্রীর অধীনে আমি রাজনীতি করতে চাই না।’

মঙ্গলবার রেজিনগর উপনির্বাচন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ‘আইন ভঙ্গের’ অভিযোগে পুলিশ তাঁকে আটক করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থা দাবি করে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, পুলিশি সহায়তায় নির্বাচনে অবাধে ভোট লুট চালানো হয়েছে।

২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—দুটি আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

হুমায়ুন কবীর জানান, নওদার ভোটারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি এলাকায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাবেন। তবে বিধায়ক পদ থেকেও স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়াবেন কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই এলাকার মানুষের মতামত নেবেন।

এ ছাড়া বিধানসভার সব সংসদীয় কমিটি, যার মধ্যে মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স, হাউস কমিটি ও বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি রয়েছে, সেগুলো থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে স্পিকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকেও আর অংশ নেবেন না বলে জানান।

ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৯ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন, রাজশাহী বিভাগে দুজন, সিলেট বিভাগে একজন এবং বরিশাল বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে বরিশাল বিভাগে ২০০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৬, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২১২, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭১, খুলনা বিভাগে ৩৭৬, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০, রাজশাহী বিভাগে ১৭৬, রংপুর বিভাগে ৩৮ এবং সিলেট বিভাগে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১২৯ জন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৫৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩, বরিশাল বিভাগে ২৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ২১, রংপুর বিভাগে ছয় এবং সিলেট বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।