রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

জুলাই অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করার সকল প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলো

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৩:০৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
জুলাই অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করার সকল প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলো

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় নেতৃবৃন্দ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
আজ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অংশগ্রহণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপির নেতারা।
বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এবং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলা পূর্ব-পরিকল্পিত ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ; এর পেছনে বিরাট শক্তি কাজ করছে।
তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনটি না হতে দেওয়া। এই আক্রমণটি খুবই সিম্বলিক। তারা তাদের শক্তি প্রদর্শন করতে চায়, নির্বাচনের সব আয়োজন ভেস্তে দিতে চায়। এগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে মনে হচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে। তারা প্রশিক্ষিত শুটার নিয়ে মাঠে নেমেছে।”
বৈঠকে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে ওসমান হাদীর ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সর্বদলীয় প্রতিবাদ সভার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। আগামী দু-একদিনের মধ্যে সভা অনুষ্ঠিত হবে।
ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ঐক্যে যাতে ফাটল না ধরে সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিএনপি, জামায়াত ইসলামী ও এনসিপি নেতৃবৃন্দ। এ ব্যাপারে দলগুলো সুদৃঢ় অবস্থান নেবে বলে জানান তাঁরা।
এছাড়া, নির্বাচনের আগে কঠোরভাবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনার ওপর জোর দিয়েছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পরস্পরের দোষারোপ থেকে বিরত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, “ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়াজ তুলতে হবে। কোনো ধরনের অপশক্তিকে আমরা বরদাস্ত করব না।”
তিনি আরও বলেন, আমাদের মধ্যে যতই রাজনৈতিক বক্তব্যের বিরোধিতা থাকুক না কেন, জাতির স্বার্থে এবং জুলাইয়ের স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতেই হবে।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার পরামর্শ দেন তিনি।
জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের নানা বক্তব্য একে অন্যকে দোষারোপ করার প্রবণতা বাড়িয়েছে, যার ফলে আমাদের বিরোধীরা সুযোগ পেয়েছে। আমাদের পূর্বের ন্যায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে আমরা একে অন্যকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলেছি। জাতিকে বিভক্ত করে এমন কথা আমরা কেন বলব? সব দলকে তাদের কমিটমেন্ট ঠিক করতে হবে।
এনসিপি প্রধান নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই কিছু লোক এই অভ্যুত্থানকে খাটো করার জন্য নানা অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, “সুসংগঠিতভাবে জুলাইয়ের বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন চলছে। মিডিয়া ও প্রশাসনের নানা স্তরে এই কাজ হচ্ছে। নির্বাচনের পর যারা ক্ষমতায় আসবে, তারাও এর ভুক্তভোগী হবে। কেউই একা সরকার চালাতে পারবে না।”
তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে যাতে মনে হয় যারা অভ্যুত্থান করেছে তারা অপরাধ করেছে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে নরমালাইজ করতে নানা চেষ্টা চলছে। টিভি টকশোতে তারা নিয়মিত অংশ নিচ্ছে, প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় বৈঠক করছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মিলিত হচ্ছে এবং আদালত প্রাঙ্গণে স্লোগান দিচ্ছে।
‘আমাদের বিশেষ কোনো নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই। আমরা এটা নেব না। জুলাইকে সবাই মিলে ওউন করতে হবে। জুলাইকে কে কী বলবে—এই টানাপোড়েনে আমরা জুলাইকে শেষ করে দিচ্ছি। ষড়যন্ত্রকারীরা আমাদের অনৈক্যকে আমাদের পরাজয় হিসেবে দেখছে। তারা ভারতে বসে যা ইচ্ছা তা-ই করছে, আর আমরা কিছুই করতে পারছি না,’ বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘বুদ্ধিজীবী বেশে, সাংস্কৃতিক কর্মী বেশে আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নকারীদের থামাতে হবে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা নিজেরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে না পারলে কোনো নিরাপত্তাই আমাদের কাজে আসবে না। রাজনৈতিক স্বার্থে দলগুলো আওয়ামী লীগকে নানা রকম সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের চিন্তা করতে হবে—ভবিষ্যতের জন্য আমরা কী করতে পারি।
তিনি বলেন, শুধু সরকার নয়, সবাইকে শক্ত থাকতে হবে। নিজেদের মধ্যে যেন দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রাজনৈতিক বক্তব্য থাকবে, কিন্তু কাউকে শত্রু ভাবা বা আক্রমণ করার সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে হবে।
‘নির্বাচনের সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, তবে মাথায় রাখতে হবে—এটি যেন একটি নির্দিষ্ট মাত্রার মধ্যে নিয়ন্ত্রণে থাকে,’ বলেন তিনি।
আসিফ নজরুল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হানাহানি শুরু হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের শুধু দলীয় স্বার্থ নয়, জাতীয় স্বার্থের বিষয়েও সজাগ থাকতে হবে।”

এসএসসি ও সমমানের ফল আগামীকাল; ফল জানবেন যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
এসএসসি ও সমমানের ফল আগামীকাল; ফল জানবেন যেভাবে

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশ করা হবে। সারা দেশে একযোগে এ ফল প্রকাশ করা হবে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটের পাশাপাশি মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানা যাবে।

শনিবার এসব তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল এবং তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আর দাখিল ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে।

তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের রেওয়াজ রয়েছে। সেই হিসাবে এর আগে ২০ জুলাই ফল প্রকাশের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার জন্য ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, দাখিল পরীক্ষার জন্য ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষার জন্য ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে।

ফল জানবেন যেভাবেঃ

শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, নির্ধারিত দিনে সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি মুঠোফোনে এসএমএস পাঠিয়েও পরীক্ষার্থীরা ফল জানতে পারবে।

এসএমএসে ফল জানতে যেকোনো মুঠোফোন অপারেটরের সিম ব্যবহার করা যাবে। এ জন্য মুঠোফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে প্রথমে SSC লিখে স্পেস দিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর এবং আবার স্পেস দিয়ে YEAR লিখতে হবে। এরপর সেটি ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে পরীক্ষার ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের এসএমএসের ফরম্যাট হবে-

SSC DHA ROLL YEAR

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষার্থীদের ফল জানতে লিখতে হবে-

SSC MAD ROLL YEAR

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ফরম্যাট হবে-

SSC TEC ROLL YEAR

তিন ক্ষেত্রেই এসএমএস পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে। প্রতিটি এসএমএসের জন্য ১ টাকা ৩৯ পয়সা চার্জ প্রযোজ্য হবে।

ফল প্রকাশের পর শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট থেকেও পরীক্ষার্থীরা ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে।

সালমান শাহ হত্যা মামলা: ডনকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন সিআইডির

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
সালমান শাহ হত্যা মামলা: ডনকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন সিআইডির

চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে ডনকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। তার বিরুদ্ধে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান। এ বিষয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

সিআইডির আবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ভোর ৫টার দিকে বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ মামলায় পলাতক ছিলেন। তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, ডন জামিনে মুক্ত হলে মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং তিনি পুনরায় পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় ওই সময় অপমৃত্যুর মামলা করেন তাঁর বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

পরবর্তী সময়ে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি। অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যার অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। একই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত ওই চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন।

পরে সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন সালমান শাহের বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। সবশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহের স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার অপর আসামিরা হলেন—শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক আশরাফুল হক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। মামলায় আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), ভগ্নিপতি কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং তাঁদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।

কিছুক্ষণ পর প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের কিছু হয়েছে বলে জানান। এরপর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাসায় ফিরে সালমানকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় কয়েকজন বহিরাগত নারী তাঁর হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, সালমানের মা তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান স্বজনরা। পরে তাঁকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সালমান শাহকে মৃত ঘোষণা করেন।

সালমান শাহের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে এর আগে গত ২০ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাঁর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

পরে ২৪ মে সালমান শাহের মরদেহ উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দেন আদালত। এর পর বাদীপক্ষ মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা নথিভুক্ত করেন।

পরে গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলে তা নথিভুক্ত করা হয়।

মামলাটিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ৮৭৩

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ৮৭৩

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৭৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৮ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৭৩ জনে।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৫ শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত হয়েছে ৯৮৮ রোগী। এ সময়ে ৯৩৮ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৯৪২ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে রোববার পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গযুক্ত সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ জনে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ১১৫।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। ফলে উপসর্গযুক্ত রোগীদের শনাক্তকরণ, দ্রুত চিকিৎসা এবং রোগের প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41