দুই পা হারিয়েও থামেননি শাহিন, চাকরির লড়াইয়ে মিলল আশার বার্তা
সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পা হারিয়েও থেমে থাকেননি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের তরুণ শাহিন খান। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে একের পর এক চাকরির লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও নিয়োগ না পাওয়ার দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প নিয়ে সম্প্রতি প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে এসেছে নীতিনির্ধারকদের। এরই ধারাবাহিকতায় শাহিনের বিষয়ে যোগাযোগ করেছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের কার্যালয়।
আজ প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা শাহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পারিবারিক অবস্থা, শিক্ষাজীবন, সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পা হারানোর ঘটনা এবং পরবর্তী সময়ে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন।
প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শাহিনকে জানানো হয়েছে, তার বিষয়টি গুরুত্ব ও সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে কোনো বিশেষ সুবিধা বা করুণার পরিবর্তে তার মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহায়তার কথা বলা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শাহিনকে যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
শাহিন খান বলেন, তিনি কোনো বিশেষ অনুগ্রহ চান না। তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যেন মেধা ও যোগ্যতার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—এটাই তার প্রত্যাশা।
প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যোগাযোগ ও সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়ায় শাহিন ও তার পরিবার নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। দীর্ঘদিন ধরে চাকরির জন্য চেষ্টা করে আসা শাহিনের প্রত্যাশা, যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে এবার একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও শাহিন যেভাবে চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে আসছেন, তা অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার। তার কর্মসংস্থানের বিষয়ে সরকারি পর্যায় থেকে উদ্যোগের খবরে কুলিয়ারচরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তবে শাহিনের জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত বা নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী ভবিষ্যৎ নিয়োগে আবেদন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহায়তার কথা বলা হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সংগ্রামের পর শাহিনের চাকরির প্রত্যাশা শেষ পর্যন্ত কীভাবে বাস্তবে রূপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array