রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

কুলিয়ারচরে পুলিশের সামনেই মাইক্রোবাসে ডাকাতির অভিযোগ

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কুলিয়ারচরে পুলিশের সামনেই মাইক্রোবাসে ডাকাতির অভিযোগ

রাত পৌনে দুইটা। সড়কে যানবাহন চলাচলও তখন তুলনামূলক কম। সিলেটের উদ্দেশে ভালুকা থেকে ছেড়ে আসা একটি মাইক্রোবাস কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার নোয়াগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট পরা তিন ব্যক্তি গাড়ি থামানোর সংকেত দেন। কাছেই পুলিশের একটি গাড়ি দেখতে পেয়ে চালক ও যাত্রীরা ওই ব্যক্তিদের পুলিশ সদস্য মনে করে গাড়ি থামান। এরপর দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁদের মালামাল লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মাইক্রোবাসের যাত্রীরা।

তবে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। পুলিশের দাবি, মাইক্রোবাসটি হঠাৎ সড়কে থেমে গেলে বিষয়টি দেখতে তারা গাড়িটির সামনে যায়। পুলিশকে দেখে কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে- এমন কোনো প্রমাণ পুলিশ পায়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।

একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী ও পুলিশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন ও অসঙ্গতি।

ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার(২৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের নোয়াগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। মাইক্রোবাসটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ ১৪-৯৩১০। এ সময় ঘটনাস্থলে কুলিয়ারচর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোবারক হোসেন, এসআই সুজন বিশ্বাসসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।

মাইক্রোবাসের যাত্রী সারোয়ার আলম বলেন, গাড়িটিতে তাঁরা মোট আটজন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুইজন পুরুষ, দুইজন নারী ও চারটি শিশু। ভালুকা থেকে সিলেট যাওয়ার পথে নোয়াগাঁও এলাকায় পৌঁছালে রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট পরা তিন ব্যক্তি গাড়ি থামানোর সংকেত দেন। কিছুটা দূরে পুলিশের গাড়ি দেখতে পাওয়ায় তাঁরা ওই ব্যক্তিদের পুলিশ সদস্য মনে করে গাড়ি থামান।

সারোয়ারের অভিযোগ, গাড়ি থামানোর পর কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায় এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়।

তিনি দাবি করেন, এ সময় প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে। এর মধ্যে চেইন, কানের দুল, আংটি ও চুড়ি ছিল। এ ছাড়া দুটি Oppo স্মার্টফোন, একটি Xiaomi 8 ট্যাব, একটি GoPro ক্যামেরা, Nothing ব্র্যান্ডের হেডফোন এবং প্রায় এক লাখ টাকা নগদ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ক্রেডিট কার্ডও খোয়া গেছে বলে জানান তিনি।

সারোয়ার আরও অভিযোগ করেন, লুটপাটের সময় ১৪ মাস বয়সী এক শিশুর গলায় ছুরি ধরে ভয় দেখানো হয়। হামলাকারীরা একে অপরকে বিভিন্ন নামে ডাকছিলেন। এর মধ্যে একজনকে ‘জুয়েল’ নামে ডাকতে শুনেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ডাকাতির শেষ পর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে শুরু করে। তাঁদের দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ গজের মধ্যে অবস্থান করছিল।

সারোয়ারের অভিযোগ, এ সময় একজন পুলিশ সদস্য পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের পেছনে দৌড় দিলেও এসআই সুজন তাঁকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দেন।

ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, পুলিশ তাঁদের কাছ থেকে লুট হওয়া মালামালের বিবরণ নেওয়ার সময় হামলাকারীদের একজন পেছন দিক দিয়ে আরও তিন-চারজনের সঙ্গে ঘটনাস্থলে ফিরে আসে। তাঁরা ওই ব্যক্তিকে ডাকাতির সময় উপস্থিত থাকার কথা পুলিশকে জানালে পুলিশ তাঁর ছবি ও পরিচয় নেয়। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

ঘটনার পর কী করা উচিত, সে বিষয়েও পুলিশকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন বলে জানান সারোয়ার আলম। তাঁর ভাষ্য, মামলা বা লিখিত অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ তাঁদের কোনো পরামর্শ দেয়নি। শুধু নাম-ঠিকানা নেওয়া হয়েছে। ফলে এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়েও তাঁরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে কুলিয়ারচর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বলেন, পুলিশ কুলিয়ারচরের শেষ সীমানা থেকে কুলিয়ারচরের দিকে আসছিল। বিপরীত দিক থেকে মাইক্রোবাসটি ভৈরবের দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ মাইক্রোবাসটি সড়কে দাঁড়িয়ে গেলে কেন থেমেছে, তা দেখতে পুলিশ গাড়িটি সামনে নিয়ে মাইক্রোবাসটির একেবারে মুখোমুখি দাঁড় করায়। এ সময় পুলিশকে দেখে কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যায়।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাস্থলে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে—এমন কোনো প্রমাণ পুলিশ পায়নি। ফলে এটিকে ডাকাতির ঘটনা বলা যাচ্ছে না।

তবে ভুক্তভোগীদের বর্ণনায় ঘটনার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট পরা ব্যক্তিদের সংকেতেই তাঁরা গাড়ি থামিয়েছিলেন। এরপর অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে স্বর্ণ, নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার সত্যতা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট পরা ওই তিন ব্যক্তি কারা, তাঁরা কেন মাইক্রোবাসটি থামানোর সংকেত দিয়েছিলেন, পুলিশকে দেখে যারা দৌড়ে পালিয়েছিল তারা কারা- এসব প্রশ্নের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের দাবি করা স্বর্ণ, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামালের কোনো সন্ধান বা আলামত পাওয়া গেছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

নোয়াগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ওই রাতে আসলে কী ঘটেছিল, তা নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশের পর্যবেক্ষণ, ঘটনাস্থলের আলামত এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসা শেষে আগামী বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দেশে ফিরবেন। ওই দিন রাত ৯টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি দূরপাল্লার ফ্লাইটে তাঁর ঢাকায় অবতরণের কথা রয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিএনপির মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, মির্জা আব্বাস বেশ কিছুদিন ধরে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা অনেকটাই ভালো। মেডিকেল বোর্ডের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই দেশে ফেরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১১ মার্চ পবিত্র রমজান মাসে ইফতার করার সময় হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে ওই রাতেই তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।

পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ১৪ এপ্রিল তাঁকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল থেকে মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা সন্তোষজনক। চিকিৎসকদের পরামর্শ ও মেডিকেল বোর্ডের অনুমোদনের পরই তাঁকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার মধ্যেই গত ১ আগস্ট ঢাকা-৮ আসনের এই সংসদ সদস্যকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা এক সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার পর মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরার খবরে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী ও অনুসারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পরিবারের জন্য মানবিক হাসপাতাল গড়তে চান কুতুব

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পরিবারের জন্য মানবিক হাসপাতাল গড়তে চান কুতুব

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারের পাশাপাশি এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য একটি মানবিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন সৌদি আরবপ্রবাসী হাবিবুর রহমান কুতুব। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নের প্রবাসীদের নিয়ে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১০০ সদস্যের একটি সংগঠন গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে এতে ৯০ জন সদস্য যুক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

হাবিবুর রহমান কুতুবের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংগঠনটির মাধ্যমে ভবিষ্যতে ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিবার মানবিক হাসপাতাল’ নামে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রাথমিকভাবে ১০০ শয্যার হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হলে প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে জানান তিনি।

হাবিবুর রহমান কুতুব বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা বিদেশে শ্রম ও মেধা দিয়ে অর্থ উপার্জন করে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। তাঁদের পরিবার ও স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই একটি মানবিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার চিন্তা থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত হাসপাতালটি শুধু প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না। এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসাসেবায়ও প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখবে। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই হাসপাতালটি পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

কুতুব বলেন, ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য একটি মানবিক উদ্যোগ গড়ে তুলতে চাই। সবাই পাশে থাকলে এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব।’

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে রশিদাবাদ ইউনিয়নের প্রবাসীদের নিয়ে ১০০ সদস্যের একটি সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ৯০ জন সদস্য সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ভবিষ্যতে ইউনিয়নের আরও প্রবাসী এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্যোক্তার মতে, প্রবাসীদের সম্মিলিত উদ্যোগ ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা পাওয়া গেলে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। এ জন্য প্রবাসী, স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে রশিদাবাদ ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে প্রবাসীদের পরিবার এবং দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবায় হাসপাতালটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

তাড়াইলে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

রুহুল আমিন প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। দিনে প্রখর রোদ ও তীব্র দাবদাহ, আর রাতে ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে মিলিয়ে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা, পোলট্রি খামারসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশেষ করে রাতের লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি বেশি হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেকেই ঘুমাতে পারছেন না। দিনের বেলায় বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ চান্দু ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার মতো বয়স্ক মানুষের পক্ষে তীব্র গরমে খুবই অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শুধু রাতেই পাঁচ-ছয় ঘণ্টা ধরে লোডশেডিং হচ্ছে। গরমের কারণে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না।’

তিনি লোডশেডিং কমাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ মিয়ার বাড়িতে ছোট আকারের একটি মুরগির খামার রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের মুরগিগুলো নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, লোডশেডিংয়ের কারণে এরই মধ্যে ডিমের উৎপাদন কমে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে খামারে আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।

চাল, হলুদ ও মরিচ ভাঙানোর ব্যবসা করেন জসীম উদ্দিন। লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁর ব্যবসাও ক্ষতির মুখে পড়েছে। জসীম উদ্দিন বলেন, ‘সারাদিন তো কারেন্টই থাকে না। আমার ব্যবসা লাটে ওঠার দশা। এভাবে চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই সম্ভব হবে না।’

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তাঁরা ব্যবসা পরিচালনা করেন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় কাজের সময় কমে যাচ্ছে। ফলে একদিকে উৎপাদন ও বিক্রি কমছে, অন্যদিকে দোকান পরিচালনার খরচও বাড়ছে।

তাড়াইল জোনাল অফিসের কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রচণ্ড দাবদাহে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হচ্ছে। এ কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাচ্ছি মাত্র ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। এই অবস্থায় লোডশেডিং দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’

বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে লোডশেডিংও কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তাড়াইলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির প্রত্যাশা করছেন। বিশেষ করে রাতের লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।