সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

কিশোরগঞ্জের সকল আসনে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জের সকল আসনে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম ধাপে কিশোরগঞ্জ–১, ২ ও ৩ আসনের প্রার্থীদের এবং দ্বিতীয় ধাপে কিশোরগঞ্জ–৪, ৫ ও ৬ আসনের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর): এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম পেয়েছেন ধানের শীষ প্রতীক। দশ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হেদায়েত উল্লাহ হাদী পেয়েছেন রিকশা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. এনামুল হক পেয়েছেন কাস্তে, বাসদের প্রার্থী মো. মাসুদ মিয়া পেয়েছেন মই, বাসদ (মার্কসবাদী) প্রার্থী আলাল মিয়া পেয়েছেন কাঁচি, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ আলী পেয়েছেন দেয়ালঘড়ি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির তারেক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম পেয়েছেন আম এবং একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) রেজাউল করিম খান চুন্নু পেয়েছেন মোরগ প্রতীক।

কিশোরগঞ্জ–২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া): বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন পেয়েছেন ধানের শীষ, জামায়াতে ইসলামীর মো. শফিকুল ইসলাম পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা, গণ অধিকার পরিষদের মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ট্রাক, ইসলামী আন্দোলনের মো. আবুল বাশার রেজওয়ান পেয়েছেন হাতপাখা, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের মো. বিল্লাল হোসেন পেয়েছেন টেলিভিশন, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আফজাল হোসেন ভূঁইয়া পেয়েছেন লাঙ্গল, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান খোকন পেয়েছেন ময়ূর এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ নুর উদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন মোটরসাইকেল প্রতীক।

কিশোরগঞ্জ–৩ (তাড়াইল–করিমগঞ্জ): বিএনপির প্রার্থী ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক পেয়েছেন ধানের শীষ, জামায়াতের জেহাদ খান দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আলমগীর হোসাইন হাতপাখা, জাতীয় পার্টির আবু বক্কর সিদ্দিক লাঙ্গল, গণতন্ত্রী পার্টির দিলোয়ার হোসাইন ভূঁইয়া কবুতর, এনপিপির মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম আম এবং একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএম আলমগীর পেয়েছেন ফুটবল প্রতীক।

কিশোরগঞ্জ–৪ (ইটনা–মিঠামইন–অষ্টগ্রাম): বিএনপির মো. ফজলুর রহমান পেয়েছেন ধানের শীষ, জামায়াতের মো. রোকন রেজা শেখ দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলনের বিল্লাল আহমেদ মজুমদার হাতপাখা, এনপিপির জয়নাল আবদিন আম, ইনসানিয়াত বিপ্লবের নুরুল ইসলাম আপেল, খেলাফত মজলিসের খায়রুল ইসলাম ঠাকুর রিকশা, স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহিন রেজা চৌধুরী ঘোড়া এবং স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী কাজী রেহা কবির সিগমা পেয়েছেন ফুটবল প্রতীক।

কিশোরগঞ্জ–৫ (বাজিতপুর–নিকলী): বিএনপির সৈয়দ এহসানুল হুদা পেয়েছেন ধানের শীষ, জামায়াতের মো. রমজান আলী দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলনের মো. দেলাওয়ার হোসাইন হাতপাখা, জাতীয় পার্টির মো. মাহবুবুল আলম লাঙ্গল, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. সাজ্জাদ হোসেন হারিকেন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. অলিউল্লাহ মোমবাতি, স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল হাঁস এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এইচ এম কাইয়ুম (হাসনাত কাইয়ুম) পেয়েছেন হরিণ প্রতীক।

কিশোরগঞ্জ–৬ (ভৈরব–কুলিয়ারচর): বিএনপির মো. শরীফুল আলম পেয়েছেন ধানের শীষ, ইসলামী আন্দোলনের মো. মুসা খান হাতপাখা, খেলাফত মজলিসের আতাউল্লাহ আমিন রিকশা, জাতীয় পার্টির মো. আয়ুব হোসেন লাঙ্গল, সিপিবির ডা. মো. হাবিল মিয়া কাস্তে, এনপিপির মো. নজরুল ইসলাম আম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. রুবেল হোসেন মোমবাতি, গণ ফোরামের শাফিউদ্দিন আহমেদ উদীয়মান সূর্য এবং ইনসানিয়াত বিপ্লবের নাঈমুল হাসান পেয়েছেন আপেল প্রতীক।

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।