তীব্র তাপপ্রবাহে কুলিয়ারচরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, দুই দিনে ভর্তি ৫০ জন
দেশজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ ও প্রচণ্ড গরমে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অসহনীয় তাপদাহে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও শ্রমজীবী মানুষ। অতিরিক্ত গরমের কারণে এলাকায় ডায়রিয়া, জ্বর, চিকেনপক্স, পানিশূন্যতা ও হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিনে তীব্র গরম ও তাপমাত্রাজনিত বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত অন্তত ৫০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে বহির্বিভাগে (আউটডোর) প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। গরমজনিত অসুস্থতার পাশাপাশি পানিবাহিত রোগেও আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, হঠাৎ রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তবে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়ার্ডগুলোতে রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিন ধরে তীব্র রোদ ও ভ্যাপসা গরমে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, রিকশাচালক ও অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দিনের বেলায় কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ায় অনেকেই ছায়াযুক্ত স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন বা কাজের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হচ্ছেন।
অনেক অভিভাবক জানান, শিশুদের মধ্যে জ্বর, ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার সমস্যা বাড়ছে। অপরদিকে বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ ও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিও বেড়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান, খাবার স্যালাইন গ্রহণ, হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান এবং বাসি ও খোলা খাবার পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
চিকিৎসকরা আরও বলেন, হিটস্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাপপ্রবাহজনিত রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।













