শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হোসেনপুরে ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হোসেনপুরে ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও আর্থিক সংকট লাঘবের লক্ষ্যে নেওয়া এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ৮৮২ জন কৃষক সহায়তা পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) উপজেলার সিদলা ও গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে পৃথকভাবে এ সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির আওতায় সিদলা ইউনিয়নের ৫৩১ জন এবং গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৩৫১ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের প্রত্যেককে ৩ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ এবং ১৫ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহের টানা ও অস্বাভাবিক ভারী বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানসহ অন্যান্য মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষকের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কিংবা জমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তাদের দুর্ভোগ কমাতে এবং দ্রুত পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে সরকার এই বিশেষ সহায়তা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আলীম, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান এবং সিদলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইকবাল হোসেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম, পুমদী ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুদাসসির হায়দার আলমগীর, গোবিন্দপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব হাসান, সিদলা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান ও তারিকুল হাসানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে উপজেলার অনেক কৃষক ফসলের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সরকার সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছে। আজ সিদলা ও গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝেও এ ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যেন সরকারি সহায়তা পান, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। কৃষকদের পুনর্বাসনে সরকারের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। সিদলা ইউনিয়নের কৃষক মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “টানা বৃষ্টিতে আমার জমির ধান ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। সরকারের দেওয়া এই ৩ হাজার টাকা ও ১৫ কেজি চাল আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা। এতে কিছুটা হলেও সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব।”

অন্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরাও সরকারের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন। তারা জানান, ফসলহানির কারণে অনেক কৃষক ঋণ ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এ অবস্থায় সরকারি সহায়তা তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে।

হোসেনপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে উপজেলার বিপুল পরিমাণ জমির ফসল আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা হালনাগাদ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারের এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি শুধু তাৎক্ষণিক দুর্ভোগ লাঘবই নয়, বরং কৃষকদের নতুন করে উৎপাদন কার্যক্রমে উৎসাহ জোগাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভৈরবে সংঘর্ষের পর ওসি প্রত্যাহার, পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
ভৈরবে সংঘর্ষের পর ওসি প্রত্যাহার, পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত

কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তাঁকে ভৈরব থানা থেকে প্রত্যাহার করে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

ওসিকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু মূসা শেখ।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে ভৈরবে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতির অবনতি হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। তবে সংঘর্ষ ও মহাসড়কে যান চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু মূসা শেখ বলেন, “ওসি আতাউর রহমান আকন্দকে ভৈরব থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এটি একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।”

তবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানা যায়নি।

এদিকে ওসির প্রত্যাহারের খবরে ভৈরবজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় প্রশাসনের জবাবদিহিতার অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, ভৈরবে সংঘর্ষ ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

করিমগঞ্জে ফলাফলের পুরস্কার গাছের চারা, উচ্ছ্বসিত আড়াইশ শিক্ষার্থী

জান্নাতুল মাওয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে ফলাফলের পুরস্কার গাছের চারা, উচ্ছ্বসিত আড়াইশ শিক্ষার্থী

পরীক্ষাভীতি দূর করা, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে উৎসাহিত করা এবং বৃক্ষরোপণের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার ‘জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’। প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনকারী আড়াইশ শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা। এমন অভিনব পুরস্কার পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রচলিত পুরস্কার ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে পরিবেশবান্ধব ও বাস্তবমুখী চিন্তাধারা থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই আয়োজন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের মলাই ফকির বাজারের আমিন সেন্টার সংলগ্ন জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তন্ময় আলমগীর, উপদেষ্টা আল আমিন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মুজিবুর রহমান মঞ্জু, সহকারী শিক্ষক আলাম নাশরাক নিলি, আব্দুল্লাহ আল সাদী লিয়ন, পান্না আক্তার, রিতা আক্তার, শাহীনা আক্তার ঝুনু, লামিয়া মীম, ইতি আক্তার, কণা আক্তারসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শতাধিক অভিভাবক এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তন্ময় আলমগীর বলেন, “বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই আমরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষের চারা বিতরণ করি। এতে তারা যেমন ভালো ফলাফলের জন্য উৎসাহিত হয়, তেমনি পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কেও সচেতন হয়ে ওঠে। জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ শুধু পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রেই নয়, শিক্ষার মান উন্নয়নেও ব্যতিক্রমী ভূমিকা রাখছে। আমরা শিক্ষার্থীদের আধুনিক, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি।”

বিদ্যালয়ের উপদেষ্টা আল আমিন বলেন, “একজন শিশুর শিখন দক্ষতা গড়ে ওঠে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সমন্বিত প্রচেষ্টায়। জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ সেই কাজটিই আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছে।”

দশম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি কার্যক্রমই অন্যদের থেকে আলাদা। পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি তারা পরিবেশ, নৈতিকতা ও জীবনমুখী বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পায়। পুরস্কার হিসেবে গাছের চারা পাওয়ায় তারা আনন্দিত এবং নিজেদের বাড়িতে চারা রোপণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

অভিভাবকরাও বিদ্যালয়ের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, গাছের চারা উপহার শিক্ষার্থীদের শুধু পরিবেশ সচেতনই করবে না, বরং বিদ্যালয়মুখী এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা মনে করেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরনের সৃজনশীল ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

পাকুন্দিয়ায় ট্রাকচাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত, আহত ৩

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় ট্রাকচাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত, আহত ৩

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় মালবাহী ট্রাকের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত তিনজন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে উপজেলার শ্রীরামদী সরকারি হিমাগার সংলগ্ন ঢাকা-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন পাকুন্দিয়া উপজেলার চণ্ডীপাশা এলাকার রুস্তম আলীর ছেলে বাদল মিয়া (৪৫) এবং হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের দাপুনিয়া গ্রামের শামসুদ্দিনের ছেলে ইছাম উদ্দিন (৫০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী একটি মালবাহী ট্রাক পাকুন্দিয়ার শ্রীরামদী সরকারি হিমাগার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার দুই যাত্রীর মৃত্যু হয় এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, অটোরিকশায় থাকা যাত্রীরা বড়শি দিয়ে মাছ ধরার জন্য পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করতে যাচ্ছিলেন। পথে শ্রীরামদী এলাকায় পৌঁছালে তারা ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস. এম. আরিফুর রহমান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “দুর্ঘটনার পর এলাকাবাসীর সহায়তায় ঘাতক ট্রাক ও ক্ষতিগ্রস্ত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

এদিকে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা মহাসড়কে যানবাহনের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।