ফুল, ভালোবাসা আর বিশেষ খাবারে রঙিন বন্দিদের ঈদ
সংগ্রহীত ছবি
‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মহাপরিদর্শক (আইজি) প্রিজন্স ও উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) প্রিজন্সের নির্দেশনায় কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে উৎসবমুখর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপন করা হয়েছে। বন্দিদের কল্যাণ, মানসিক প্রশান্তি এবং পুনর্বাসনের লক্ষ্যকে গুরুত্ব দিয়ে জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ এ উপলক্ষে বিভিন্ন মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করে, যা কারা ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।
ঈদের দিন সকালে বন্দিদের ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করে নেন কারা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পরে তাদের জন্য পরিবেশন করা হয় উন্নতমানের বিশেষ খাবার। ঈদের আপ্যায়নে ছিল পায়েস, নুডলস ও গরুর মাংসসহ নানা পদ। দীর্ঘদিনের বন্দিজীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে এই আয়োজন কারাগারের অভ্যন্তরে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দিদের শারীরিক নিরাপত্তার পাশাপাশি তাদের মানসিক সুস্থতা ও সামাজিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করাও কারা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। সেই লক্ষ্য থেকেই ঈদের আনন্দ বন্দিদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
শুধু বন্দিদের জন্যই নয়, ঈদ উপলক্ষে সাক্ষাৎ করতে আসা স্বজনদের প্রতিও আন্তরিকতা ও সৌজন্য প্রদর্শন করা হয়। কঠোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখেও কারা চত্বরে ছিল উৎসবের আবহ। বন্দিদের স্বজনদের আনা খাবার যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় অনেক স্বজন কারা প্রশাসনের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ এবং ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে অভ্যর্থনা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বন্দিদের একাধিক স্বজন জানান, বর্তমান কারা প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা, উন্নতমানের খাবার পরিবেশন এবং মানবিক আচরণ তাদের মুগ্ধ করেছে। তাদের ভাষ্য, জেলার ও জেল সুপারের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ অতীতে খুব কমই দেখা গেছে। সাক্ষাতের সময় বন্দিদের কাছ থেকেও তারা কারাগারের ভেতরের ইতিবাচক পরিবেশ ও উন্নত ব্যবস্থাপনার কথা শুনেছেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার ফারজানা আক্তার বলেন, “কারাগার শুধু শাস্তি কার্যকরের স্থান নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, আত্মোপলব্ধি ও নতুন জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি মাধ্যম। আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিটি মানুষ পরিবর্তনের সুযোগ পাওয়ার অধিকার রাখে। বন্দিদের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল আচরণের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের বীজ বপন করাই আমাদের লক্ষ্য।”
জেল সুপার মো. দিদারুল আলম বলেন, “পবিত্র ঈদুল আজহার এই আনন্দঘন দিনে ফুলেল শুভেচ্ছা ও বিশেষ আপ্যায়নের মাধ্যমে আমরা বন্দিদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছি যে, সমাজ তাদের ভুলে যায়নি। ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও মানবিক স্পর্শ একজন মানুষকে নতুনভাবে বাঁচার অনুপ্রেরণা জোগায়। আমরা চাই, তারা সংশোধিত হয়ে সমাজে ফিরে গিয়ে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নতুন জীবন শুরু করুক।”
কারা প্রশাসনের এই উদ্যোগ বন্দিদের দীর্ঘদিনের বন্দিত্বজনিত মানসিক চাপ ও গ্লানি অনেকাংশে লাঘব করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ঈদের এই বিশেষ আয়োজন বন্দিদের মনে স্বস্তি, আত্মবিশ্বাস এবং সমাজে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার প্রত্যয় জাগিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শাস্তি কার্যকরের পাশাপাশি মানবিকতা, পুনর্বাসন ও সংশোধনমূলক কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা আধুনিক ও মানবিক কারা ব্যবস্থাপনার একটি অনুকরণীয় উদাহরণ। ঈদুল আজহাকে ঘিরে আয়োজিত এ কর্মসূচি বন্দি ও তাদের স্বজনদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে এবং কারা প্রশাসনের জনবান্ধব কার্যক্রমের প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি করেছে।










