শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ ১৪৩২
শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ ১৪৩২

‘Sanvee’s by Tony’ এর উদ্যোক্তা তনির বিরুদ্ধে সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে অভিযোগ

রেজাউল হক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৬:৩১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
‘Sanvee’s by Tony’ এর উদ্যোক্তা তনির বিরুদ্ধে সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে অভিযোগ

কিশোরগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় ‘Sanvee’s by Tony’ পেজের অ্যাডমিন রুবাইয়াত ফাতেমা তনির বিরুদ্ধে তাঁর কন্যা মানতাহা ইসলাম সানভীকে জোরপূর্বক আটকে রেখে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ করেছেন তনির প্রথম স্বামী ও সানভীর বাবা সদরুল ইসলাম সোয়েব। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকালে জেলা শহরের আখড়াবাজার এলাকায় সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।

সদরুল জানান, ২০১৩ সালের ২৮ জুন তনি তাঁর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং প্রথম কোনদিনেই তাদের কন্যা সানভী জন্ম নেয়। বিচ্ছেদ ঘটে ২০১৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। বিচ্ছেদের শর্ত অনুযায়ী সানভী শিশু হওয়ায় মায়ের কেয়ারেই থাকবেন—তবে সময়োপযোগীভাবে বাবার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেয়া ছিল। কিন্তু তাঁর দাবি, তনি নিয়মিতভাবে সানভীকে ঢাকায় আটকে রেখেছেন এবং সাক্ষাৎকারে বা বাড়িতে বাবার সঙ্গে দেখা করতে দিচ্ছেন না। বর্তমানে সানভীর বয়স প্রায় ১১ বছর।

২য় স্বামী শাহাদাত রহমান এর সাথে তনি

সদরুল আরও দাবি করেন, বিচ্ছেদের পর তনি পরবর্তী সময়ে জনৈক শাহাদাত রহমানকে বিয়ে করেছিলেন; শাহাদাতের মৃত্যুর পর তিনি ইংল্যান্ড প্রবাসী সিদ্দিক নামের একজনকে বিয়ে করেন। বর্তমানে তনি ও ওই পর্যন্তসঙ্গীর সঙ্গে সানভীকে নিয়ে বিদেশে (ইংল্যান্ড) পাঠানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া বলেছে, তনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটিকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করে ভাইরাল করে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন এবং নিজ বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে।

ইংল্যান্ডে প্রবাসী স্বামীর সাথে

এ ঘটনায় সদরুল ২৪ নভেম্বর ১ নম্বর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি এজাহার দাখিল করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছেন—২২ ডিসেম্বর।

দুইদিন পূর্বে রবিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুর বারোটায় কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সামনে একজন বাবা–মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে ছড়ানো ‘মিথ্যা অপবাদ’ ও মেয়েটি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি নিয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে তনির কার্যকলাপের বিরুদ্ধে নিন্দা জানান এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান। সদরুল বলেছেন, “সানভী আমার বড় মেয়ে—আমি তাকে ফিরে চাই এবং আমার বিরুদ্ধে যেসব ভিত্তিহীন অপবাদ ছড়ানো হয়েছে, এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

রবিবারের মানববন্ধন

ঘটনায় অভিযুক্ত তনিরের মন্তব্য সংগ্রহ করা যায়নি বলে জানান সুত্র। বাবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৪ নভেম্বর দাখিলকৃত এজাহারটি সরকারি প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং নির্ধারিত শুনানিতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকবে। জেলার আইনজীবী ও সামাজিক প্রতিনিধিরা মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে দ্রুত তদন্ত ও ন্যায়বিচারের আহ্বান জানিয়েছেন।

ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে কটিয়াদীতে এনসিপির প্রচার কর্মসূচি

মিজানুর রহমান প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৯ অপরাহ্ণ
ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে কটিয়াদীতে এনসিপির প্রচার কর্মসূচি

কিশোরগঞ্জ–২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনের গণভোটকে কেন্দ্র করে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-এর উদ্যোগে ব্যাপক প্রচারণা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা বাজার এলাকায় এ প্রচারণা কর্মসূচি পালন করা হয়।

প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের কেন্দ্রীয় সংগঠক আবু সাঈদ (উজ্জ্বল)। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং গণভোটের গুরুত্ব ও দেশের উন্নয়নে ভোটাধিকার প্রয়োগের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

প্রচারণাকালে আবু সাঈদ উজ্জ্বল বলেন, “দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কোনো বিকল্প নেই। জনগণই রাষ্ট্রের মালিক—এই মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে সচেতনভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই গণভোট দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই সব ধরনের ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে সবাইকে নির্ভয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

এ সময় এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রচারণা চলাকালে লিফলেট বিতরণ এবং সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে গণভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান আরও জোরদার হয়।

বাজিতপুরে মার্কিন সিনেটর বড় ভাই দেশে এসে ভোট চাইলেন ছোট ভাইয়ের পক্ষে

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
বাজিতপুরে মার্কিন সিনেটর বড় ভাই দেশে এসে ভোট চাইলেন ছোট ভাইয়ের পক্ষে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ–৫ (বাজিতপুর–নিকলী) আসনে স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের হাঁস প্রতীকের বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটায় বাজিতপুরের ঐতিহাসিক ডাক বাংলার মাঠে আয়োজিত এ জনসভায় হাজারো মানুষের ঢল নামে, যা একপর্যায়ে মহাসমাবেশে রূপ নেয়।

জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের বড় ভাই, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এবং তিনবারের মার্কিন সিনেটর শেখ মুজাহিদ রহমান চন্দন। তিনি বলেন, “আমি যদি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হতে পারি, তাহলে আমার ভাই কেন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য হতে পারবে না? গত ৪৬ বছর ধরে আমি বিদেশে অবস্থান করছি। এই সময়ে বাংলাদেশ অনেক উন্নয়ন করলেও বাজিতপুর ও নিকলী এখনো পিছিয়ে রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হাঁস মার্কায় ভোট দিয়ে আমার ভাইকে জয়যুক্ত করুন।”

তিনি আরও বলেন, বাজিতপুর–নিকলীর মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধভাবে পাশে দাঁড়ায়, তবে এ জনপদে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাস্তবায়ন সম্ভব।

জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, “আমি আপনাদের কাছে একটি মাত্র ভোট ভিক্ষা চাই। আমাকে একটি ভোট দিন—আমি আপনাদের পাঁচ বছর নিরাপত্তা দেব। ইনশাল্লাহ, আপনারা দরজা খোলা রেখেই নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন।”

তিনি বলেন, “দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে আমি বাজিতপুর–নিকলীর মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত থাকব। দল-মত নির্বিশেষে—হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ—সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই এলাকাকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে চাই।”

দলীয় বহিষ্কার প্রসঙ্গে ইকবাল বলেন, “আমার দলের যেসব নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি বিজয়ের মাধ্যমে এই অন্যায়ের জবাব দেওয়া হবে। এই বিজয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উপহার হিসেবে দেওয়া হবে।”

জনসভায় বাজিতপুর পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মিছিল সহকারে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। এতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয় এবং ডাক বাংলার মাঠে সৃষ্টি হয় এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক জনসমাবেশ।

স্কুলশিক্ষার্থীদের দিয়ে ‘ধানের শীষ’-এর স্লোগান: ২ শিক্ষকসহ বিএনপি প্রার্থী জালাল উদ্দীনের শোকজ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
স্কুলশিক্ষার্থীদের দিয়ে ‘ধানের শীষ’-এর স্লোগান: ২ শিক্ষকসহ বিএনপি প্রার্থী জালাল উদ্দীনের শোকজ

স্কুলশিক্ষার্থীদের দিয়ে নির্বাচনী স্লোগান দেওয়ানোর অভিযোগে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জালাল উদ্দীনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) কমিটির চেয়ারম্যান ও সিভিল জজ খাদিজা আক্তারের স্বাক্ষরিত নোটিশে তাকে এ শোকজ দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) পাকুন্দিয়া উপজেলার ছোট আজলদী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের দিয়ে বিএনপি প্রার্থী জালাল উদ্দীনের পক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ানো হয়। স্লোগানগুলোর মধ্যে ছিল—‘জালাল ভাইয়ের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট, ধানের শীষের পক্ষে হোক’, ‘আমরা যদি ভোটার হতাম, ধানের শীষে ভোট দিতাম’ এবং ‘ভোট দেবো কিসে, ধানের শীষে’।

এ ঘটনায় পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রূপন দাস নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা–২০২৫-এর ১৫(খ) ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

একই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের দুই প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষককেও কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কমিটি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাদের নোটিশ দেওয়া হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, কেন এ ঘটনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে না এবং কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—সে বিষয়ে আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় বাজিতপুর চৌকি আদালতে নিকলী সিভিল জজ আদালতের কার্যালয়ে সশরীরে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান ও সিভিল জজ খাদিজা আক্তার শোকজ নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।