সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

সৌদিতে নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সৌদিতে নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরল

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাকি সাত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ২১ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি নওগাঁ জেলায় এবং বাকি দুজনের বাড়ি নাটোরে।

গত ৯ আগস্ট রিয়াদের ওই সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে মোট ১৬ বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। তাঁদের মধ্যে নয়জনের মরদেহ গত ২৭ আগস্ট দেশে পাঠানো হয়েছিল। বাকি সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এবার তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হলো।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানান, ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদ থেকে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ থাকায় মরদেহগুলো সড়কপথে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বিমানে করে মরদেহগুলো ঢাকায় আনা হয়েছে।

নিহত শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন নওগাঁ সদর উপজেলার পার নওগাঁ গ্রামের শাহিন; আত্রাই উপজেলার দুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মাসিদুল সরদার এবং সাহানগর গ্রামের সাগর আলী।

এ ছাড়া নাটোরের লালপুর উপজেলার দীঘিরপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ শামীম ও খাজুরা গ্রামের শরিফ হোসেন রয়েছেন।

প্রিয়জনকে হারানোর শোকের মধ্যে স্বজনরা এখন শেষবারের মতো তাঁদের মরদেহ দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ তাজের মোড় এলাকার শাহিনের স্ত্রী পারভীন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মানুষটাকে তো হারিয়েই ফেলেছি। যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। এখন লাশটা অন্তত দেশে থাকলে ছেলেমেয়েরা বাবার লাশটা দেখতে পাবে।’

বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণ করে নিজ নিজ গ্রামে নিয়ে দাফনের প্রস্তুতি নিয়েছেন স্বজনরা। আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান জানান, স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। মরদেহ দাফনের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তাও দেওয়া হবে।

কিশোরগঞ্জের প্রবীণ সাংবাদিক সুবীর বসাক আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের প্রবীণ সাংবাদিক সুবীর বসাক আর নেই

কিশোরগঞ্জের প্রবীণ সাংবাদিক ও দৈনিক ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধি সুবীর বসাক আর নেই। আজ সোমবার (২ নভেম্বর) তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে কিশোরগঞ্জের সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সুবীর বসাক দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক ইত্তেফাকের কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত জীবনে তিনি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী কর্মকাণ্ডের খবর তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রতিবেদনে কিশোরগঞ্জের স্থানীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি, সামাজিক আন্দোলন এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের নানা বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ছড়া উৎসব, প্রতিধ্বনি থিয়েটারের উৎসবসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন ও সামাজিক আন্দোলনের সংবাদ নিয়মিত তুলে ধরতেন তিনি। পাশাপাশি হাওরাঞ্চলের নারী উন্নয়ন এবং ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বিষয় নিয়েও তাঁর বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে সুবীর বসাক কিশোরগঞ্জের গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে জেলার সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন একজন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মীকে হারাল।

হোসেনপুরে নিয়ন্ত্রণে ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসাসেবায় প্রস্তুত হাসপাতাল

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে নিয়ন্ত্রণে ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসাসেবায় প্রস্তুত হাসপাতাল

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণার কারণে উপজেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২ নভেম্বর পর্যন্ত হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৯৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে ২৮ জন, সেপ্টেম্বরে ৩৩ জন এবং অক্টোবরে ৩৭ জন রোগী ভর্তি হন। ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৯৭ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে একজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জনসচেতনতা বাড়াতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতাল চত্বর নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং হাসপাতাল এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা শয্যা, পর্যাপ্ত স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুদ রাখা হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেশি। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তানভীর হাসান জিকো বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে অসচেতন থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ, বিশেষ করে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য বিভাগের একার দায়িত্ব নয়। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিকের সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা, ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার ও বিভিন্ন পাত্রে পানি জমতে না দেওয়া এবং দিনে-রাতে মশারি ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা ও সতর্কতার মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে হবে।

যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কিশোরগঞ্জে মাছের পোনা অবমুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কিশোরগঞ্জে মাছের পোনা অবমুক্ত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে শহরের নগুয়া এলাকার দারুল উলুম মহিলা এতিমখানার ফিশারিতে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোশতাক আহমেদ শাহীনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান।

মাছের পোনা অবমুক্তকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় যুবদলের নেতাকর্মীরা দেশ গড়ার কাজে নিজেদের আত্মনিয়োগ করেছেন। এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করায় তিনি যুবদলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী দুই মাসব্যাপী যুবদল এ ধরনের বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক খান শ্যামল মিলকী, সাবেক পৌর কাউন্সিলর আফতাব উদ্দীন মিলন, জেলা যুবদলের সহদপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সুমন, সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাসুম বিল্লাহ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ নেভীন এবং সদর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. সাইফুল ইসলামসহ যুবদল, মৎস্যজীবী দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর প্রধান অতিথি দারুল উলুম মহিলা এতিমখানাটি পরিদর্শন করেন। এ সময় এতিমখানার শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান এবং তাদের পরিবেশিত আবেগঘন গান উপভোগ করেন। শিশুদের কল্যাণে কম্পিউটার ও সেলাই মেশিন প্রদান এবং তাদের বসবাসের জন্য মানসম্মত অবকাঠামো নির্মাণের ঘোষণা দেন তিনি।

যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ উদ্যোগে স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এতিমখানার ফিশারিতে মাছের পোনা অবমুক্ত করার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।