সৌদিতে নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরল
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাকি সাত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ২১ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।
নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি নওগাঁ জেলায় এবং বাকি দুজনের বাড়ি নাটোরে।
গত ৯ আগস্ট রিয়াদের ওই সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে মোট ১৬ বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। তাঁদের মধ্যে নয়জনের মরদেহ গত ২৭ আগস্ট দেশে পাঠানো হয়েছিল। বাকি সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এবার তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হলো।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানান, ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদ থেকে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ থাকায় মরদেহগুলো সড়কপথে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বিমানে করে মরদেহগুলো ঢাকায় আনা হয়েছে।
নিহত শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন নওগাঁ সদর উপজেলার পার নওগাঁ গ্রামের শাহিন; আত্রাই উপজেলার দুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মাসিদুল সরদার এবং সাহানগর গ্রামের সাগর আলী।
এ ছাড়া নাটোরের লালপুর উপজেলার দীঘিরপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ শামীম ও খাজুরা গ্রামের শরিফ হোসেন রয়েছেন।
প্রিয়জনকে হারানোর শোকের মধ্যে স্বজনরা এখন শেষবারের মতো তাঁদের মরদেহ দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ তাজের মোড় এলাকার শাহিনের স্ত্রী পারভীন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মানুষটাকে তো হারিয়েই ফেলেছি। যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। এখন লাশটা অন্তত দেশে থাকলে ছেলেমেয়েরা বাবার লাশটা দেখতে পাবে।’
বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণ করে নিজ নিজ গ্রামে নিয়ে দাফনের প্রস্তুতি নিয়েছেন স্বজনরা। আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান জানান, স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। মরদেহ দাফনের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তাও দেওয়া হবে।













Disqus comments are not configured yet.