মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন-ইসরায়েল সমঝোতা, হিজবুল্লাহর কড়া প্রত্যাখ্যান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন-ইসরায়েল সমঝোতা, হিজবুল্লাহর কড়া প্রত্যাখ্যান

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে পাঁচ দফা আলোচনার পর লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় কাঠামোগত সমঝোতা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) স্বাক্ষরিত এই সমঝোতায় তৃতীয় পক্ষ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিয়েছে। চুক্তির লক্ষ্য হিসেবে লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা, হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা হ্রাস এবং সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সমঝোতা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর এই কাঠামোগত সমঝোতা চূড়ান্ত হয়। অপরদিকে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, “এটি কেবল শুরু—শুরুরও শুরু (the beginning of the beginning)।”

চুক্তির পর এক লিখিত বিবৃতিতে রুবিও জানান, জাতিসংঘের সমন্বয়ে যুদ্ধক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মানবিক সহায়তা দেবে। পাশাপাশি লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন ৩০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেবে।

তিনি বলেন, এই কাঠামোর আওতায় হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ, সংগঠনটির সামরিক অবকাঠামো অপসারণ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে সরে যাওয়ার একটি রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে মিলিটারি কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ ফর লেবানন (Military Coordination Group for Lebanon) নামে একটি পাইলট সমন্বয় কাঠামো গঠনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, এই সমঝোতা দেশটির সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি নতুন কোনো বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করছে না। বরং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব এবং ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়নকে এগিয়ে নেওয়ার একটি কাঠামো মাত্র।

তিনি আরও বলেন, লেবাননের ভূখণ্ডে অস্ত্র বহনের অধিকার কেবল বৈধ রাষ্ট্রীয় বাহিনীরই রয়েছে।

আলোচনায় হিজবুল্লাহ সরাসরি অংশ নেয়নি। তবে মার্কো রুবিও জানান, সংগঠনটির সঙ্গে পরোক্ষভাবে যোগাযোগ রাখা হয়েছিল।

বর্তমানে হিজবুল্লাহকে লেবাননের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, তাদের সামরিক সক্ষমতা দেশটির নিয়মিত সেনাবাহিনীর তুলনায় অনেক বেশি।

ওয়াশিংটনে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামেদা মোয়ায়েদ আলোচনাকে “দীর্ঘ ও কঠিন” উল্লেখ করে বলেন, এটি লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের পথে প্রথম ধাপ।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়াখেল লেইতার বলেন, “ইরান ও হিজবুল্লাহ বাইরে থাকলে ইসরায়েল-লেবানন শান্তির নতুন পথ উন্মুক্ত হবে।”

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অবস্থান বজায় রাখবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, লিতানি নদীর দক্ষিণ ও উত্তর অংশে দুটি পাইলট নিরাপত্তা অঞ্চল গঠন করা হবে। ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পর সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে।

তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত সক্ষমতার লেবাননের সেনাবাহিনী এত বড় দায়িত্ব কতটা কার্যকরভাবে পালন করতে পারবে এবং প্রয়োজন হলে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে কি না—তা এখনো অনিশ্চিত।

অন্যদিকে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের এই সমঝোতা প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ।

টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে সংগঠনটির মহাসচিব নাইম কাশেম বলেন, ইসরায়েলকে কোনো শর্ত ছাড়াই লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।

তিনি বলেন, “লেবাননের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো প্রতিশ্রুতি গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করার অধিকার কারও নেই।”

ইসরায়েলের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, আলোচনার অন্যতম বিরোধপূর্ণ বিষয় ছিল তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা অ্যান্টি-ট্যাংক লাইন। এপ্রিল মাসে নির্ধারিত এই কাল্পনিক রেখাটি ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার লেবাননের অভ্যন্তরে বিস্তৃত।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ২৩১ জন নিহত এবং ১২ হাজার ১৭৯ জন আহত হয়েছেন।

বাংলাদেশে প্রযুক্তি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্থাপনে ভিসাকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে প্রযুক্তি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্থাপনে ভিসাকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাপী আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভিসা। একই সঙ্গে ডিজিটাল আর্থিক সেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল পেমেন্ট ও প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভিসার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন কার্পিনের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে স্টিফেন কার্পিন বাংলাদেশে ভিসার বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আগ্রহের কথা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল আর্থিক সেবা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে কাজ করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

ভিসার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট বলেন, যেসব ব্যাংক হিসাবধারী এখনো কার্ড ব্যবহারের আওতার বাইরে রয়েছেন, তাদের কার্ড ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং দেশে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি বাড়াতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করতে চায় ভিসা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, সহজ ও দ্রুত করার ক্ষেত্রেও ভিসা কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান স্টিফেন কার্পিন।

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেন আরও সহজ করতে মেট্রোরেল, টোল প্লাজা ও এক্সপ্রেসওয়েসহ বিভিন্ন সরকারি ও জনসেবামূলক ব্যবস্থায় ভিসা কার্ড ব্যবহারের সুযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও ক্রিয়েটিভ ইকোনমির বিকাশে অবদান রাখার আগ্রহের কথাও জানান ভিসার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট। বিশেষ করে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় নিরাপদ ও সহজে দেশে আনার জন্য কার্যকর ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ভিসার একটি প্রযুক্তি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার অথবা গ্লোবাল সার্ভিস সেন্টার স্থাপনের জন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিকে আহ্বান জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবা ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণে বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানান। তিনি বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিসার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং ভিসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মা-ছেলের একসঙ্গে এসএসসি, দুজনেরই জিপিএ-৫

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
মা-ছেলের একসঙ্গে এসএসসি, দুজনেরই জিপিএ-৫

সংগ্রহীত ছবি

বিয়ের পর থেমে গিয়েছিল পড়াশোনা। সংসার, সন্তান আর নানা দায়িত্বের ব্যস্ততায় আর হয়ে ওঠেনি লেখাপড়া। তবে মনের ইচ্ছেটা ছিল অটুট। শেষ পর্যন্ত স্বামীর অনুপ্রেরণা ও নিজের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিতে বিয়ের ১৯ বছর পর আবারও পড়াশোনায় ফিরলেন মোসাম্মৎ সাদিয়া বেগম। শুধু পরীক্ষায় অংশ নেওয়াই নয়, ছেলে ও মা একই সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনেই অর্জন করেছেন জিপিএ-৫।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে রাজশাহীর এই মা-ছেলের সাফল্য এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে। ছেলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবং মা সিটি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজশাহী থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। ফল প্রকাশের পর দুজনেরই জিপিএ-৫ পাওয়ার খবরে পরিবারে নেমে আসে আনন্দের বন্যা।

সাদিয়া বেগম জানান, বিয়ের পর সংসারজীবনে প্রবেশ করায় নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এরপর সংসারের দায়িত্ব, সন্তানের দেখাশোনা এবং ছেলের পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত সময় কেটেছে। তবে নিজের পড়াশোনা শেষ করার ইচ্ছা কখনো হারিয়ে যায়নি।

তিনি বলেন, স্বামীর অনুপ্রেরণায় আবার পড়াশোনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। সংসারের কাজের পাশাপাশি ছেলের স্কুল, কোচিং ও পড়াশোনার দেখভাল করেও নিজের পড়াশোনার জন্য সময় বের করেছেন। নানা ব্যস্ততার মধ্যেও নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

সাদিয়া বেগম বলেন, “বিয়ের পর পড়ালেখাটা আর হয়ে ওঠেনি। নিজের ইচ্ছা এবং স্বামীর অনুপ্রেরণায় আবার এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। সংসারের কাজ, ছেলের পড়াশোনা, স্কুল ও কোচিং সামলানোর পাশাপাশি নিজের পড়াশোনাও চালিয়ে গেছি। মা ও ছেলে দুজনেই জিপিএ-৫ পাওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত।”

পরিবারের সদস্যরা জানান, মা ও ছেলের একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া এবং দুজনেরই জিপিএ-৫ পাওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। বিশেষ করে দীর্ঘ ১৯ বছর পর সাদিয়া বেগমের পড়াশোনায় ফিরে এসে এমন ফলাফল অর্জন অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

সাদিয়া বেগমের স্বামী পুলিশের বিশেষ ইউনিটে কর্মরত তোফাজ্জল হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, “আমার স্ত্রী ও ছেলে দুজনের এই সাফল্যে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। বিয়ের পর সংসার ও সন্তান সামলাতে গিয়ে আমার স্ত্রীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তাঁর পড়াশোনা করার ইচ্ছাটা সবসময়ই ছিল। আমি তাঁকে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করতে উৎসাহ দিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “সংসারের কাজ, ছেলের পড়াশোনা ও অন্যান্য দায়িত্ব সামলে সে যে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে, এটা সত্যিই অনেক বড় অর্জন। একই সঙ্গে ছেলে জিপিএ-৫ পাওয়ায় আমাদের আনন্দ আরও দ্বিগুণ হয়েছে। আমি মনে করি, ইচ্ছাশক্তি ও পরিবারের সহযোগিতা থাকলে বয়স বা সংসারের দায়িত্ব কোনো কিছুই শিক্ষার পথে বাধা হতে পারে না। আমার স্ত্রী ও ছেলে দুজনই আমাদের পরিবারের জন্য গর্বের।”

বিয়ের পর দীর্ঘ বিরতি, সংসার ও সন্তান পালনের দায়িত্ব—সবকিছুর পরও নিজের শিক্ষাজীবন নতুন করে শুরু করে এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন সাদিয়া বেগম। তাঁর সঙ্গে একই পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ছেলেরও জিপিএ-৫ অর্জন মা-ছেলের এই সাফল্যকে করেছে আরও বিশেষ। তাঁদের এই অর্জন প্রমাণ করেছে, দৃঢ় ইচ্ছা ও পরিবারের সহযোগিতা থাকলে জীবনের কোনো পর্যায়েই শিক্ষার পথ থেমে থাকতে হয় না।

অসুস্থ এমপির গলায় রামদা ধরে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ, আদালতে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
অসুস্থ এমপির গলায় রামদা ধরে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ, আদালতে মামলা

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে গলায় রামদা ধরে তাঁর বসতবাড়িসহ সম্পত্তি জোরপূর্বক লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংসদ সদস্যের স্ত্রী পারভিন আক্তার বাদী হয়ে তাঁর তিন সৎ ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে দিরাই আদালতে মামলা করেছেন।

সোমবার (১০ আগস্ট) অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিমের আদালতে মামলাটি করা হয়। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার প্রধান আসামিরা হলেন—নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী। অন্য আসামিরা হলেন দিরাই উপজেলার মাতারগাঁওয়ের আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁওয়ের ছয়ফুল চৌধুরী, দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, তাজুল ইসলাম এবং মোহরার মমতাজ বেগম।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নাছির উদ্দিন চৌধুরী অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষম থাকার সুযোগে তাঁর দুই স্ত্রী ও সন্তানদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার পরিকল্পনা করেন আসামিরা। এর অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দুই কর্মচারীকে কর্মকর্তা পরিচয়ে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর অসুস্থ নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে একটি দলিলে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। তিনি এতে অসম্মতি জানালে একপর্যায়ে আসামিরা তাঁর গলায় রামদা ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অপর স্ত্রী শেলী চৌধুরী বাধা দিতে গেলে তাঁকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। একই সময় সংসদ সদস্যের এক সমর্থক ওয়াকিব হাসান সেখানে উপস্থিত হয়ে ঘটনাটি দেখে ফেললে তাঁকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২২ সালের জানুয়ারিতে সংসদ সদস্যের বাড়িতে গেলে তাঁর স্ত্রী পারভিন আক্তারকে মারধর ও শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার বাদী পারভিন আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, নাছির উদ্দিন চৌধুরী স্ট্রোক করার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় থাকাকালে তাঁর গলায় রামদা ধরে বসতবাড়িটি লিখে নেওয়া হয়। সংসদ সদস্য হওয়ার অনেক আগেই তাঁর স্বামী ওই বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

পারভিন আক্তারের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পরে নাছির উদ্দিন চৌধুরী তাঁকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) দিলে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

তবে সম্পত্তি জোর করে লিখে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার প্রধান আসামি ও নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গলায় দা ধরে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মামলার বিষয়টি বিস্তারিত জেনে আমরা আইনিভাবেই এর মোকাবিলা করব।’

দিরাই আদালতের পেশকার মুহিত লাল চন্দ মিঠু মামলার আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সিআইডি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবে। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেবেন বলে জানা গেছে।

নাছির উদ্দিন চৌধুরী দিরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পরিবারের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে সৎ ভাইদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল বলে জানা গেছে। তাঁর অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে সম্পত্তি জোরপূর্বক লিখে নেওয়ার এমন অভিযোগের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে মামলায় করা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন এবং পরবর্তী আদালতের কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা নির্ধারিত হবে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41