শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জ-৫; বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে ইকবাল সমর্থকদের বিক্ষোভ

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জ-৫; বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে ইকবাল সমর্থকদের বিক্ষোভ

কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী–বাজিতপুর) সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের প্রতিবাদে বাজিতপুর উপজেলার সরারচরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের সমর্থকরা। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেল তিনটার দিকে সরারচর শিবনাথ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়।

মিছিলটি সরারচর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সরারচর রেলগেটে এসে সংক্ষিপ্ত পথসভায় রূপ নেয়।

জানা গেছে, গত ৪ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের নাম ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে গত সোমবার (২২ ডিসেম্বর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে নিজের দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। একই দিনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরে তাকে ওই আসনের নতুন মনোনয়ন দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই ইকবাল সমর্থকরা বিক্ষোভে নামেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, সরারচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মহসিন মিয়া, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মর্তুজা আলী জাহাঙ্গীর, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহরিয়ার শামীম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক নিয়াজ মামুনুল পুটন, সরারচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিটন ভুঁইয়া, নিকলী উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হৃদয় হাসান, নিকলী উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আজহারুল ইসলাম সোহেল, উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক শেখ রাফিদ রহমান এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আলী আহসান সবুজ।

পথসভায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাবেক সভাপতি। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাজিতপুর ও নিকলীর নেতাকর্মীদের পাশে বটগাছের মতো দাঁড়িয়ে আছেন। সুখ-দুঃখ, মামলা-হামলা, মসজিদ-মাদ্রাসা—সব ক্ষেত্রেই তার ভূমিকা রয়েছে। তাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে বিএনপির অঙ্গসংগঠন তা মেনে নেবে না। এতে এই আসনে দল চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “যতদিন পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে মনোনয়ন দেওয়া না হবে, ততদিন আন্দোলন চলবে।” এ সময় শনিবার বাজিতপুর বাজারে মশাল মিছিলের ঘোষণা দিয়ে নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে ছিল। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৃপ্তি মণ্ডল এবং বাজিতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম শহিদুল্লাহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

কৃষকের পাশে সরকার: কুলিয়ারচরে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তা বিতরণ

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
কৃষকের পাশে সরকার: কুলিয়ারচরে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তা বিতরণ

অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওরাঞ্চলের কৃষকদের পাশে দাড়িয়েছে সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সহায়তা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে চাল ও নগদ অর্থ তুলে দেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি।

কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে হাওরাঞ্চলের অনেক কৃষক ফসলের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষকদের সেই দুর্ভোগ লাঘবে সরকার দ্রুত মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, “বর্তমান সরকার সবসময় কৃষকের পাশে রয়েছে। হাওরাঞ্চলের কোনো কৃষক যেন দুর্ভোগে না থাকে, সে লক্ষ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হচ্ছে। সরকারের এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে উপজেলার আরও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সহায়তা বিতরণ করা হবে।

স্থানীয় কৃষকরা সরকারের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য এ ধরনের সহায়তা অনেকটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।

নদী বাঁচাতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পরিবেশবান্ধব নগর গড়ার বার্তা ভিপি সোহেলের

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
নদী বাঁচাতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পরিবেশবান্ধব নগর গড়ার বার্তা ভিপি সোহেলের

কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান (ভিপি সোহেল) নরসুন্দা নদী ও শহরের পরিবেশ রক্ষায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। বুধবার (২৭ মে) বিকেলে শহরের আখড়া বাজার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা ও মুক্তমঞ্চের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষে তিনি ফলজ বৃক্ষরোপণ করেন।

বৃক্ষরোপণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভিপি সোহেল বলেন, “দেশনায়ক তারেক রহমান বৃক্ষরোপণ অভিযানের মাধ্যমে সারাদেশে পরিবেশ রক্ষার একটি বৈপ্লবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশকে জলবায়ু ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।”

তিনি জানান, দেশব্যাপী আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে বনাঞ্চল বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

ভিপি সোহেল বলেন, নরসুন্দা নদীর কচুরিপানা অপসারণ ও নদীর পাড় পরিষ্কার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাগলা মসজিদ এলাকা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান ধাপে ধাপে আরও বিস্তৃত করা হবে। একদিনে সব কাজ সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, তরুণদের জন্য সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তারা যেন সুস্থ পরিবেশে সময় কাটাতে পারে, সে লক্ষ্যেই নদীপাড় ও উন্মুক্ত স্থানগুলোকে আরও উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নদীর পাড়ের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নদীতে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে। পৌরসভার নির্ধারিত স্থান ও ডাস্টবিন ছাড়া কোথাও বর্জ্য ফেলা যাবে না। পরিবেশ রক্ষা আমাদের সবার দায়িত্ব।”

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথাও উল্লেখ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক। তিনি বলেন, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি নদীপাড় এলাকায় পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

এ সময় তিনি জানান, জেলা পরিষদের উদ্যোগে নরসুন্দা লেকপাড়ে বিভিন্ন পয়েন্টে চার থেকে পাঁচটি পাবলিক টয়লেট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে চলাচলকারী মানুষ প্রয়োজনীয় সুবিধা পান এবং পরিবেশ দূষণ কমে।

নদী ও সরকারি জমি দখলকারীদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ভিপি সোহেল বলেন, “অচিরেই নদী ও জমি দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনোভাবেই দখলবাজদের ছাড় দেওয়া হবে না।”

এর আগে দুপুরে নিজ বাসভবন থেকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পথে আখড়া বাজার ব্রিজ এলাকায় কর্মহীন এক ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেন ভিপি সোহেল। পরে তাকে নরসুন্দা নদীর কচুরিপানা অপসারণ ও আশপাশের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, কর্মহীন মানুষকে সহায়তার পাশাপাশি জনস্বার্থে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে যুক্ত করার এ উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

কিশোরগঞ্জে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ নিয়োগ, বাড়ছে সেবার মান

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ নিয়োগ, বাড়ছে সেবার মান

স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট কাটাতে আগামী জুলাই মাস থেকে সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি জানান, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই নারী হবেন।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি হাসপাতালের খাবারের মান যাচাই করতে নিজেই খাবার গ্রহণ করেন এবং খাবারের গুণগত মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও পানি দ্রুত পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে থাকা বেড ও অপ্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আগামী সাত দিনের মধ্যে নিলামের মাধ্যমে বিক্রির নির্দেশনাও প্রদান করেন।

স্বাস্থ্যখাতের জনবল ব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে চালু থাকা আউটসোর্সিং পদ্ধতি বন্ধ করে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, আউটসোর্সিং ব্যবস্থায় একাধিক স্তরের ঠিকাদার কর্মীদের প্রাপ্য অর্থের বড় একটি অংশ আত্মসাৎ করছে, যা স্বাস্থ্যসেবার জন্য ক্ষতিকর।

বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনিয়ম প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশাসনকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবৈধ ক্লিনিক ও লাইসেন্সবিহীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে দ্রুত বন্ধেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, দেশে ইতোমধ্যে প্রায় দুই কোটি শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে এবং সরকারের কাছে পর্যাপ্ত টিকার মজুদ রয়েছে। যেসব শিশু এখনও টিকার আওতায় আসেনি, তাদেরও দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করতে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

স্বাস্থ্যখাতে নানা সীমাবদ্ধতা ও জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “বহু ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে স্বাস্থ্যসেবা সচল রেখেছি। জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।”

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এক লাখের বেশি ডেঙ্গু স্যালাইন মজুদ রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চলতি জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে। এই বরাদ্দের মাধ্যমে হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন জনবল নিয়োগ এবং সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, হাসপাতাল ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।